স্মার্টফোনের পর সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ ভারত সরকারের

কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় টেলিকম এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছিলেন যে সরকার স্মার্টফোন এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্মাণে ভারতকে বিশ্ববাজারে প্রথম স্থানে নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর। এই পরিকল্পনার পরিপূরক হিসেবেই সরকার PLI বা প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনভেস্টমেন্ট স্কিমের সূচনা করেছে – সেকথাও ওই সময় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন রবিশঙ্কর। তবে এবার, এদেশে ইলেক্ট্রনিক চিপ এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ওপর জোর দিতে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারত সরকার। এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে ভারতের ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY), সম্প্রতি বিভিন্ন কোম্পানীকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি ইলেকট্রনিক চিপ প্রস্তুতিকরণকে ত্বরান্বিত করার জন্য বিশেষ ভর্তুকি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে মন্ত্রক। এখানেই শেষ নয়, MeitY, প্রয়োজনে বিদেশী সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারীদের অধিগ্রহণের ব্যাপারেও ভাবার জন্যও সংস্থাগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে। ঠিক কী ভাবছে MeitY? আসুন এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

আসলে স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যের উৎপাদক হিসেবে উপরের দিকে উঠে আসতে গেলে দেশে ওয়েফার/ডিভাইস ফ্যাব্রিকেশনের সুযোগ-সুবিধাকে আরো উন্নত করতে হবে। এজন্য সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারী বৃহৎ কোম্পানীদের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন, যারা দেশজুড়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিক চিপ প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে। তাই MEITY তাদের EoI(এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট) প্রস্তাবে বিনিয়োগকারীদের আহ্বানের পাশাপাশি ভর্তুকি সহ সর্বপ্রকার সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, এজন্যে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের আগামী ৩১শে জানুয়ারি, ২০২১ এর মধ্যে সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করতে হবে।

আসলে ডিজিটাল বিপ্লবের সমান্তরালে ইলেকেট্রনিক দ্রব্য উৎপাদনে চীনের মতো দেশকে টেক্কা দিতে দেশজুড়ে অসংখ্য সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট দরকার। এটি সম্ভব হলে তবেই আমরা বিশ্বে মোবাইল, আইটি হার্ডওয়্যার, অটোমোটিভ ইলেক্ট্রনিক্স, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেক্ট্রনিক্স, মেডিকেল ইলেক্ট্রনিক্স, আইওটি ও অন্যান্য দ্রব্যের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে এগিয়ে আসতে পারবো। এর ফলে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে আমরা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ইলেক্ট্রনিক্স প্রস্তুতকারক হিসেবে উঠে আসবো বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক দাবী করেছে।

অবগতির জন্য জানিয়ে রাখি, এর আগে ২০১৩ সালে সরকার দুটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটকে ছাড়পত্র দিয়েছিল যারা প্রায় ৬৩,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস দেয়। যদিও দেশে ইলেক্ট্রনিক্স উৎপাদনের উপযুক্ত পরিকাঠামো ও পলিসি লিঙ্কড মার্কেট সার্ভিস না থাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। এই সংক্রান্ত সমস্ত অভাব-অভিযোগকে ভুলিয়ে দিতে সরকার এবার পিএলআই স্কীমের কথা ঘোষণা করেছে। এই স্কীম আগামী দিনে ইলেক্ট্রনিক চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও মানোন্নয়নে সহায়তা করবে। এজন্য সরকার ৩,২৮৫ কোটি টাকার বিরাট বাজেট ঘোষণা করেছে। সামনের ৮ বছরের রূপরেখাও প্রায় তৈরী, যদিও এখন পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠান এবিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখায়নি!