Bitcoin বা অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনতে চান? সতর্ক করলো সরকার

govts-share-tips-for-bitcoin-and-other-cryptocurrency-investors

Bitcoin কী? জিজ্ঞাসা করা হলে অনেকেই বলবেন, প্রথম ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (অনলাইনে তৈরি হওয়া টাকা, যার কোনও বাস্তব উপস্থিতি থাকে না কিন্তু সুরক্ষিত ব্লকচেন প্রযুক্তিতে কেনাবেচা চলতে থাকে)। তবে আরও সহজ ভাষায় বললে Bitcoin হল আধুনিক যুগের রূপকথার টাকার গাছ! রূপকথার গাছে যেমন আজ লাগালেই কাল তাতে রাশি রাশি ফল ধরার কথা প্রচলিত আছে, তেমনিই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখলে কিছুদিন বাদেই তা দ্বিগুণ হবে— ইন্টারনেট জুড়ে এমনই প্রচার চলে Bitcoin নিয়ে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই Bitcoin এবং Dogecoin-এর মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের চরমভাবে উত্তরোত্তর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।

এই বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলির কারিগরিবিদ্যা ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না, কিন্তু এই ভার্চুয়াল মুদ্রার ওঠানামায় চরমভাবে আকর্ষিত হয়ে টাকা বিনিয়োগ করে বসেন। সাইবার অপরাধীরা তাদের জ্ঞান এবং বোঝার অভাবের সুযোগ নেয়, এবং এই সুযোগটিকে হাতিয়ার করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রতারণার জালে জড়িয়ে ফেলে। এর আগে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ অনলাইনে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে Bitcoin এবং অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো শক্তিশালী অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশ সার্বিকভাবে এগুলির ব্যবহার বন্ধ করার কোনো পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে বিভিন্ন প্রচলিত ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মুদ্রাগুলির ব্যবহার চলছে সমানতালেই! তবে এবার এই ফাঁদে পা দিয়ে মানুষ যাতে সর্বস্ব না হারান সেই বিষয়ে সকল বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে এগিয়ে এল সরকার।

Twitter-এ ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Home Affairs) সেফটি এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস হ্যান্ডেল, Cyber Dost, বিনিয়োগকারীদের এই জাতীয় ক্রিপ্টো জালিয়াতি থেকে নিরাপদে থাকতে এবং তাদের এই স্ক্যামগুলির হাত থেকে বাঁচাতে চারটি সতর্কতামূলক গুরুত্বপূর্ণ টিপস শেয়ার করেছে। সেগুলি হল:

-স্ক্যামাররা ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে।

-আকর্ষণীয় অফার এবং ভুয়ো এনডোর্সমেন্টের প্রতি আকৃষ্ট হবেন না।

-প্রতারকরা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের জন্য অনলাইন ট্রান্সফার বা গিফট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করতে রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারে।

-সর্বদা সজাগ থাকুন এবং বিনিয়োগ করার আগে কোথায় করছেন সেই বিষয়ে বিশদে যাবতীয় খোঁজখবর নিন এবং প্রয়োজনে অনলাইন ক্রিপ্টো রিভিউগুলি পড়ুন।

পোস্টটির একটি সারাংশ হিসেবে বলা যায়, Bitcoin এবং অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সেই প্ল্যাটফর্মটির সম্পর্কে যাবতীয় বিবরণ জেনে রাখতে হবে, যেখানে তাঁরা তাদের টাকা বিনিয়োগ করছেন। এজন্য সেই প্ল্যাটফর্মটি সংক্রান্ত সমস্ত অনলাইন রিভিউ এবং প্ল্যাটফর্মটির অতীতের ট্র্যাক রেকর্ড পর্যালোচনা করা বেশ কার্যকর হতে পারে। WhatsApp এবং Facebook-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে পোস্ট হওয়া লোভনীয় অফারগুলি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। সর্বদা একটি লেজিট প্ল্যাটফর্ম/অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ করুন। এছাড়াও, বিনিয়োগের জন্য গিফ্ট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে অর্থ প্রদান করা উচিত নয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই সপ্তাহের শুরুতে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক, ব্যাংকগুলিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে তাদের ওয়ার্নিং কমিউনিকেশন (warning communication) প্রত্যাহার করতে বলেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) 2018 সালের একটি সার্কুলারের উল্লেখ করা হয়েছে যা 2020 সালে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছিল।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।