দরকার হলে বন্ধ করে দেব, কিন্তু টিকটককে আমেরিকার হতে দেব না, জানালো চীন

chin-ready-to-shut-down-tiktok-than-give-it-to-the-united-states

মাস তিনেক আগে ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছিল জনপ্রিয় ভিডিও মেকিং অ্যাপ TikTok। এই ধাক্কা সামলানোর আগেই মার্কিন সরকারের শ্যেনদৃষ্টিতে পড়ে টিকটক। জল্পনা শুরু হয় জাতীয় সুরক্ষার কারণে যুক্তরাষ্ট্রও বিদায় জানাতে পারে টিকটককে। এমনকি আগস্ট মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকটককে নিষিদ্ধ করার আদেশে স্বাক্ষর করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি টিকটক আমেরিকার কোনো কোম্পানিকে তাদের ব্যবসা বিক্রি না করে তবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরে, আমেরিকায় TikTok কে বাঁচাতে মাইক্রোসফ্টের সাথে আলোচনায় বসে ByteDance। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে টিকটকের সাথে বিভিন্ন কোম্পানির চুক্তির কথা সামনে আসে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো কোম্পানিই টিকটককে কিনতে রাজি হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল বেইজিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে, দরকার হলে তারা আমেরিকায় টিকটককে বন্ধ করে দেবে। কিন্তু কোনোভাবেই আমেরিকার কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে না। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে এই বিষয়টি জানিয়েছে। যদিও টিকটকের তরফে রয়টার্সকে বলা হয়েছে – তারা বেইজিংয়ের ভাবনা-চিন্তা বা চাপ লক্ষ্য করেনি।

তবে শুধু টিকটক নয়, মার্কিন সরকারের খাঁড়া নেমে এসেছে WeChat নামের আরো একটি চীনা অ্যাপ্লিকেশনের ওপর। এই বিষয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝা লিজিয়ান বলেছেন, ট্রাম্প সরকার বিদেশি সংস্থাগুলিকে নিপীড়ন করার জন্য জাতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছেন।
যাইহোক এখন, চীন সরকার প্রযুক্তিগত রফতানির বিষয়ে কিছু নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করবে কিনা তা বিবেচনা করছে। ফলে আগামী দিনে, মার্কিন সরকার বা যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলির সাথে আর কোনো সমঝোতা না করে সেখানে ব্যবসা বন্ধ করতে পারে টিকটক।

ইতিমধ্যেই, মার্কিন সরকারের বিধি নিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টিকটকের মার্কেট শেয়ার বেশ কমছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে, টিকটকের প্রায় ৭৬% মার্কেট শেয়ার ছিল। কিন্তু গত আগস্টে টিকটকের মার্কেট শেয়ার প্রায় ২০% কমে গেছে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে টিকটকের প্রধান প্রতিযোগী অ্যাপদুটি হল Triller এবং Likee। এই অ্যাপগুলির নির্মাতা সংস্থা গত কয়েক মাসে ৪৪% শেয়ার বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আবার এই অ্যাপদুটির ওপর মার্কিন সরকারের সুনজর রয়েছে এমনটাও শোনা যাচ্ছে।