বন্যার আগেই পাবেন সতর্কতা, সারা ভারতে ফ্লাড ফোরকাস্টিং পরিষেবা ছড়িয়ে দিল গুগল

Google Flood forecasting system is now active all over India

আমাদের ভারত এমনিতে নদীমাতৃক দেশ, তার ওপর প্রবল বর্ষণের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন অঞ্চল বন্যার কবলে পড়ছে। তবে এবার এই সমস্যায় কিছুটা হলেও রেহাই দিতে, Google তার flood forecasting সিস্টেমকে আরো উন্নত করার চেষ্টা করছে। গতকাল অর্থাৎ বুধবার, Google জানিয়েছে, সংস্থার ফ্লাড ফোরকাস্টিং সিস্টেম এখন প্রায় সারা ভারতে প্রসারিত। গুগলের এই সিস্টেম প্রায় ২৫০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার জুড়ে কাজ করবে এবং ২০০ মিলিয়নেরও বেশি লোককে সুরক্ষিত করতে সহায়তা করবে। ইতিমধ্যেই গুগলের এই পরিষেবাটি গত বছর বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলিতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন নোটিফিকেশন পাঠিয়েছে। এখন এই ফ্লাড ফোরকাস্টিং সিস্টেম আগের চেয়ে ২০ গুণ বেশি পরিষেবা দেবে।

গুগলের এই ফ্লাড ফোরকাস্টিং সিস্টেম, বন্যার গভীরতা, সময় এবং জলের আয়তন সম্পর্কে ধারণা বা অগ্রিম সতর্ক দেয়। পাশাপাশি এটি বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলিতে নির্ভুলভাবে মানচিত্রে তুলে ধরে। গুগল বলেছে, সংস্থাটি এবছর একটি নতুন ফোরকাস্টিং মডেল চালু করেছে। এই প্রযুক্তিটি সময় থাকতে অনেক সতর্কবার্তা দিয়ে মানুষকে সহায়তা করেছে। এমনকি গুগল, কিছুদিন আগেও সরকারকে আগাম সতর্ক করেছিল এবং দেশের মানুষকে বন্যার জন্য প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করেছিল।

এদিকে ভারতে এই পরিষেবাটি সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি Google, বাংলাদেশে অ্যালার্ট সিস্টেম আনতে বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করছে। টেক জায়ান্ট সংস্থাটি বলেছে, তারা বাংলাদেশের ৪ কোটিরও বেশি মানুষকে পরিষেবা দেয়। সংস্থাটি আগামী দিনে তার বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার উদ্যোগটি পুরো দেশে প্রসারিত করার পরিকল্পনা করেছে।

অন্যদিকে, ইউজারদের সমস্ত তথ্য দিতে সংস্থাটি তার পৃষ্ঠাগুলিকে নিখুঁত ভাবে ঢেলে সাজিয়েছে। গুগলের ফ্লাড ওয়ার্নিং সিস্টেম এখন হিন্দি, বাংলা এবং আরো সাতটি স্থানীয় ভাষায় উপলব্ধ। ইউজাররা সহজেই ভাষা বা তাদের লোকেশন পরিবর্তন করতে পারবেন এবং বন্ধুবান্ধব বা পরিজনদের সহায়তা করতে পারবেন।

গুগলের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রভাবে তাদের অবকাঠামোগত কাজকর্ম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে, ভারত ও বাংলাদেশে এই বন্যার মরসুমে সহায়তা করার সম্পূর্ণ চেষ্টা করছে সংস্থাটি।