সাবধান, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে জাল বিনিয়োগ চক্র, অর্থ খোয়া গেলে এই নম্বরে কল করুন

Instagram-এ জাল বিনিয়োগ চক্র রুখল দিল্লি পুলিশ, কোনোরকম প্রতারণার জালে ফেঁসে গেলে ফোন করুন ১৫৫২৬০ নম্বরে

fraud-investment-scheme-on-instagram-police-busts

লোককে ভুলিয়ে-ভালিয়ে, প্রতারণার জালে ফাঁসিয়ে বেশ ভালোরকমভাবেই জালিয়াতি চলছিল অনেকদিন ধরে, কিন্তু দিল্লি পুলিশ মাঝখান থেকে এসে সব প্ল্যান ভন্ডুল করে দিল! হ্যাঁ, সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ইউনিট, দেবেন্দ্র চৌধুরী নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি “profit_mania” নামে একটি Instagram অ্যাকাউন্ট বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাল বিনিয়োগ চক্র চালাচ্ছিলেন। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে, চৌধুরী আশ্বাসদায়ক চ্যাটের মাধ্যমে ভুয়ো স্কিমে অর্থ বিনিয়োগের জন্য Instagram ব্যবহারকারীদের টার্গেট করেছিলেন, এবং এর ফলে গত কয়েক মাসে প্রতারিতদের থেকে ১২ লক্ষেরও বেশি টাকা হাতিয়েছেন। 

জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ইনস্টাগ্রামে নিরীহ, সহজসরল লোকেদের সাথে চ্যাট করত এবং বড়োসড়ো লাভের লোভ দেখিয়ে অর্থ বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করে তাদের UPI ID বা QR code শেয়ার করতে বলত। আর বড়ো অঙ্কের টাকা পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ খুব সহজেই টাকা বিনিয়োগ করে বসতেন। তবে বিনিময়ে তারা কোনো টাকা তো পেতেনই না, উল্টে নিজের বিনিয়োগ করা টাকাটাও নষ্ট হতো। সাধারণত ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন গেমিং এবং আরও অন্যান্য নতুন জায়গায় বিনিয়োগের মাধ্যমে বড়ো মাপের রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত, যেগুলি সম্পর্কে মানুষের খুব কম ধারণা রয়েছে। তাই নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে বড়োসড়ো লাভের আশায় উৎসাহিত হয়ে বহু মানুষ এই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।

দিল্লি পুলিশ সাইবার ক্রাইম বিভাগ তার অফিসিয়াল টুইটার পেজ @DCP_CCC_Delhi-এর মাধ্যমে মানুষকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছে এবং কোনোরকম অজানা সোর্স থেকে আসা “ডাবল মানি রিটার্ন” স্কিমে টাকা বিনিয়োগ না করার আর্জি জানিয়েছে। তারা একথাও বলেছে যে, বর্তমানে এই ধরনের চক্র গোটা ভারতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইদানীংকালে ক্রিপ্টো মাইনিং, অনলাইন বেটিং এবং গেমিংয়ের বিশ্বব্যাপী বিপুল চাহিদা হওয়ায় প্রতারকরা মানুষকে ঠকানোর জন্য প্রায়শই এগুলির সাহায্য নিচ্ছে। তাই এই ধরনের কোনোরকম স্কিমে কখনোই কোনো টাকা বিনিয়োগ করবেন না।

ডিসিপি সাইবার ক্রাইম আরও জানিয়েছে যে, যদি কেউ এই জাতীয় স্কিমগুলির দ্বারা প্রতারিত হয়ে থাকে, তবে তারা ১৫৫২৬০ নম্বরে ঘটনাটি জানাতে পারে। উল্লেখ্য যে, e-KYC কেলেঙ্কারি এবং এই সম্পর্কিত জালিয়াতির দরুন UPI-ভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করে বা অন্যান্য আরও একাধিক উপায়ে সাধারণ মানুষের টাকা হারানোর ঘটনা দেশে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই জাতীয় ঘটনা রুখতে দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ ১৫৫২৬০ হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। নম্বরটিতে ফোন করলেই দিল্লি পুলিশ ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সাহায্যের আশ্বাস দিচ্ছে, তবে ঠিক কীভাবে সাহায্য করা হবে সে সম্পর্কে এখনও বিশেষ কিছু জানা যায়নি। এমনকি দিল্লি পুলিশ একথাও দাবি করেছে যে, ১৫৫২৬০ নম্বরে ফোন করে তৎক্ষণাৎ জালিয়াতির ঘটনা রিপোর্ট করলে নাগরিকরা তাদের হারানো অর্থ পুরোটাই ফেরত পেতে পারেন।

এই হেল্পলাইন নম্বরটি সিটিজেন ফিনান্সিয়াল সাইবার ফ্রড রিপোর্টিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (Citizen Financial Cyber Fraud Reporting and Management System) অংশ যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (Law Enforcement Agencies) এবং ব্যাঙ্ক ও আর্থিক মধ্যস্থতাকারীদের (Financial Intermediaries) একীভূত করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। দিল্লি সহ সাতটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের (ছত্তিশগড়, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা, উত্তরাখণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশ) মানুষ এই হেল্পলাইন নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।