Apple Watch এর দৌলতে ফের বেঁচে গেল ২৫ বছর বয়সী এক রুগীর জীবন

আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রযুক্তির বরদান আমরা অনুভব করি প্রতি পদেই। বারবার খবরে উঠে আসে সেইসব ঘটনার কথা যেখানে প্রযুক্তিই যেন জীবনের পরম বন্ধু। এবার এমনই আরেকটি উদাহরণ সামনে এল। সম্প্রতি অ্যাপেলের স্মার্টওয়াচের সাহায্যে বেঁচে গেল ২৫ বছর বয়সী এক রুগীর জীবন। জাচারি জিয়েস নামের এই যুবক ওহায়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির স্নাতক। সে Friedreich’s Ataxia নামক একটি জিনগত অসুখে ভুগছিল। এই রোগ দেহের মেরুদন্ড, মস্তিষ্ক ও হার্ট-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে প্রভাবিত করে। সুতরাং স্পষ্টতই এই রোগের ফলে মানুষের সাধারণ চলাফেরাও ব্যাহত হতে পারে। জিয়েসের কাছে Apple Watch ছিল বলেই বিপদের হাত থেকে বাঁচতে পেরেছে সে।

Apple Watch-এ একটি হার্ট রেট মনিটর থাকে যাতে হৃৎস্পন্দন পরিমাপ করা যায়। জিয়েস এই হার্ট রেট মনিটরে খুব বেশি পরিমাণ হৃৎস্পন্দন লক্ষ্য করেন। এমনিতে একজন সুপ্রশিক্ষিত অ্যাথলেটের ক্ষেত্রেও হার্ট রেট প্রতি মিনিটে ৪০-এর বেশি যায় না। কিন্তু জিয়েসের হার্ট রেট আচমকা ২১০-এ পৌঁছে গিয়েছিল। Apple Watch-এ এই অস্বাভাবিক হার্ট রেট দেখে বিপদ আঁচ করে সে।

অস্বাভাবিক হার্ট রেট দেখে জিয়েস ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ডাক্তার তাকে আর্টেরিয়াল অ্যাব্লেশন নামে একটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে নিয়ে যায়। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়াতে সেই কোষগুলি ধ্বংস করা হয়, যেগুলি অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন তৈরি করে। জিয়েসের ক্ষেত্রে এটি ঘটেছিল আর্টেরিয়াল ফ্লাটারের কারণে। যাই হোক, অ্যাপল ওয়াচের কারণে জিয়েস এখন অনেকটাই সুস্থ।

গত বছর নরওয়ের ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের জীবনও বাঁচিয়ে দিয়েছিল অ্যাপেলের স্মার্টওয়াচ। ওই বৃদ্ধ বাড়িতে একা থাকার সময় অজ্ঞান হয়ে যান আচমকা। কিন্তু যেহেতু তিনি তখন Apple Watch Series 4 ব্যবহার করছিলেন, সেজন্য জরুরি বার্তা চলে যায় তাঁর স্বজনের কাছে। এছাড়া স্মার্টওয়াচ সমুদ্রযাত্রায় বিপদে পড়া ব্যক্তির প্রাণ বাঁচিয়েছে এমন উদাহরণও রয়েছে। সুতরাং আধুনিক জীবনযাপনকে সুরক্ষিত করতে স্মার্টওয়াচের জুড়ি মেলা ভার।