গাড়ি

তেলের বদলে ট্র্যাক্টর চলছে গোরুর গোবরে, নতুন প্রযুক্তির সৌজন্যে কমতে পারে বিশ্ব উষ্ণায়ন

জ্বালানি তেলে ট্র্যাক্টর চলবে সেটাই স্বভাবিক। কিন্তু কখনও গরুর গোবরে চলার কথা শুনেছেন? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বিশালাকার একটা ট্র্যাক্টরের ক্ষেত্রে এমনটাই করে দেখালো বেনামান (Bennaman) নামক একটি ব্রিটিশ সংস্থা। তাদের দাবি খামারের গবাদি পশুর বর্জ্য ব্যবহার করে চলবে আস্ত একটা ট্র্যাক্টর। বিশ্ব উষ্ণায়ন যেখানে একটি বড় মাথা ব্যথার কারণ, ঠিক সেই মুহূর্তে এহেন পরিবেশবান্ধব যানের ব্যবহার দূষণ রোধের ক্ষেত্রে যে নতুন দিশা দেখাবে, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

কৃষিকাজ থেকে কার্বনের নির্গমন কমাতেই ব্রিটিশ সংস্থাটির এই পদক্ষেপ। তাদের দাবি, ২৭০ হর্সপাওয়ারের হল্যান্ড টি৭ (Holland T7) নামক ট্র্যাক্টরটি গোবর থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসে এগিয়ে চলার শক্তি সঞ্চয় করবে। বিস্তারিত ভাবে বললে, ট্র্যাক্টরের পিছনে ক্রায়োজেনিক ট্যাঙ্কে হিমাঙ্কের ১৬২ ডিগ্রি নীচে তরল মিথেন তৈরি করে সেটির দহন ঘটিয়ে শক্তি সঞ্চার করা হবে। ডিজেলের মতোই ওই ক্রায়োজেনিক ট্যাঙ্কে মিথেন ভরা যাবে। গত বছর একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে বেনামান দেখেছে তাদের টি৭ প্রোটোটাইপ ট্র্যাক্টরটি বছরে ১,২৫০ মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নির্গমন রুখবে।

বেনামানের সহ প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস মান-এর দাবি, ক্ষতিকারক মিথেনের নির্গমন না ঘটিয়ে, সেটিকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্র্যাক্টরটিতে। তরল মিথেনে চালিত টি৭ ট্র্যাক্টরটি কৃষি ও পশুপালন ক্ষেত্রে কার্বনের নির্গমন প্রতিরোধের নিদর্শন সমগ্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। এমনকি এই জাতীয় জ্বালানির মাধ্যমে চালিত ট্র্যাক্টর বিশ্বে এই প্রথম বলেও দাবি তাঁর।

ইউনাইটেড নেশন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম-এর সমীক্ষায় উঠে এসেছে ২০ বছর সময় ধরে পরিবেশের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে মিথেন ৮৪ গুণ বেশি ক্ষতিকারক। একসময় ব্রিটিশ সরকার কৃষি ও পশুপালন ক্ষেত্রে কার্বনে নিঃসরণে লাগাম টানার ফলে ডিজেল চালিত ট্র্যাক্টরের ব্যবহারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। এবারে গোবর চালিত ট্র্যাক্টর সে বিষয়ে নয়া দিশা দেখাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Back to top button