Blast: বৈদ্যুতিক স্কুটারের ব্যাটারি ফেটে নয়, ব্যাগের বাজিতে বিস্ফোরণই জীবন কেড়ে নেয় বাবা-ছেলের

বৈদ্যুতিক স্কুটারের ব্যাটারির বিস্ফোরণের প্রচারটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা

fact-check-blast-due-to-firecrackers-falsely-linked-to-electric-scooters

দিনটি ছিল ৫ নভেম্বর অর্থাৎ দিওয়ালি। আলোর রোশনাইয়ের উৎসব উদযাপনে সমগ্র দেশবাসী মেতেছিল সেদিন। কিন্তু ওইদিন এক দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা ঘটে তামিলনাড়ুতে। আর তাকে ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে চলতে থাকে অপপ্রচার। যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কার সূত্রপাত হওয়া অতি স্বাভাবিক! এখন প্রশ্ন কী সেই অপপ্রচার?

সে কথা জানানোর আগে সেদিন কী ঘটেছিল তার একটি ছোট্ট বিবরণ দেওয়া যাক। গত দিওয়ালির দিন দুপুর ১:৩৫ নাগাদ তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির মধ্যবর্তী ভিলুপ্পুরম নামক একটি জায়গায় এক ভদ্রলোক ও তাঁর সাত বছরের পুত্র একটি স্কুটারে যাওয়ার সময় হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে পিতা ও পুত্র সহ লাগোয়া আরও তিনজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মুহূর্তে ওই দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন চ্যানেলে। একাধিক মিডিয়া বাজির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে। আবার কেউ কেউ স্কুটারটি ব্যাটারি চালিত এবং এই ব্যাটারি বিস্ফোরণের ফলে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াতে থাকে। যেটি ছিল সম্পূর্ণ একটি অপপ্রচার! এমনকি কোনো ব্যক্তি যাতে বৈদ্যুতিক টু হুইলার ব্যবহার না করেন সে বিষয়ে জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয় সেই অপপ্রচারে।

এরপর ভারতের বিভিন্ন নামজাদা সংবাদ মাধ্যম ওই দুর্ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে নেমে পড়ে। যার মধ্যে অন্যতম একটি সংবাদ মাধ্যম হল দ্য কুইন্ট (The Quint)। বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে জানা যায় আসলে সেদিন দিওয়ালি উপলক্ষ্যে ৩৫ বছরের কালাইনেসান নামক এক ব্যক্তি তাঁর সাত বছরের পুত্র প্রদেশ-কে স্কুটারের সামনে বসিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। স্কুটারটির সামনে ছিল দড়ি দিয়ে বাঁধা একবস্তা বাজি, যেটি তাঁর ছেলে ধরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু রাস্তায় হঠাৎই উল্টো দিক থেকে অপর একটি স্কুটার সামনে চলে আসায় অকস্মাৎ ব্রেক কষতে হয় কালাইনেসান-কে। ফলে বাজির বস্তায় ঝাকুনি লাগে এবং তাতেই জোরালো বিস্ফোরণটি ঘটে। আর এই কারণেই মৃত্যু হয় পিতা-পুত্র সহ মোট পাঁচ জনের। এ থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে বৈদ্যুতিক স্কুটারের ব্যাটারির বিস্ফোরণের প্রচারটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।

প্রসঙ্গত, ঘটনাটি যখন প্রথম সোশ্যাল মিডিয়াতে মিথ্যেভাবে ছড়ায় তা দেখে সাধারণের মনে বৈদ্যুতিক বাইক বা স্কুটার কেনার প্রসঙ্গে সংশয় তৈরি হয়েছিল। যা অতি স্বাভাবিক। এ বিষয়ে অনেক নেটাগরিক বৈদ্যুতিক স্কুটার ব্যবহার না করার বিষয়ে বিভিন্ন মন্তব্যও করেন। বস্তুত ইলেকট্রিক অটোমোবাইল সংস্থাগুলিও নিজেদের ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু আসল ঘটনাটি সামনে আসার পর পরিবেশবান্ধব স্কুটার/বাইক নিয়ে তৈরি হওয়া এরকম আশঙ্কা যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তা এবার প্রমাণিত।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।