Airtel এর কাছে ফের ধরাশায়ী রিলায়েন্স জিও, অনেক পিছিয়ে ভোডাফোন আইডিয়া

airtel-adds-4-37-million-subscriber-in-november-trai-report

নতুন সদস্যদের নিজেদের পরিষেবায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে এয়ারটেল (Airtel) আরো একবার দেশের সর্ববৃহৎ টেলিকম সংস্থা রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio) -কে পিছনে ফেললো। নভেম্বর, ২০২০ -তে প্রাপ্ত TRAI (Telecom Regulatory Authority of India) -এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই নিয়ে টানা চারবার তাদের কাছে রিলায়েন্স জিও’কে ধরাশায়ী হতে হয়েছে। একই অবস্থা দেশের অন্যতম টেলকো Vi বা ভোডাফোন আইডিয়া লিমিটেডের। নতুন সাবস্ক্রাইবার যুক্ত করার নিরিখে তারা যে শুধুমাত্র এয়ারটেলের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে তাই নয়, উপরন্তু তাদের পুরোনো ইউজার বেসও হারাতে হয়েছে।

ট্রাইয়ের নভেম্বর মাসের তথ্য বলছে সুনীল মিত্তালের পরিচালনাধীন Airtel প্রায় ৪.৩৭ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারকে নিজেদের প্রতি আকর্ষণ করেছে, যেখানে জিও’র পরিষেবায় যুক্ত নতুন ইউজারের সংখ্যা প্রায় ১.৯৩ মিলিয়ন। অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে ভিআই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, প্রায় ২.৮৯ মিলিয়ন সদস্য তাদের পরিষেবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

ট্রাইয়ের দাখিল করা পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে নভেম্বর মাসের হিসেব অনুযায়ী এয়ারটেলের গ্রাহক সংখ্যা বা ইউজার বেস ক্রমবৃদ্ধির ফলে প্রায় ৩৩৪.৬৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে শতকরা ৯৬.৬৩ শতাংশ গ্রাহক সক্রিয়। অন্যদিকে ভারতের সর্ববৃহৎ টেলকো রিলায়েন্স জিও’র মোট গ্রাহক সংখ্যা যথাক্রমে ৪০৮.২৯ মিলিয়ন যার মধ্যে ৭৯.৫৫ শতাংশ সক্রিয় গ্রাহক রয়েছেন। আবার ভোডাফোন আইডিয়া লিমিটেডের মোট গ্রাহক সংখ্যা ২৮৯.৯৪ মিলিয়ন হলেও এদের মধ্যে ৮৯.০১ শতাংশ গ্রাহক সক্রিয়।

মার্কেট শেয়ার বা বাজার দখলের ক্ষেত্রেও এয়ারটেল অন্য টেলিকম জায়ান্টদের টেক্কা দিয়েছে। পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত ২৮.৯৭ শতাংশ (আগে ২৮.৬৮%) বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে। একইভাবে দখলীকৃত বাজারের পরিমাণ আগের (৩৫.২৮%) থেকে বাড়ায় তার প্রায় ৩৫.৩৪ শতাংশ রয়েছে রিলায়েন্স জিও’র আওতায়। একমাত্র ভিআইয়ের মার্কেট শেয়ার পূর্বের (২৫.৪২) তুলনায় অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বাজারের ২৫.১০ শতাংশ তাদের দখলে রয়েছে।

উপরের পরিসংখ্যান থেকে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে নতুন গ্রাহককে নিজেদের পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এয়ারটেলের ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় যথেষ্ট ভালো। গ্লোবাল রেটিং ফার্ম ফিচের(Fitch) সিনিয়র ডিরেক্টর নীতিন সোনি নিজেও এই কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে উন্নতমানের পরিষেবা প্রদানের ফলে এয়ারটেলের মোবাইল ব্রডব্যান্ড গ্রাহকের সংখ্যাও সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরপক্ষে রিলায়েন্স জিও’র বিরুদ্ধে অনেকক্ষেত্রে খারাপ ৪জি পরিষেবা প্রদানের অভিযোগ শোনা গিয়েছে। তাছাড়া দেশজুড়ে বিরুদ্ধ প্রচারের কারণেও তাদের গ্রাহক ভিত্তি অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষত এক্ষেত্রে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় চলমান কৃষক আন্দোলনের কথা আমরা উল্লেখ করতে পারি। আপাতত জিও গুগলের হাত ধরে বাজারে সস্তা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন আনার বিষয়ে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে জিও’র বাজেট স্মার্টফোন বাজারে এলে তা জিও-ফোনের(Jiophone) গ্রাহক ভিত্তিকে মজবুত করতে একটা বড় ভূমিকা নেবে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন