Cryptocurrency: বিটকয়েন, ইথারিয়ামের মতো ডিজিটাল মুদ্রাকে স্বীকৃতি দিতে পারে কেন্দ্র

ভারত সরকারের থেকে বিটকয়েন, ডোজকয়েন দের 'ডিজিটাল অ্যাসেট' এর তকমা প্রাপ্তির সম্ভাবনা

government-unlikely-to-ban-cryptocurrencies-could-call-digital-asset

Cryptocurrency in India: ভারতে এখনই অবৈধ হচ্ছে না ক্রিপ্টো-মুদ্রার ব্যবহার। ডিজিটাল মুদ্রার আইনি অবস্থান নিয়ে আপাতত মধ্যপন্থার পথেই হাঁটতে চলেছে সরকার। সূত্র মারফত খবর, দেশ জুড়ে ডিজিটাল মুদ্রার সুনিয়ন্ত্রিত চলাচলের উদ্দেশ্যে পার্লামেন্টে পাশ হতে পারে নতুন বিলও।

গত বছর, ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার নিয়ে সরকারের বেশ কঠোর মনোভাবে দেখা গিয়েছিল। আইনানুগ ভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি-কে নিষিদ্ধ তকমা দিতে উদ্যত হয়েছিল কেন্দ্র। শুধুমাত্র নিষিদ্ধ করাই নয়, এই ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিনিময়যোগ্য ভার্চুয়াল মুদ্রা নিয়ে ব্যবসাকে রীতিমতো শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সরকারের তরফে। চলতি বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের পূর্বে এ সম্পর্কিত বিল ও প্রস্তাবিত হয়েছিল পার্লামেন্টে। তবে এবছরে সরকারের অবস্থানে পরিলক্ষিত হয় আমূল বদল। ইকোনোমিক টাইমস এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষিদ্ধকরণের থেকে শতহস্ত দূরে গিয়ে ক্রিপ্টো মুদ্রা কে ডিজিটাল অ্যাসেট বা সম্পদের মর্যাদা দিতে পারে কেন্দ্র। তবে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাতে চাপতে পারে বেশ কিছু নিয়ম, বিধিনিষেধও।

ভার্চুয়াল কারেন্সি নিয়ে আইনি চাপানউতোর ভারতে নতুন নয়। ডিজিটাল মুদ্রার আইনি বৈধতা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই উঠেছে অনেক প্রশ্নচিহ্ন। তথাকথিত অবৈধ না হলেও, যেহেতু সেন্ট্রাল ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় এই মুদ্রা, তাই চুরি, জালিয়াতির ঝুঁকি বেশ অনেকটাই বেশি। ফলত গোটা ক্রিপ্টো জগত তাকিয়ে ছিল ডিজিটাল মুদ্রার যথাযথ আইনি অন্তর্ভুক্তির দিকে। দাবি উঠেছিল ক্রিপ্টো কে পুরোপুরি আইন স্বীকৃত মুদ্রার মর্যাদা দেওয়ার পক্ষেও। দেশে প্রচলিত সাধারণ মুদ্রার মতো আইন স্বীকৃত হওয়া অধরা থাকলেও বিটকয়েন, ডোজকয়েন দের ‘ডিজিটাল অ্যাসেট’ এর তকমা প্রাপ্তির সম্ভাবনাও দেশীয় ক্রিপ্টো -লেনদেনকারীদের জন্য যথেষ্ট স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে।

ক্রিপ্টো নিয়ে কেন্দ্রের এমন হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলের কারণ হিসেবে দেশজুড়ে ক্রিপ্টো মুদ্রার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে দায়ী করাই যায়। বর্তমানে ভারতে ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৫ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এর পাশাপাশি ডোজকয়েন, শিবা ইনুর মতো অল্টকয়েনের দিকেও ঝুঁকেছে দেশের যুব সমাজ। ডিজিটাল মুদ্রার অবৈধকরণ এই বিপুল সংখ্যক ক্রিপ্টো নির্ভর জনসংখ্যার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এ আশঙ্কাতেই সম্ভবত দুদিকের সমতা বজায় রেখে মধ্যপন্থার পথ বেছে নিয়েছে সরকার।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ও ক্রিপ্টো মুদ্রা সম্পর্কিত সমস্ত ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক বিচার করেই, এ সম্পর্কিত একটি নতুন বিলের খসড়া তৈরির পরিকল্পনা চলছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফে। তবে, কে বা কারা ক্রিপ্টো ব্যবহারের উপযুক্ত সে বিষয়ে আসতে পারে কিছু নিয়মবিধি। কেবল, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ থাকলেই ঘরে বসে ক্রিপ্টো র অবাধ লেনদেন হয়তো এবার থেকে আর সম্ভব হবে না নতুন আইনে।

২০২২ কেন্দ্রীয় বাজেট সেশনে, পার্লামেন্টে এই বিল পাশ হলে দেশে ক্রিপ্টোর লেনদেন আইনসিদ্ধ হবে অবশ্যই, তবে তা ভারতীয় মুদ্রার প্রতিস্থাপক হয়ে উঠবে না কখনই। অতএব বেচাকেনার ক্ষেত্রে এখনও ব্রাত্যই থাকছে বিটকয়েন, ডোজকয়েনরা।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।