অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে আসছে আর্থকোয়েক ফিচার, আগেভাগে মিলবে ভূমিকম্পের অ্যালার্ট

google-testing-earthquake-detection-features-all-you-need-to-know

ইউজারদের উন্নত পরিষেবা দিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার নিয়ে আসছে গুগল। তবে এবার টেক জায়ান্ট সংস্থাটি যে ফিচার আনতে চলেছে তা শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। The Verge এর রিপোর্ট অনুযায়ী, Google একটি বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্প শনাক্তকরণ সিস্টেম তৈরী করতে চলেছে যা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের মাধ্যমে চলবে। অর্থাৎ এই সিস্টেম কার্যকরী হলে আপনার হাতের অ্যান্ড্রয়েডটি হয়ে উঠবে মিনি সিসমোগ্রাফ, এবং আপনি ভূমিকম্প হওয়ার আগেই সতর্ক থাকতে পারবেন।

আপাতত এই ফিচারটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, সংস্থাটি সবেমাত্র কাজ শুরু করেছে। প্রথমে এই ফিচারের টেস্টিং ক্যালিফোর্নিয়ায় চালু হবে। এই ফিচারটি আসার পর আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অ্যাক্সেলোমিটার (Accelerometer) হয়ে উঠবে ডেটা পয়েন্ট। অ্যাক্সেলোমিটারের অ্যালগোরিদম সহজেই আসন্ন ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারবে। ভূমিকম্প হওয়ার চান্স আছে বুঝলে ফোনটি আর্থকোয়েক ডিটেকশন সার্ভারে একটি সংকেত পাঠাবে।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, গুগল এই ভূমিকম্প ডিটেক্টর নেটওয়ার্কটি ডেভেলপ করতে দুটি সংস্থার (ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং ক্যালিফোর্নিয়া অফিস অফ এমার্জেন্সি সার্ভিসেস) সাথে জোট বেঁধেছে। গুগল আশা করছে, এই নেটওয়ার্কটি সম্পূর্ণ তৈরি হলে ভবিষ্যতে ইউজাররা ভূমিকম্প শুরু হওয়ার আগে অটোমেটিক্যালি একটি সতর্ক বার্তা পাবেন। মনে করা হচ্ছে, এই নেটওয়ার্ক সিস্টেমটি গঠন করতে গুগল, বিশ্বের কয়েক মিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্মার্ট অ্যালগরিদম কাজে লাগাবে।

এই বিষয়ে, গুগলের প্রধান অ্যান্ড্রয়েড সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মার্ক স্টোগায়াইটিস (Marc Stogaitis) বলেছেন, কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে সিসমোগ্রাফ সেট-আপ বা রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হয়না, কারণ তা যথেষ্ঠ ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলি ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলি সনাক্ত করতে যথেষ্ট সংবেদনশীল। তাই সংস্থাটি তাদের নতুন সিস্টেমে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করছে, ফলে ইউজাররা যেখানেই থাকুক সহজেই ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা পাবে এবং নিজেকে বা প্রিয়জনকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে। এছাড়া এই ফিচার আসার পর ভূমিকম্পের পরবর্তী সংস্থান সম্পর্কে সহায়তা পাওয়া যাবে।

এই ধরণের অটো ডিটেকশন ফিচার নতুন নয়। এর আগে গুগল, গাড়ি দুর্ঘটনা বা মারজেন্সি লোকেশন সিস্টেমের জন্য এই ধরণের ফিচার নিয়ে এসেছিল। তবে নতুন সিস্টেমটি সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।