Apple এর পেজ থেকে ভেরিফায়েড টিক তুলে দিল ফেসবুক? জানুন আসল সত্যি

facebook-removes-blue-tick-verifications-from-apple-page

Facebook এবং Apple এর মধ্যে সম্পর্ক যে সাপে নেউলে তা আমরা সবাই জানি। ফেসবুক কর্মীদের অ্যাপল আইফোন ব্যবহার করতে বহুবার নিষেধ করেছে খোদ জুকারবার্গ। আবার ফেসবুক কে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সমালোচনা করতে ছাড়েনি অ্যাপলও। সম্প্রতি iOS-এর একটি আপকামিং সিকিরিউটি আপডেটকে ঘিরেও দুই কোম্পানির মধ্যে মতবিরোধ সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে Apple এর পেজ থেকে ভেরিফায়েড টিক নাকি তুলে দিয়েছে ফেসবুক। গতকাল সোশ্যাল মিডিয়া কনসালটেন্ট ম্যাট নাভারার একরমই একটি টুইটকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়।

ফেসবুকে অ্যাপেলের অফিসিয়াল পেজটি আনভেরিফায়েড হয়েছে অর্থাৎ সেখান থেকে ব্লু টিক সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি টুইটে দাবি করে বসেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি ফেসবুক পেজটির স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন।

তবে পরমুহূর্তেই এর পেছনে থাকা আসল সত্যিটাও সামনে চলে আসে। ম্যাট নাভারা জানতেনই যে, তিনি অ্যাপেলের যে ফেসবুক পেজের কথা উল্লেখ করেছেন, তা আদতে কোনোদিনই ভেরিফাই করা হয় নি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সত্যিটা জানার পর তিনি ভুল সংশোধন করে নতুন একটি টুইট করেন। আসলে অ্যাপেলের প্রধান ফেসবুক পেজ কোনোদিনই ভেরিফায়েড ছিল না৷ তবে কোম্পানির সমস্ত প্রোডাক্ট পেজ, যেমন Apple Music, Apple Podcasts, Apple TV প্রভৃতি ফেসবুকে ভেরিফায়েড আছে।

প্রসঙ্গত ফেসবুকে কোনো পেজ কে ভেরিফায়েড করতে ওই পেজের এডমিনকে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। তবে অ্যাপেলের প্রধান ফেসবুক পেজের ক্ষেত্রে সেটা করা হয় নি বলে জানা গিয়েছে। যদিও ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামে অ্যাপেলের মেন পেজে ব্লু টিক আছে।

Apple ও Facebook এর মধ্যে মতবিরোধের কারণ

Apple ও Facebook, এই দুই টেক জায়ান্টের মধ্যে যে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে তার নেপথ্যে আছে আইফোন আইওএস ১৪.৪ এর সিকিউরিটি আপডেট। আগামী বছরেই এটি রোলআউট হবে এবং আপডেটটি আসার ফলে বিজ্ঞাপনের জন্য যদি কোনো অ্যাপ্লিকেশান ইউজারকে ট্র্যাক করতে চায় তাহলে আইফোন ব্যবহারকারীদের সম্মতির প্রয়োজন পড়বে। যদিও এটি ব্যবহারকারীদের পক্ষে ভাল, তবে ফেসবুকের মতে, এটি ছোটো ব্যবসাগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তাদের হিসেবে, এভাবেই পার্সোনোলাইজড বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ফেসবুক ছোট ব্যবসায়ীদের তাদের সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে জুড়তে সাহায্য করে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়া জায়েন্টটি দাবী করেছে যে, “নতুন এই আইওএস আপডেট, ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন চালানোর এবং তাদের গ্রাহকদের কাছে কার্যকরীভাবে পৌছানোর ক্ষমতাকে সীমিত করবে। ফলে ফেসবুক অ্যাপেলের এই নীতির বিপক্ষে প্রকাশ্যে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। ফেসবুক মনে করে যে, বেশীরভাগ ব্যবহারকারী অ্যাপ্লিকেশনগুলির মধ্যে তাদের ট্র্যাক করার অনুমতি অস্বীকার করবেন। Apple অবশ্য স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, তারা চায় না, ফেসবুকের মতো সংস্থাগুলি তাদের বিজ্ঞাপন দেওয়ার পদ্ধতিগুলিকে পরিবর্তন করুক৷ Apple শুধুমাত্র তার ব্যবহারকারীদের ট্র্যাকিংয়ের বিষয়ে জানাতে চায় এবং তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে চায়।

অ্যাপেলের সিইও টিম কুক তার টুইটে লিখেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, ব্যবহারকারীদের সর্ম্পকে যে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কিভাবে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে তার বিষয়ে ইউজারদের অভিমত থাকা উচিত। পূর্বের ন্যায় ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইউজারদের ট্র্যাক করতে পারবে, তবে প্রথমে তার জন্য ব্যবহারকারির অনুমতি লাগবে।