Cryptocurrency: মুদ্রা নয়, ভারতে সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে ক্রিপ্টোকারেন্সি

সোনা, রূপা ও অন্যান্য শেয়ারের মতোই মূল্যবান অ্যাসেট হিসেবে গণ্য হতে চলেছে ডিজিটাল মুদ্রা

crypto-may-allowed-as-asset-not-currency-in-india-legislation-being-finalised

দেশে ক্রিপ্টো নিষিদ্ধকরণের পথে এখনই হাঁটতে নারাজ কেন্দ্র। কেনাবেচার ক্ষেত্রে বৈধ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি না জুটলেও সোনা, রূপা ও অন্যান্য শেয়ারের মতোই মূল্যবান অ্যাসেট হিসেবে গণ্য হতে চলেছে ডিজিটাল মুদ্রা। তবে, বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে কোম্পানিগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণে জারি হতে পারে নিষেধাজ্ঞা। সরকারের তরফে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করা হল।

তুমূল জনপ্রিয়তা ও বিনিয়োগকারীদের বড়সড় অঙ্কের লগ্নি কে উপেক্ষা করে ক্রিপ্টো কে একেবারে নিষিদ্ধ করে দেওয়া সম্ভবপর না হলেও, দেশে ডিজিটাল মুদ্রার বাড়বাড়ন্ত রোধ করা নিয়ে বেশ অনেকদিন ধরেই তৎপর সরকার। সম্প্রতি, ক্রিপ্টো বিষয়ক একটি বিল পার্লামেন্টে পেশ করা নিয়েও খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এবার সরকারের তরফে সেই বিলের খসড়াই চূড়ান্ত করা হল। বিলটি সম্ভবত আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বিবেচনার জন্য পেশ করা হতে চলেছে, এমনটাই বিশ্বস্ত সূত্র মারফত খবর।

সরকারী সূত্র থেকে আরও জানা যায়, SEBI-সম্ভবত নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকায় থাকবে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো স্থির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি কেন্দ্রের তরফে। এছাড়া, ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণ বিল সংক্রান্ত আরও নানা ব্যাপারে সরকারি মহলে কাজ চলছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর কর আরোপের বিষয়টি নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে সরকার। আলোচিত বিলটির খসড়ায় এ সম্বন্ধে বিস্তারিত উল্লেখ পাওয়া যেতে পারে। সব ঠিকঠাক থাকলে, পার্লামেন্টের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিলটির পেশ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, এমনটাই রিপোর্ট মারফত জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই অর্থনীতি সম্পর্কিত পার্লামেন্টারি স্থায়ী সংসদীয় কমিটির তরফে ক্রিপ্টো বিষয়ক একটি সভা আয়োজিত হয়েছিল। বিজেপি নেতা, জয়ন্ত সিনহার (Jayanta Sinha) নেতৃত্বে এদিন সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্যই ক্রিপ্টোমুদ্রায় কৌশলি নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টিতে সহমত পোষণ করেছিলেন।

এছাড়া, শেষ সপ্তাহের শনিবারও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাপতিত্বে দেশে ক্রিপ্টো মুদ্রার ভবিষ্যত নিয়ে উচ্চস্তরের আধিকারিকদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠক বসে। বৈঠকটিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও, আপাতত আইন তৈরি না হওয়া অবধি ক্রিপ্টোর ওপর মোদী সরকারের কড়া নজরদারির বিষয়টি আরও জোরালো ভাবে প্রকাশ পায়।

এই মুহুর্তে, দেশে ক্রিপ্টো নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। অবাধে চলছে লেনদেন। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্ম রোধ করার উদ্দেশ্যে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক থেকে শুরু করে RBI, SEBI-সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থানগুলি এই ডিজিটাল কারেন্সিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। জনগণকে ক্রমাগত শোনাচ্ছে সতর্কবার্তা। সুতরাং, এই পরিস্থিতিতে ক্রিপ্টো বিষয়ক পাকাপাকি আইন আসতে যে আর বেশী দেরী নেই, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।