চীন ছেড়ে ভারতে আসতে চায় অ্যাপল, ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা

ইলেকট্রনিক্স এবং কমিউনিকেশনের জনপ্রিয় কোম্পানি Apple incorporation তাদের উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় পঞ্চমাংশ চীন থেকে স্থানান্তরিত করে ভারতে নিয়ে আসতে চলেছে। খবর অনুসারে, কোম্পানি দেশের স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য ভারত সরকারের নতুন পিএলআই যোজনার লাভ উঠানোর প্রচেষ্টায় রয়েছে। এই যোজনায় দেশিও ইলেকট্রনিক্স উত্পাদনকারী সংস্থাগুলি ৪-৬ শতাংশ ইনসেনটিভ পাবে যদি তারা বছর বছর সেল বাড়াতে পারে। 

বর্তমানে Apple নিজের স্মার্ট ফোন এবং অন্যান্য জিনিসপত্র উৎপাদনের জন্য ফক্সকন এবং বিস্ট্রোণের নির্মাতাদের সাহায্য নিয়ে থাকে। রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, বর্তমানে কোম্পানি এই ঠিকাদারদের মাধ্যমে ভারতে ৪০ বিলিয়ন ডলার অবধির স্মার্টফোন তৈরি করতে পারে।

আসলে অ্যাপলের কাছে ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারের একটি খুবই ছোট অংশ রয়েছে। এই কারণে মনে করা হচ্ছে, ভারতে অ্যাপল সরাসরি স্মার্টফোন তৈরি করবে না, বরং তারা রপ্তানির জন্যই ভারতে কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করছে। অ্যাপেলের বিভিন্ন প্রোডাক্ট যেমন আইফোন ৭, আইফোন এক্স আর ভারতে তৈরি হয়। এই বিনিয়োগের ফলে আরো বেশি পরিমাণে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ভারতে তৈরি হওয়া শুরু হবে।

সম্প্রতি, অ্যাপল ভারতের স্মার্টফোন বাজারে কিছুটা উন্নতির মুখ দেখতে শুরু করেছে, যদিও অ্যাপলের তরফ থেকে এখনো পরিষ্কারভাবে কিছু জানানো হয়নি। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশনের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত কোয়ার্টারে অ্যাপল ভারতের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন মার্কেটের ৬২.৭% শেয়ার দখল করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি লোকাল সোর্সিং থেকেও গত বছর অ্যাপলের বেশ কিছুটা লাভ হয়েছে। এর জন্য অ্যাপল ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে যে তারা শীঘ্রই ভারতে তাদের প্রথম রিটেইল স্টোর অর্থাৎ Apple Retail Stores চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সম্প্রতি লঞ্চ হওয়া অ্যাপল আইফোন এসই এবং হোমপড স্মার্ট স্পিকারের সাথেই অ্যাপল ভারতে নিজের পোর্টফলিও আরো বড় করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

তবে ভারতে সরাসরি ফ্যাক্টরি খোলা অ্যাপলের জন্য সহজ হবেনা। কারণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জানিয়েছেন, অ্যাপল যদি তাদের ব্যবসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে না আসে তাহলে তাদেরকে ট্যাক্স পেনালটি দিতে হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন যাতে অ্যাপলের মতো কোম্পানিগুলির অন্য দেশে না গিয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসে। সেক্ষেত্রে এখন দেখার Apple শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেয়।