ফোন হ্যাক হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন? হ্যাক হলে কী করণীয় জানুন

5-signs-your-phone-hacked-how-to-prevent
৫টি লক্ষণ জানিয়ে দেবে আপনার মোবাইল হ্যাক হয়েছে কিনা

বিভিন্ন কোম্পানি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, হ্যাকারদের টার্গেটে আজ সবাই। দেশ যত ডিজিটাল হচ্ছে ততই হ্যাকাররা নিজেদের পরিসরকে বিস্তার করছে। ফলে স্মার্টফোন বা প্রোফাইল হ্যাক হওয়ার ঘটনা এখন হামেশাই খবরের হেডলাইন হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই দেখা যাচ্ছে যে, ইউজাররা তাদের ডিভাইস থেকে তথ্য চুরি যাওয়ার এই ঘটনাকে সনাক্ত করে উঠতে পারছেন না। সেহেতু বড়োসড়ো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এমনকি হ্যাকাররা তাদের এই কাজে এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছে যে, মোবাইলের ক্যামেরাকেও তারা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। যা ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করার জন্য যথেষ্ট! তাই আজ আমরা এমন কয়েকটি উপায় আপনাদের জানাবো, যেগুলির মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার ডিভাইসকে হ্যাক করা হয়েছে কিনা। তাহলে আসুন এই উপায়গুলি জেনে নেওয়া যাক।

এই ৫টি লক্ষণ জানিয়ে দেবে আপনার মোবাইল হ্যাক হয়েছে কিনা

১. অত্যাধিক পরিমানে ব্যাটারি ড্রেন হবে

স্মার্টফোনের ব্যাটারি ক্যাপাসিটি সময়ের সাথে সাথে হ্রাস পায় ঠিকই, তবে এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত সময়বহুল অর্থাৎ ধীরে ধীরে হয়। তাই আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি লাইফ যদি হঠাৎ করে অত্যাধিক পরিমানে ড্রেন হতে থাকে, তাহলে ফোন হ্যাক হতে পারে। দ্রুত ব্যাটারি ড্রেন হওয়ার এই লক্ষণটির কারণ হলো, হ্যাকার দ্বারা প্রেরিত কোনো ম্যালিসিয়াস সফ্টওয়্যার যদি ডিভাইসের ব্যাকগ্রাউন্ডে সর্বদা সক্রিয় থাকে তবেই এরূপ ঘটনা ঘটে থাকে।

২. ডিভাইস পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে

সম্প্রতি যদি আপনার মোবাইলে ওয়েব পেজ ঠিক মতো লোড না হয় অথবা হ্যান্ডসেটটি ধীর গতিতে কাজ করে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার ডিভাইসের পারফরম্যান্সে কোনো কারণে প্রভাব পড়ছে। সেক্ষেত্রে, হতেই পারে যে আপনার ডিভাইসটি হ্যাক করা হয়েছে এবং সেটির ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ম্যালিসিয়াস সফ্টওয়্যার সর্বদা চলমান অবস্থায় আছে। এই ধরণের সফ্টওয়্যার আপনার অগোচরে মোবাইলে থাকা ডেটা, ফাইল এমনকি ছবি পর্যন্ত চুরি করে নেবে, তাও আপনারই মোবাইলের সিস্টেম রিসোর্সেকে কাজে লাগিয়ে।

৩. অজ্ঞাত এবং সন্দেহজনক পপ-আপ বা অ্যাড দেখা যাবে

আপনি কি সম্প্রতি গুগল, টুইটার বা ফেসবুক ব্যবহার করার সময়ে কোনো প্রকারের অজ্ঞাত এবং সন্দেহজনক পপ-আপ বা অ্যাড দেখতে পেয়েছেন? যদি দেখতে পান তাহলে সতর্ক হয়ে যান। কারণ প্লে স্টোর সার্টিফাইড অ্যাপগুলি কখনোই আপনাকে অ্যান্টি-ভাইরাস বা কোনো টুল ইনস্টল করার জন্য পপ-আপ নোটিফিকেশন পাঠাবে না। তাই আপনার গোচরে যদি এই ধরণের ম্যালিসিয়াস পপ-আপ বা অ্যাড আসে তাহলে বুঝতে হবে আপনার মোবাইলটি অ্যাডওয়্যার দ্বারা সংক্রামিত বা সোজা কথায় হ্যাক হয়েছে।

