ভ্যাকসিন না নিয়েও কাজে যোগদান করতে পারবে Facebook কর্মচারীরা

করোনা অতিমারীর জেরে মানুষ বাড়িতে বসে অফিস-কাছারির কাজ সারতে বাধ্য হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুকের কর্মচারীরাও এই বাঁধা ছকের বাইরে বেরোতে পারেননি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, করোনাকে সাথী করেই কর্মজীবি মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে Facebook এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মার্ক জুকারবার্গ, সংস্থার ৫০,০০০ এরও বেশি কর্মচারীর উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন যে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের জুলাই মাসে ফেসবুকের অফিস পুনরায় চালু হবে এবং, কর্মচারীদের ফের কাজে যোগ দিতে হলে করোনার টিকাকরণ না করালেও চলবে।

ডেইলি বিস্ট নামের সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে এক Facebook কর্মচারী ভ্যাকসিনেশন তাদের কাজে কী প্রভাব ফেলবে তা জুকারবার্গের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তার উত্তরেই ৩৬ বছর বয়েসি জুকারবার্গ ঘোষণা করেন যে পুনরায় কাজে যোগ দিতে কর্মীদের টিকা থাকা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক নয়। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি আগের থেকে স্বাভাবিক হওয়ায় বেশ কিছু কর্মচারী ইতিমধ্যেই কাজে যোগদান করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই বিষয়ে ফেসবুকের এক মুখপাত্র, দ্য ভার্জকে বলেছেন যে সংস্থাটি তার কর্মীদের আগামী বছরের প্রথমার্ধ অবধি সময়ে বাড়ি বসে কাজ করার বিকল্প দিয়েছে। ফেসবুকের মার্কিন অফিস এবং বিশ্বব্যাপী অফিসগুলি মার্চ থেকেই বন্ধ রয়েছে এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উপলব্ধ হওয়ার আগে এই অফিসগুলি খোলার কোনো আশা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পুনরায় অফিস চালু হওয়ার পর কর্মীদের জন্য সামাজিক দূরত্ব বা স্যানিটাইজেশন বজায় রাখা, মাস্ক পরা ইত্যাদি বেশ কয়েকটি প্রোটোকল থাকবে যাতে ফের সংক্রমণের কোনো সম্ভাবনা না থাকে।

এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, সংস্থাটি মে মাসে স্থায়ী ওয়ার্ক ফ্রম হোম পলিসি চালু করেছে। এছাড়া জুকারবার্গ, ২০৩০ সাল নাগাদ সংস্থার অর্ধেক কাজ বাড়ি থেকে পরিচালনা করার জন্য একটি রিমোট ওয়ার্কিং প্ল্যান নিয়েও কাজ করছেন। তাঁর মতে, আজ থেকে পাঁচ-দশ বছর পর ফেসবুকের প্রায় অর্ধেক কর্মী বাড়িতে থেকেই কাজ করবেন।