চীনা হ্যাকারদের বিপদজনক ‘খেলায়’ উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব, ঘুম উড়েছে সিকিউরিটি এক্সপার্টদের

china-hackers

সাইবার হ্যাকিং নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। এরই মধ্যে আরো একবার সাইবার হ্যাকিং এর সম্প্রতি এক ঘটনা কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়ালো সিকিউরিটি এক্সপার্টদের। সেন্ট্রাল এশিয়ার বেশ কয়েকটি কোম্পানির সাথে সাথে সরকারি বিভিন্ন কোম্পানির ডাটা অ্যাক্সেস করা হয়েছিল এই সাইবার হ্যাকিংয়ের ঘটনায়। ডিজিটাল সিকিউরিটি কোম্পানি অ্যাভাস্ট এবং ইসেট সম্প্রতি এই সাইবার অ্যাটাক এর ব্যাপারে আমাদেরকে জানিয়েছে। এই দুটি কোম্পানির রিসার্চে জানা গিয়েছে, মধ্য এশিয়ার অনেকগুলি সরকারি এবং বেসরকারি কোম্পানির ডেটার উপর অ্যাডভান্স পারসিসটেন্স থ্রেট বা এপিটি অ্যাটাক করা হয়েছে।

• এই কোম্পানির উপর করা হয়েছে অ্যাটাক-

জানানো হয়েছে যে সাইবার ক্রিমিনালরা বহু সময় ধরে বিভিন্ন জরুরী তথ্য অ্যাক্সেস করার রাস্তার সন্ধান করছিল। এই অ্যাটাকে বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি গ্যাস কোম্পানি এবং সরকারি সংস্থাগুলিকে নিশানা করা হয়েছে। বিজনেস ইনসাইডারের রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি সাধারণ সাইবার অ্যাটাক থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। তারা জানিয়েছে এপিটি অ্যাটাক গ্রুপ সাধারণভাবে স্টেট ফান্ডিং-র উপর কাজ করে এবং এর পিছনে রাজনীতির যোগসাজশ থাকে।

• চীনের হাত থাকতে পারে-

রিসার্চাররা নিজেদের তদন্তের উপর নির্ভর করে জানিয়েছেন যে, এই সাইবার অ্যাটাকের পিছনে চীনা কোন গ্রুপের হাত থাকতে পারে। রিসার্চারদের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে হ্যাকাররা রিমোট অ্যাক্সেস’ টুলের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় সাইবার অ্যাটাক করে। এটা প্রথমবার নয় যখন কোন সাইবার অ্যাটাক এর পিছনে চীনা গ্রুপের মদদ থাকার সম্ভাবনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও বহুবার চীনের বিরুদ্ধে এরকম মামলা করা হয়েছে। রিসার্চাররা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে রাশিয়ার মিলিটারি এবং বেলারুশের সরকারের সাথে হওয়া সাইবার অ্যাটাকে এই গ্রুপের হাত থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

• হ্যাকিংয়ের ব্যাপারে কাউকে জানতে দিতে চায়না হ্যাকার-

সাধারণত দেখা যায় বেশ কিছু হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে রিসার্চাররা আগে থেকেই জানতে পেরে যান। তবে এক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু আলাদা। এপিটি অ্যাটাক সাধারণ সাইবার অ্যাটাক থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা। ফলে এর ব্যাপারে সহজে জানতে পারা যায় না। এই অ্যাটাকের মাধ্যমে হ্যাকাররা সিস্টেমের ডেটা ডাউনলোড করে ব্যবহারকারীদের উপর ষড়যন্ত্র করে না। বরং এক্ষেত্রে সিস্টেমের ভিতর প্রবেশ করে বহুদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অ্যাক্সেস করা হয়। পাশাপাশি হ্যাকাররা বিভিন্ন স্ক্রিনশটও নিয়ে থাকেন। এই ধরনের এটাকে সিস্টেম প্রসেসিং এবং সার্ভিস অনেকটা স্লো হয়ে যায়। এছাড়াও কনসোল কমান্ড রান করানো হয়। তবে এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি, কোন ধরনের ফাইল হ্যাকাররা এই ধরনের হ্যাকিংয়ে অ্যাকসেস করে থাকেন।

• ধারণা করা অত্যন্ত মুশকিল-

করোনা ভাইরাসের কারণে যখন ব্যবহারকারীরা বাড়ি থেকে কাজ করা শুরু করেছে তখন থেকে বিভিন্ন জালিয়াতির পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। হ্যাকাররা বিভিন্ন সাইবার অ্যাটাকের মাধ্যমে বড় বড় কোম্পানির এবং ব্যবহারকারীদের সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অ্যাক্সেস করতে শুরু করেছে। এই অ্যাটাকের ব্যাপারে কেউ যেন জানতে না পারে সেই জন্য হ্যাকাররা বিশেষ ধরনের কোডিং ব্যবহার করে। রিসার্চারদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এপিটি অ্যাটাকের ব্যাপারে কোম্পানীগুলির পক্ষে জানা অত্যন্ত মুশকিল। কারণ এই ধরনের অ্যাটাকে একসাথে অনেকগুলি মালওয়্যারের মাধ্যমে অ্যাটাক করা হয়।