১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাই পাবে ভ্যাকসিন, ঘরে বসে টিকার জন্য কিভাবে নথিভুক্ত করবেন নাম

Covid-19-vaccination-above-18-how-to-register-your-name-on-aarogya-setu-co-win-app

ভারতে মারণসংক্রামক COVID-19 বা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রোজ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ১লা মার্চের থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হলেও, কেবলমাত্র প্রথম সারিতে থাকা করোনা যোদ্ধা, স্বাস্থ্যকর্মী ও ৬০ (পরে ৪৫) বয়সী নাগরিকদের টিকাকরণের কার্যক্রমের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে দেখা যায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু কমবয়সী নাগরিক। এমত অবস্থায় প্রত্যেক দেশবাসীর কাছে এই ভ্যাকসিনটি দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার একটি বৈঠক করেন। যেখানে ঘোষণা করা হয়, চলতি বছরের ১লা মে থেকে শুরু হওয়া টিকাকরণের তৃতীয় পর্যায়ে ১৮ বছর উত্তীর্ণ হয়েছেন এমন সব দেশবাসীকে কেন্দ্রীয় সরকার করোনার ভ্যাকসিন দেবে।

তৎকালীন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, যেখানে লাগামহীনভাবে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ভ্যাকসিনের আকাল দেখা দিচ্ছে, সেখানে কী ভাবে সকলে এই ভ্যাকসিন সময় মতো পাবে সেই প্রশ্ন উঠছে বারংবার। সেক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, এই সমস্যার সমাধান হিসাবে কেন্দ্র, ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই অর্থ প্রদান করেছে এবং একই সাথে দেশ বিদেশে থাকা একাধিক সংস্থাকেও এই উৎপাদনে অংশ নিতে উৎসাহিত করছে। তদুপরি জানা গেছে, প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে মোট উৎপাদিত ভ্যাকসিনের ৫০% কেন্দ্রকে পাঠাতে হবে। আর বাকি ৫০% ভ্যাকসিন খোলা বাজারে বিক্রি করাতে বা সরাসরি রাজ্য সরকারকে সরবরাহ করতে পারবে তারা।

এই উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, ভারতের বেশিরভাগ মানুষকে যাতে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়, তার জন্য গত এক বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো কেন্দ্র এবং এই ব্যাপারে রেকর্ড গতিতে সাফল্যও অর্জন করেছে সরকার। এক্ষেত্রে ওনার বিশ্বাস, ‘‘আগামী দিনেও এ ব্যাপারে আরও দ্রুত গতিতে কাজ করব আমরা।’’

যেহেতু ঘোষণাটি সবেমাত্র করা হয়েছে, তাই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কি ভাবে কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে, আশা করা যায় নীচে দেওয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে ১লা মে থেকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য আবেদন করতে পারা যাবে।

Co-WIN অ্যাপের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন :

১. গুগল প্লে স্টোর থেকে আপনার স্মার্টফোনে Co-WIN অ্যাপটি ইনস্টল করুন।

২. এবার অ্যাপটি খুলে তাতে আপনার মোবাইল নম্বর এন্টার করুন।

৩. এবার একটি ওটিপি পাঠানো হবে, যা এন্টার করা মাত্রই আপনি সাইন-ইন করতে পারবেন অ্যাপে।

৪. এবার স্ক্রিনে একটি ফর্ম আসবে। সেখানে আপনার নাম, বয়স, লিঙ্গ, পরিচয়পত্রের মতো কয়েকটি ব্যক্তিগত তথ্য লিখুন।

৫. প্রয়োজনীয় নথিগুলি আপলোড করুন।

৬. তারপর স্ক্রিনে দেখানো রেজিস্টার বোতামে ক্লিক করুন।

৭. শেষে, একটি নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং তারিখ নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বোতামে ক্লিক করলেই আপনার নাম ভ্যাকসিনের জন্য লিপিবদ্ধ হয়ে যাবে।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন :

১. আপনার ডিভাইসের সার্চ ইঞ্জিন থেকে www.cowin.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Find Your Nearest Vaccination Center’ পেজে থাকা ‘Register Yourself’ বোতামে ক্লিক করুন।

২. এবার আপনার মোবাইল নম্বর লিখুন, যাতে আপনার কাছে আসা ওটিপি দিয়ে আপনি সাইন-ইন করতে পারেন।

৩. এবার ওয়েবসাইটে দেওয়া ধাপগুলি অনুসরণ করে ভ্যাকসিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সেরে ফেলুন।

আরোগ্য সেতু অ্যাপের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন :

১. আপনার অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস ডিভাইসে আরোগ্য সেতু অ্যাপ্লিকেশনটি ইনস্টল করুন।

২. স্ক্রিনে দেওয়া নির্দেশাবলী অনুসারে নিজেকে রেজিস্টার করুন অ্যাপে।

৩. এবার ভ্যাকসিনেশন ট্যাবে গিয়ে মোবাইল নম্বর লিখলে আপনি একটি ওটিপি পাবেন।

৪. এবার আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলি দিয়ে ভ্যাকসিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করুন।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন