ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হল ৭০ লক্ষ ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য

ইন্টারনেটে আমাদের ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্যাবলি যে কোনোভাবেই সুরক্ষিত নয় তা আরো একবার প্রমাণ হয়ে গেল। এবার প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের গোপন তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়লো। ২ জিবি সাইজের এই ডেটাবেস গুগল ড্রাইভ লিংকের মাধ্যমে ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, পাঁচ লক্ষ কার্ড-হোল্ডারের PAN নম্বর পর্যন্ত ডার্ক ওয়েবে পাওয়া গিয়েছে যা এই ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে অত্যন্ত আশঙ্কার বিষয়!

GajShield Infotech এর সিইও সোনিত জৈন এই ডেটা ফাঁসের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য, ” আমাদের সেন্সেটিভ ডেটাগুলি ডার্ক ওয়েবে এসে যাওয়ায় এটা স্পষ্ট যে ডেটা হ্যান্ডেলিং পলিসি’র ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থাকে আরো অনেক বেশি পরিমাণে কড়া হতে হবে। ইন্টার্নাল ইউজার হোক বা থার্ড পার্টি ভেন্ডার – সকলের ক্ষেত্রেই এই সংশোধিত ডেটা শর্তগুলি লাগু হওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, মানুষকে বোকা বানানোর জন্য স্ক্যামাররা নিত্য নতুন ফন্দি আঁটতে থাকে। কখনো ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গে KYC জুড়ে দেওয়া, আবার কখনো চটজলদি লোন ব ইজি ক্রেডিট কার্ডের নাম করে মানুষকে প্রতারিত করা হয়। এর ফলে বর্তমানে অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।”

এই পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধান কোন পথে সে ব্যাপারে বলতে গিয়ে সোনিত জৈন আরো বলেছেন, ” বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের সবসময়ই সচেতন করে থাকে যাতে তারা OTP, CVV বা কার্ড ও অ্যাকাউন্ট নম্বরের মতো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলিকে অন্যের সাথে শেয়ার না করেন। তবে মনে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার দায়িত্বটাও কিন্তু কম নয়। তাদের আরো অনেক বেশি কার্যকর ডেটা সিকিউরিটি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যার ফলে ডেটা চুরির প্রচেষ্টাকে প্রাথমিক ক্ষেত্রেই রুখে দেওয়া যায়। এজন্য কড়া ডেটা প্রাইভেসি আইন এবং উপভোক্তার ডেটা সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সংস্থার বিশেষ দায়বদ্ধতা জরুরী।”

বলা বাহুল্য, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত এবং ফাইনান্সিয়াল তথ্য চুরির প্রবণতা বর্তমানে ব্যাপক পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশনগুলি ডেটা ব্যবহারের শর্তাবলীকে বারবার লঙ্ঘন করছে। GoSMS Pro এরকম একটি অ্যাপ যারা ইউজারদের প্রাইভেসি নিয়ে মোটেই সচেতন নয়। সম্প্রতি একে গুগল প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি BigBasket এর মতো সংস্থাও কুড়ি মিলিয়ন মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যকে অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। ডেটা প্রাইভেসি লঙ্ঘনের হিসেব নিলে এই তালিকায় যে আরো অনেক নাম যুক্ত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।