সরকারি দপ্তরে BSNL ও MTNL ব্যবহার বাধ্যতামূলক করলো ভারত সরকার

govt-mandates-bsnl-and-mtnl-services-for-public-departments-of-india

ভারতীয় টেলিকম কোম্পানিগুলির মধ্যে ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL) এবং মহানগর টেলিফোন নিগম লিমিটেড (MTNL) এর অবস্থা যে খুব শোচনীয় তা আমরা সবাই জানি। নিত্য নতুন অফার দিয়ে BSNL ফের বাজার ধরার চেষ্টা করলেও তা এখনও পর্যন্ত সফল হয়নি। কিন্তু এবার সরকারের পক্ষ থেকে এই দুটি সংস্থাকে পুনরুদ্ধার করার জন্য একটি পদক্ষেপ নেওয়া হল। কেন্দ্র সরকার এখন থেকে সমস্ত পাবলিক সেক্টর ইউনিট ও বিভাগে BSNL ও MTNL-এর পরিষেবা নেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিল। এই নতুন নীতি দুটি টেলিকম সংস্থার পক্ষেই লাভজনক হবে। সরকারি দপ্তরেও আর BSNL ও MTNL ছাড়া আর কোন কোম্পানির পরিষেবা গ্রহণ করা যাবে না।

সরকারি দপ্তরে BSNL ও MTNL ছাড়া আর কোন কোম্পানি নয়

দূরসঞ্চার বিভাগের দেওয়া নির্দেশে বলা হয়েছে, “ভারত সরকারের অধীনস্থ সমস্ত মন্ত্রক/বিভাগ, CPSE, কেন্দ্রীয় স্বয়ংক্রিয় পরিষদগুলিতে BSNL ও MTNL-এর বাধ্যতামূলক ব্যবহারে ভারত সরকার স্বীকৃতি জানিয়েছে।” এই নির্দেশনামার সঙ্গে ব্যয় বিভাগ থেকে একটি চিরকুট দেওয়া হয়েছিল, যাতে লেখা ছিল BSNL ও MTNL-এর বাধ্যতামূলক ব্যবহারের এই নির্দেশ ক্যাবিনেট থেকে এসেছে। সমস্ত সরকারি দপ্তরকে এবার থেকে BSNL ও MTNL-এর পরিষেবাই ব্যবহার করতে হবে। ল্যান্ডলাইন, ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট বা লিজ লাইন সার্ভিস সমস্ত পরিষেবা হয় BSNL, নয়তো MTNL থেকে নিতে হবে।

এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে BSNL ও MTNL উভয়ের পক্ষে লাভজনক হবে। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে BSNL-এর ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৫,৫০০ কোটি টাকা, যেখানে MTNL-এর ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩,৬৯৪ কোটি টাকা। ভারতীয় ব্রডব্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে কঠিন প্রতিযোগিতার ফলে BSNL বেশ চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে BSNL-এর ব্রডব্যান্ড গ্রাহক ছিল ২.৯ কোটি। এই বছর জুলাইয়ে তা নেমে হয়েছে মাত্র ৮০ লাখ। MTNL-এর গ্রাহক সংখ্যা ২০০৮-এ ছিল ৩৫.৪ লাখ যা এই বছর নেমে হয়েছে ৩০.৭ লাখ।

প্রসঙ্গত BSNL গত মাসে তাদের সভরেন গ্যারেন্টি বন্ড থেকে ৮,৫০০ কোটি টাকা তুলেছে, যাতে তারা দেশ জুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কাজ চালিবে যেতে পারে। আরো বিভিন্ন উপায়ে টাকা তোলার বন্দোবস্ত তারা করে চলেছে। নতুন করে সরকারের এই সিদ্ধান্ত যে BSNL ও MTNL-এর পালে হাওয়া দেবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।