ভারতে কমতে চলছে ব্রডব্যান্ড পরিষেবার খরচ, চিন্তাভাবনা শুরু সরকারের

ফিক্সড লাইন ব্রডব্যান্ড সার্ভিসের উপর লাইসেন্স কর কমাতে পারে সরকার। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে, ফিক্সড লাইন ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদান করার জন্য গৃহস্থালি থেকে অর্জিত এজিআর-র উপর লাইসেন্স কর বছরে ১ টাকায় নামিয়ে আনা হতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ অনেক কম খরচায় স্থায়ী ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিজের বাড়িতে ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি কোম্পানিগুলিও আগের থেকে একটু কম খরচে ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানের সক্ষম হবে।

সরকার সম্প্রতি তাদের কয়েকটি মন্ত্রককে এই প্রস্তাব বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এরপর ক্যাবিনেটের সমর্থন পেলেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে।

বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, স্থায়ী ব্রডব্যান্ড কানেকশন করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।। এছাড়াও work-from-home অর্থাৎ বাড়িতে বসে কাজ করার ক্ষেত্রেও এই নেটওয়ার্ক সাহায্যকারী হবে। স্থায়ী ব্রডব্যান্ড বর্তমানে ভারতে খুবই কম পরিমাণে ব্যবহার করা হয় ( ৬.১% আনুমানিক ) এবং বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্থায়ী ব্রডব্যান্ড কানেকশন ব্যবহারের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

ভারতে টেলিফোন এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেকশনের ঘনত্ব অত্যন্ত কম।। গত ছয় বছরে স্থায়ী ব্রডব্যান্ড কানেকশন সাবস্ক্রাইবার ৪% বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯ মিলিয়ন, যেখানে মোবাইল ব্রডব্যান্ড সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৫৩.৯% বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬০৬ মিলিয়ন। এক্ষেত্রে চীনে স্থায়ী ব্রডব্যান্ড কানেকশনের ঘনত্ব ৮৬%। রিলায়েন্স জিও ব্রডব্যান্ড আসার পর বেশ কিছুটা বাজারে পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। গতবছর রিলায়েন্স জিও তাদের জিও ফাইবার সার্ভিস নিয়ে এসেছিল।। এই সার্ভিস যদি ভবিষ্যতে তারা আরও বেশি বাড়াতে পারে তাহলে ভারতের ব্রডব্যান্ড কানেকশনে উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পে-টেলিভিশনের দাম ওটিটি প্ল্যাটফর্মের থেকে বেশি।। এই কারণে সেখানে মানুষ টেলিভিশনে থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট দেখতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু ভারতে টেলিভিশন অর্থাৎ কেবিল এবং ডিটিএইচ কানেকশন এর দাম ওটিটি প্ল্যাটফর্মের থেকে কম। ঠিক এই কারণেই ভারতের মানুষ ইন্টারনেটে কনটেন্ট দেখার থেকে টিভিতে দেখতে বেশি পছন্দ করেন। যার ফলে স্থায়ী ইন্টারনেট কানেকশন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বেশ কিছুটা কমে যায়।