Home Appliances: মধ্যবিত্তদের জন্য বড় ধাক্কা, দাম বাড়তে চলেছে, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিনের

শোনা যাচ্ছে হোম অ্যাপ্লায়েন্সের মূল্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়বে, যা উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে নিতান্ত কম মনে হলেও, সাধারণ মধ্যবিত্তদের পকেটের ওপর কিন্তু বেশ খানিকটা চাপ ফেলবে

fridge-refrigerator-ac-washing-machine-might-get-costlier-soon

আপনি যদি নতুন বছরে আপনার বাড়ির জন্য একটি ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার বা ওয়াশিং মেশিন কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে শীঘ্রই কেনাকাটার কাজ শেষ করুন। আসলে এই প্রোডাক্টগুলির দাম আর কিছুদিনের মধ্যেই বেশ খানিকটা বাড়তে পারে। শোনা যাচ্ছে হোম অ্যাপ্লায়েন্সের মূল্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়বে, যা উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে নিতান্ত কম মনে হলেও, সাধারণ মধ্যবিত্তদের পকেটের ওপর কিন্তু বেশ খানিকটা চাপ ফেলবে।

এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধির কথা এখনকার দিনে আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। গত বছরের শেষের দিকে রিচার্জ প্ল্যানের দাম বাড়া থেকে শুরু করে রোজই কোনো না কোনো জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির খবর সামনে আসে। মূল্যবৃদ্ধির ভয়াল বেড়াজালে আপামর জনগণ এখন বন্দি হয়ে রয়েছে। কিন্তু এই ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, বা ওয়াশিং মেশিনের দাম বাড়ার কথাই বা আপনাদের হঠাৎ বলছি কেন? আসুন এ সম্পর্কে একটু বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

বিগত প্রায় দু-বছর ধরে করোনা ভাইরাসের মারাত্মক থাবায় গোটা বিশ্ব যে কীভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে, সেকথা আমাদের আর কারোরই অজানা নয়। প্রথম, দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর এবার গোটা দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। সেইসাথে ওমিক্রন, ডেল্টা, ফ্লোরিনা সহ করোনার একাধিক স্ট্রেনও ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাবা বসাচ্ছে। এমনিতেই করোনার আবির্ভাবের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ চাকরি খুইয়ে এখন বেকার। করোনার একের পর এক ঢেউ এসে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকেও ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। আগামীকাল আদৌ কপালে খাবার জুটবে কি না, এটা ভেবে বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ এখন নিশ্চিন্তে ঘুমোতেও পারছেন না।

ফলে বিশ্বের একাধিক মানুষের যখন এই অবস্থা, তখন নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছে যে ব্যবসা তথা অর্থনীতির ওপর কী মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে এই মারণ সংক্রমণ! সম্প্রতি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ায় কাঁচামালের যোগান বিপুলভাবে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, যার ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই কাঁচামালের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর একবার কাঁচামালের দাম বেড়ে গেলে তারপর সেগুলি থেকে উৎপাদিত পণ্যের দামও বাড়তে বাধ্য। এই কারণেই হোম অ্যাপ্লায়েন্সের দামও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি যে, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সংস্থা তাদের এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের দাম বাড়িয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই এরকম প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার খবর নিতান্তই হৃদয়বিদারক, কিন্তু সংস্থাগুলির এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই। সেক্ষেত্রে যদি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে আগামী মাসগুলিতে অন্যান্য বেশ কিছু প্রোডাক্টের দামও বৃদ্ধি পাবে।

বস্তুত, কাঁচামালের বিশাল ঘাটতিই হল প্রোডাক্টগুলির দাম বৃদ্ধির পিছনে সবচেয়ে বড়ো কারণ। আর এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর বা ওয়াশিং মেশিনের মতো জিনিসগুলিতে যদি উন্নত মানের কাঁচামাল ব্যবহার না করা হয়, তাহলে সেগুলি অতি অল্প দিনের মধ্যেই খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই এমত পরিস্থিতিতে যদি কোনো সংস্থা খুব সস্তায় সেগুলি দেবে মনে করে থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে তারা সেগুলিতে উন্নত গুণমানসম্পন্ন কাঁচামাল ব্যবহার করছে না। কিন্তু ইলেকট্রনিক গ্যাজেট কেনার ক্ষেত্রে কোয়ালিটির সঙ্গে আপোষ করা কোনোমতেই উচিত নয়। তাই করোনার আরও বাড়বাড়ন্ত হওয়ার আগেই যদি আপনার এই ধরনের প্রোডাক্টগুলি কেনার প্ল্যান থাকে, তবে এখনই কিনে ফেলুন। তাহলে অন্তত কিছুটা হলেও টাকা সাশ্রয় করতে সক্ষম হবেন।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।