অ্যাপলের চ্যালেঞ্জ, বিনামূল্যে নিয়ে যান আইফোন আর হ্যাক করে দেখান

apple-offering-free-iphone-to-researcher-to-hack

বেশ অনেক বছর ধরে, বিশ্ব মার্কেটে Apple নিজেদের সব থেকে সুরক্ষিত স্মার্টফোন কোম্পানি বলে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে। অ্যাপলের দাবি, সফটওয়্যার লক করার মাধ্যমে অ্যাপল তাদের ২ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিতভাবে রাখে। এবার Apple, তাদের এই সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রমাণ করার জন্য একটি নতুন পন্থা অবলম্বন করতে চলেছে। অ্যাপলের তরফ থেকে বিশ্বের বড় বড় স্মার্টফোন রিসার্চার এবং সিকিউরিটি অফিসারদের ডেকে আনা হচ্ছে এবং তাদের প্রদান করা হচ্ছে একটি করে আইফোন। এই iPhone তাদেরকে হ্যাক করে দেখাতে হবে।

গতবছর, ব্ল্যাক হ্যাট সিকিউরিটি কনফারেন্সে অ্যাপলের হেড অফ সিকিউরিটি, ইভান কৃষ্টিক সিকিউরিটি সার্ভিসের একটি দলকে জানান, যে তারা ওই রিসার্চারদের একটি বিশেষ আইফোন প্রদান করবে। তাদের সেই আইফোন এর মধ্যে থাকা সমস্ত ধরনের দুর্বলতা খুঁজে বের করে Apple কে জানাতে হবে। এই দুর্বলতাগুলিকে অ্যাপল তাদের আইওএস সিকিউরিটি রিসার্চ ডিভাইস প্রোগ্রামের সময় শুধরে নিয়ে, তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য আরও ভাল এবং সুরক্ষিত iPhone নিয়ে আসবে। গতকাল অর্থাৎ শনিবার থেকে অ্যাপল এই বিশেষ ধরনের আইফোন ওই রিসার্চারদের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করেছে।

তবে এই বিশেষ আইফোন কোন সাধারন আইফোন এর মত হবে না। এই ধরনের আইফোনে একটি বিশেষ ধরনের কাস্টম বিল্ড আইওএস সফটওয়্যার থাকবে। এই সফটওয়্যারে SSH অ্যাকসেস এবং একটি রুট সেল থাকবে, যার মাধ্যমে রিসার্চাররা সফটওয়্যার এর সর্বাধিক ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া তারা ডিবাগিং টুল পাবেন এই আইফোনের সঙ্গে, যার মাধ্যমে রিসার্চাররা নিজেদের কোড বসিয়ে আইফোন এর ব্যাপারে সমস্ত তথ্য আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন।

এছাড়াও রিসার্চাররা একটি অতিরিক্ত ডকুমেন্টেশনের অ্যাকসেস পেয়ে যাবেন, এবং অ্যাপলের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে তারা সরাসরি কথা বলতে পারবেন এবং তাদের ফিডব্যাক পেতে পারবেন। যদি কোন হ্যাকার কে iPhone হ্যাক করতে হয় তাহলে, তাকে প্রথমে সেই আইফোনকে ‘জেইলব্রেকিং’ করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে রিলিজ হওয়া আইফোনে ‘জেইলব্রেকিং’ উপলব্ধ থাকেনা। ফলে হ্যাকারদের পক্ষে আইফোন হ্যাক করা আরো শক্ত হয়ে যায়। অ্যাপল এই কারণে তাদের সব থেকে ভাল হ্যাকারদের কাছে আপ টু ডেট এবং প্রি – জেইলব্রোকেন আইফোন প্রদান করছে। এর ফলে সিকিউরিটি রিসার্চাররা সহজে জানতে পারবেন যে, সেই আইফোনে কি কি সমস্যা রয়েছে। এইরকম উদ্যোগ অ্যাপেলের তরফ থেকে এর আগে কখনো নেওয়া হয়নি। এর আগেও, অ্যাপল এর তরফ থেকে একটি বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম এবং একটি জিরো ডে ভালনারেবিলিটি প্রোগ্রাম নেওয়া হয়েছিল।

ওই দুটি প্রোগ্রামেও, অ্যাপেল বিভিন্ন দেশের সিকিউরিটি রিসার্চারদের অনুরোধ করেছিল যাতে তারা অ্যাপল আইফোনে থাকা বিভিন্ন বাগ এবং দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসে। পরিবর্তে ওই রিসার্চারদের অ্যাপেলের তরফ থেকে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুরস্কার দেওয়া হয়। ওই দু’টি প্রোগ্রামের সাফল্যের পর, এই নতুন প্রোগ্রাম নিয়ে আসার মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে, সিকিউরিটির দিক থেকে অ্যাপল তাদের আইফোনকে সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।