গরুর গোবর থেকে তৈরী চিপ রুখবে মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর রেডিয়েশন, কি বলছেন বিজ্ঞানীরা

fact-check-chip-made-of-cow-dung-reduces-radiation-true-or-false

আরো একবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পরিচিত গৃহপালিত চারপেয়ে – গোরু। সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ (RKA)-এর চেয়ারম্যান বল্লভভাই কাঠিরিয়া দাবি করেছেন গোবর থেকে বানানো চিপ রুখবে মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর রেডিয়েশন বা বিকিরণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সোমবার ‘গৌসত্ত্ব কবচ’ নামে এই ধরণের গোবর-ভিত্তিক একটি চিপের উদ্বোধন করেছেন কাঠিরিয়া।

এই ‘গৌসত্ত্ব কবচ’ চিপটি রাজকোটের শ্রীজি গৌশালা দ্বারা বিকাশিত। চিপটি মূলত গোরুর বর্জ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, গোবর বা ঘুঁটে থেকে নির্মিত এই চিপ, মোবাইলের ভেতরে রাখলে রেডিয়েশনের মাত্রা নাকি অনেকটাই কমে যাবে। কমবে একাধিক রোগ-ব্যাধির ঝুঁকিও। এই চিপটির কার্যকারিতা বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত বলেও দাবি করেছেন কাঠিরিয়া।

এখন, সারা দেশজুড়ে পাঁচশোটিরও বেশি গোশালায় এই বিশেষ অ্যান্টি-রেডিয়েশন চিপ তৈরি হচ্ছে। এক-একটি চিপের দাম পড়বে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। শোনা যাচ্ছে, আমেরিকাতেও রফতানি করা হবে এই গোবর-ভিত্তিক চিপ। সেখানে চিপটি ১০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গতবছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে চালু করা হয় রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ প্রকল্প। দেশের মৎস্য, পশুপালন ও গবাদি পশু মন্ত্রকের অন্তর্গত এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য মূলত গোরুর সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং উন্নয়নের ব্যবস্থা করা। তবে এই মুহূর্তে RKA-এর ‘গৌসত্ত্ব কবচ’ চিপ প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য হল গোবর-জাত পণ্যের প্রসার ঘটানো।

তবে এই চিপের কার্যকারিতা শুনে নড়ে-চড়ে বসেছে বিশেষজ্ঞ বা বৈজ্ঞানিক মহল। এই বিষয়ে মুম্বইয়ের টাটা ইনসিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (TIFR)-এর অধ্যাপক অমল দিঘে বলেছেন, যদি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয় ওই ‘চিপ’ সত্যিই মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন হ্রাস করে, তাহলে কামধেনু আয়োগের উচিত এই চিপের প্রস্তুতির জন্য পরিচালিত পরীক্ষার বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা। অন্যদিকে, মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ডঃ এস কৃষ্ণস্বামী বলেছেন, গোবরের কিছু অ্যান্টিসেপটিক গুণ থাকতে পারে, তবে এটির কোনো প্রকারের বিকিরণ রোধ করার রেকর্ড আপাতত নেই। কৃষ্ণস্বামী, পদার্থবিদ কেএন উত্তমের একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে জানিয়েছেন– গোরুর গোবর সম্ভবত আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মির নিঃসরণ গ্রহণ করতে পারে, এদিকে মোবাইল ফোন থেকে নির্গত বিকিরণগুলি নন-আয়নিং রেডিও তরঙ্গ। শুধু তাই নয়, সেন্টার ফর টেকনোলজি ডেভলপমেন্টের পরিচালক ডঃ রঘুনন্দন বলেছেন, এই গোবর-ভিত্তিক চিপের কাজ করার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য।

এই প্রথমবার গোবর-জাত চিপ ব্যবহারের দাবি উঠেছে – এমন নয়। বছর দুয়েক আগে একবার এই ধরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কলকাতা গো-সেবা পরিবারের আধিকারিক সুনীল খেরওয়ালে। সেই সময় সুনীল বলেছিলেন, গোবর দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের ‘চিপ’ যা মোবাইলের পেছনে লাগিয়ে নিলেই মোবাইল ফোনের টাওয়ারের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন থেকে মুক্তি মিলবে।