পাকিস্তান ছাড়ার ডাক ফেসবুক, গুগল, টুইটারদের, জানুন কারণ

‘অনৈতিক ও অশ্লীল’ কনটেন্টের কারণে সাময়িক ভাবে Tiktok ব্যান করার কয়েকদিন পরেই আবার একটি কঠোর আইন নিয়ে এসেছে পাকিস্তান সরকার। এই আইনের কারণে Facebook, Twitter, Apple এর মত বিভিন্ন ইন্টারনেট ও টেকনোলজি কোম্পানি পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এই আইনের ফলে ডিজিটাল কনটেন্টের উপর কঠোরভাবে সেন্সর করা হবে। নিয়মের লঙ্ঘন করলে জরিমানা অব্দি হতে পারে।

নতুন আইনের শর্তাবলী

নতুন রেগুলেশন অনুযায়ী, ইসলামের পক্ষে অবমাননাসূচক, সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহদানকারী, হেট স্পিচ, পর্ণোগ্ৰাফি বা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকর কোনো কনটেন্ট শেয়ার করলে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া কোম্পানি বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারকে ৩.১৪ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হতে পারে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের DAWN সংবাদপত্র লিখেছে, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলি পাকিস্তানের তদন্তকারী সংস্থাকে “ডিক্রিপটেড, পাঠযোগ্য এবং বোধগম্য ফরম্যাটে যে কোন তথ্য বা ডেটা” দিতে বাধ্য থাকবে। এছাড়া পাকিস্তান সরকারের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলিকে পাকিস্তানে তাদের স্থানীয় অফিস তৈরি করতে হবে। নয় মাসের মধ্যে PTA-এর সাথে তাদের রেজিস্টার করতে হবে। ১৮ মাসের মধ্যে তাদের পাকিস্তানে একটি স্থায়ী অফিস এবং ডেটাবেস সার্ভার তৈরি করতে হবে।

কোয়ালিশনের প্রতিক্রিয়া

এই আইন পাস হওয়ার পর Google, Facebook, Twitter, Amazon, Apple-এর মতো বড় বড় গ্লোবাল টেকনোলজি কোম্পানিগুলি মিলে ‘এশিয়া ইন্টারনেট কোয়ালিশন’ নামে একটি মঞ্চ তৈরি করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বুধবার মিডিয়া রেগুলেটার ‘পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি’ (PTA)-এর ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার পরেই কোয়ালিশন পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।

কোয়ালিশনের তরফে এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। কোয়ালিশন বলেছে, “ডেটা লোকালাইজেশনের এই কঠিন শর্ত মানুষকে ফ্রি এবং মুক্ত ইন্টারনেট অ্যাকসেস করতে বাধা দেবে এবং পাকিস্তানের ডিজিটাল অর্থনীতিকে বাকি পৃথিবী থেকে নিন্ম  করে রাখবে।” তারা আরো জানিয়েছে যে এই নতুন আইন তাদের পরিষেবাকে পাকিস্তানের ইউজারদের জন্য বহাল রাখতে অসুবিধা সৃষ্টি করবে।

যদিও খান সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর অফিস থেকে আগে জানানো হয়েছিল যে, সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলি ২০১৮ থেকে পাকিস্তানবিরোধী, অশ্লীল ও বিভেদমূলক কনটেন্ট সরাতে দেরি করায় সরকার এই আইন প্রণোদন করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের দ্বারা রিপোর্ট হওয়ার পর এই ধরনের কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটগুলি। আপত্তিকর কনটেন্ট সরাতে দেরি করলে জরিমানা করা হবে।

কোয়ালিশনের তরফে হুমকি আসার পর অবশ্য পাকিস্তান সরকার একটি বোঝাপড়ায় যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে কোন মিটিং এখনও হয়নি। কোয়ালিশনের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ক্ষতিটা পাকিস্তানেরই হবে। এর ফলে বিশ্ব বাজার থেকে লগ্নি পেতে অসুবিধাই হবে তাদের।

প্রসঙ্গত, ইসলামিক দেশগুলিতে ডিজিটাল কনটেন্টের উপর সেন্সর নতুন কিছু নয়। ২০১৮-তে বাংলাদেশ সরকারও ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ নামে একটি কুখ্যাত আইন পাস করেছিল। সরকারবিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ করার জন্য এই আইনের ব্যবহার এখনও হয়ে চলেছে। পাকিস্তানের সরকারও এবার ডিজিটাল মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করতে চলেছে।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।