EV: মধ্যবিত্তদের জন্য দুঃসংবাদ, এই কারণে শীঘ্রই দাম বাড়তে চলেছে ইলেকট্রিক গাড়ির

কেন্দ্রের ঘোষণাকে উপেক্ষা করে সামনের বছর আরও বাড়বে ইলেকট্রিক গাড়ির দাম, দাবি রিপোর্টে

electric-vehicle-prices-may-rise-in-2022-here-why

পরিবেশ দূষণের সাথে মোকাবিলার অন্যতম একটি হাতিয়ার হল যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বন্ধ করা। তবে সেটি তখনই সম্ভব যখন পেট্রোল-ডিজেল চালিত গাড়ির সংখ্যা কমার সাথে সাথে বৈদ্যুতিক যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের উচ্চমূল্য এবং দেশে অপর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন। দ্বিতীয় সমস্যাটি যদিও বা খুব শীঘ্রই নিবৃত্তি হতে পারে, কিন্তু প্রথমটির জন্য মানুষকে বৈদ্যুতিক যানবাহন কিনতে যথেষ্টই বেগ পেতে হচ্ছে। যদিও আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত যানবাহনের মূল্যের সমান হবে বলে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী (Nitin Gadkari)। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই ঘোষণাকে মিথ্যা প্রমাণ করল নতুন এক রিপোর্টের তথ্য, যেখানে দাবি করা হয়েছে সামনের বছরই বিদ্যুৎ চালিত গাড়ির দাম আরো বাড়তে পারে।

আসলে বিদ্যুৎ চালিত গাড়ির মূল্য যার ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল তা হল ব্যাটারির দর। একটি বাহনের ৩০-৪০% দাম হয় তার ব্যাটারির। এবার সেই ব্যাটারির দর যদি আরো বৃদ্ধি পায়, তবে তো ক্রেতাদের প্রমাদ গোনা ব্যতীত আর কোনো উপায় নেই। শোনা যাচ্ছে শীঘ্রই ব্যাটারির মূল্য বৃদ্ধি করা হবে, কারণ কাঁচামালের দাম ক্রমশই বেড়ে চলছে। বস্তুত বৈদ্যুতিক যানবাহনের মূল্যও এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে।

BloombergNEF-এর প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারির দাম ১৪০ ডলার থেকে কমে বর্তমানে হয়েছে ১৩২ ডলার। যেখানে ২০১০ সালে দাম ছিল ১,২০০ ডলার। ফলে বর্তমানে গড়পড়তায় প্রতি কিলোওয়াট আওয়ারের দাম পড়ে ১১৮ ডলার। কিন্তু এই দর আর বেশি দিন কম থাকবে না। এই প্রসঙ্গে BNED-র অন্যতম লেখক জেমস ফ্রিথ (James Frith) মন্তব্য করেছেন, “যদিও ২০২১-এ মোটের উপর ব্যাটারির দাম কম ছিল কিন্তু এখন থেকে তা বাড়তে শুরু করেছে।” তিনি এও বলেছেন, “এটা অটো প্রস্তুতকারকদের জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিশেষত ইউরোপের যেসব সংস্থা এমিশন স্ট্যান্ডার্ড (নির্গমন মান) অনুযায়ী নিজেদের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছে তাদের জন্য।”

এখন যানবাহন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির কাছে দুটি পথ খোলা রয়েছে। এক, নিজেদের লভ্যাংশের পরিমাণ কমিয়ে গাড়িগুলি বাজারে ছাড়া। দুই, উচ্চমূল্যেই যানবাহন বাজারে নিয়ে আসা। তবে দ্বিতীয়টি যদি করা হয়, সে ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক যানবাহনের বিক্রির সংখ্যায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবুও পরিশেষে বলা যায়, যাদের পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতা রয়েছে, তাদের কাছে মূল্যবৃদ্ধি বিশেষ অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না। এখন দেখার Tesla, Mercedes, Volkswagen, Renault, Toyota, Hyundai, GM ও Nissan এর মতো রাষ্ট্রয়ত্ত অটোমোবাইল সংস্থাগুলি কিভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।