লোকেশন ট্র্যাকিং অফ রাখলেও তথ্য পাচ্ছে Google, দায়ের মামলা

google-lawsuit-for-accessing-users-locations-after-location-sharing-turned-off

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন বা ডিজিটাল মাধ্যম কর্তৃক সংগৃহীত ইউজার ডেটার বিষয় নিয়ে এদেশে বেশ হইচই চলছে; ডেটা সংগ্রহ বা ট্র্যাকিং সম্পর্কে সংশয় উঠছে বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতেও। সেক্ষেত্রে এবার ইউজারের অন্যতম ব্যক্তিগত তথ্য তথা লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের জেরে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় জড়িয়ে পড়ল ইন্টারনেট জায়ান্ট Google-এর নাম। রিপোর্ট অনুযায়ী, Google-এর বিরুদ্ধে ফের স্মার্টফোনের লোকেশন অপশন অফ থাকা সত্ত্বেও ইউজারের অবস্থান অ্যাক্সেস করার অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, সংস্থাটি ইচ্ছে করেই নির্মাতা এবং প্রকৌশলীদের ডিভাইসের গোপনীয়তায় ফাঁক রাখার নির্দেশ দিয়েছে যাতে এটি এভাবে লোকেশন ট্র্যাক করতে পারে। অর্থাৎ ইউজাররা যে কোনোমতেই নিজেদের অবস্থানগত তথ্য গোপন রাখতে পারবেন না, সে বিষয়টি Google-এর জানা ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

জানিয়ে রাখি, মার্কিন রাষ্ট্র Arizona (অ্যারিজোনা) থেকে Google-এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে অভিযোগ রয়েছে যে সংস্থাটি কোনো অনুমতি ছাড়াই অ্যান্ড্রয়েড ইউজারের অবস্থান অবৈধভাবে ট্র্যাক করেছে। এই নজরদারিতে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনা আজকের নয়! গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে অ্যারিজোনার স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল মার্ক ব্র্নোভিচ, তাঁর রাষ্ট্রের পক্ষে এই মামলা দায়ের করেছিলেন – এমনটাই জানা গিয়েছে।

এদিকে Google-এর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে লোকেশন ট্র্যাক করা ছাড়াও, অন্য যে অভিযোগটি উঠেছে তা হল – সংস্থাটি নাকি স্মার্টফোন ইউজারদের জন্য প্রাইভেসি সেটিংস অ্যাক্সেসের উপায় জটিল করে তুলেছিল। এমনকি এটি ফোন নির্মাতাদের প্রাইভেসি সেটিংস আড়ালে রাখার জন্য চাপ দিয়েছিল বলেও গুঞ্জন রয়েছে। সেক্ষেত্রে আলোচ্য মামলার প্রেক্ষিতে মার্ক ব্র্নোভিচ ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন, যেখানে Google-কে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংগৃহীত গোপনীয়তা তথ্যের বিনিময়ে নির্দিষ্ট টাকা দিতে হবে। তাছাড়া মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে,অ্যারিজোনা জালিয়াতি আইন অনুযায়ী Google-কে ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।

যাইহোক, বিভিন্ন জায়গায় তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে যেভাবে কড়াকড়ি চলছে, তার মধ্যে এই অ্যারিজোনা মামলাটি যে কোম্পানিটির জন্য বেশ অস্বস্তিজনক হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই! তবে Google-এর মুখপাত্র জোসে কাস্তেনিদা অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেছেন যে, তারা সবসময়ই নিজের প্রোডাক্টগুলিতে গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করে; তাই এই ধরণের অভিযোগ অমূলক এবং তারা মামলায় ইতিবাচক ফলের আশা করছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ব্যক্তিও ঠিক একই অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু ওই সময়ও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে Google।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

A person who enjoys creating, buying, testing, evaluating and learning about new technology.