৪. মোবাইলে অ্যাপগুলি সঠিকভাবে কাজ করবে না অথবা অপরিচিত অ্যাপ দেখা যাবে

হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামের মতো অ্যাপ যেগুলিকে আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন, সেগুলি যদি ফ্রীজ (আটকে) হয়ে যায়, অথবা বিনাকারণে কাজ করা বন্ধ করে দেয় তাহলে কিন্তু চিন্তার বিষয়। সম্ভবত আপনার ডিভাইসে এমন কোনো ক্ষতিকারক সফ্টওয়্যার ঘাপটি দিয়ে আছে, যা মোবাইলের সিস্টেম রিসোর্সকে ব্যবহার করে মেমোরিকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। আর ডিভাইস মেমোরি কমে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই অ্যাপগুলি কাজ করা বন্ধ করে দেবে।

৫. ইন্টারনেট ডেটার ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাবে

অ্যাডওয়্যার দ্বারা সংক্রামিত একটি ডিভাইস প্রতি মুহূর্তে নিজেকে আপডেট রাখার জন্য, ম্যালিসিয়াস সার্ভারের ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করতে থাকে। আবার হ্যাকারের কাছে মোবাইল ইউজারের কন্টাক্ট, ছবি এবং ফাইলের মতো ব্যক্তিগত ডেটাগুলিকে পাঠানোর কাজটিও এই ম্যালওয়্যার সফ্টওয়্যারটি করে থাকে। আর এই পুরো কর্মকান্ড সম্পন্ন করার জন্য এটি আপনারই মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত ডেটা খরচ হওয়া স্বাভাবিক। তাই আপনার ডিভাইসে যদি আকস্মিক ডেটা খরচ বেড়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে যে আড়াল থেকে অন্য কেউ আপনার মোবাইলকে চালনা করছে।

হ্যাকারের হাত থেকে ডিভাইসকে সুরক্ষিত রাখতে কী কী করা উচিত?

আপনার ব্যক্তিগত তথ্যাদি যাতে অচেনা কোনো ব্যক্তির হাতে না পরে তার জন্য কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপেলের অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো রিসোর্স থেকে কিছু ডাউনলোড করবেন না। অনলাইন অ্যাড দেখে কোনো অ্যাপ ইনস্টল করবেন না। বিশেষ করে, APK ফাইল একদমই ডাউনলোড করবেন না। কারণ এগুলির মাধ্যমেই ম্যালিসিয়াস সফ্টওয়্যার আপনার ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে। সর্বোপরি, পাবলিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময়ে অধিক সাবধানতা অবলম্বন করুন।

হ্যাক হওয়া ডিভাইসকে কীভাবে রিস্টোর করবেন ?

যাদের ফোন হ্যাক গিয়েছে তারা, Sophos, Malwarebytes, AVG অথবা Kaspersky কোম্পানির অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার অ্যাপ ইন্সটল করতে পারেন। এই অ্যাপগুলির মাধ্যমে আপনারা মোবাইল স্ক্যান করে অজ্ঞাত তথা সন্দেহজনক অ্যাপকে চিহ্নিত করতে এবং সেগুলিকে আনইনস্টল করতে পারবেন। এছাড়া, আপনারা নিজেদের ব্যক্তিগত ডেটা ও ফাইলের একটি ব্যাকআপ রাখতে পারেন। সাথে অবশ্যই ডিভাইসটির ফ্যাক্টরি সেটিংসকে রিসেট করতে ভুলবেন না। এগুলি করলে মোবাইলে থাকা ম্যালওয়্যার ডিভাইস থেকে অপসারিত হয়ে যাবে।

সুতরাং, এই কয়েকটি বিষয়ে আপনি নিজে যদি সতর্ক থাকেন, তবে আপনার ডিভাইসও হ্যাকারদের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

শুভেচ্ছা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি একদিকে যেমন ফটোগ্রাফার, তেমনি পাশাপাশি লেখিকাও। এছাড়াও তার শখের মধ্যে আছে বই পড়া, গান গাওয়া, ছবি আঁকা এবং ওয়েব ডিজাইন। শুভেচ্ছা আমাদের টেকগাপ পরিবারের একজন নতুন সদস্য।