করোনা রিলিফ ফান্ডের ২৬১ কোটি টাকা ওয়েবসাইট থেকে গায়েব করলো হ্যাকাররা

পুরো বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের কারণে আতংকিত তখন নিজেদের কাজ হাসিল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে হ্যাকাররা। ভারতেও সাইবার ক্রিমিনালরা মানুষকে ফাঁদে ফেলতে উঠে পড়ে লেগেছে। সম্প্রতি একটি ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে একটি ওয়েবসাইট থেকে কয়েক মিলিয়ন ইউরো চুরি করলো হ্যাকাররা। এই অর্থ করোনা মোকাবিলায় ত্রাণ হিসাবে ওই ওয়েবসাইট থেকে দেওয়া হচ্ছিলো। হ্যাকাররা জার্মানির উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া প্রদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এই অর্থ চুরি করেছে। যা ভারতীয় মূল্যে প্রায় ২৬১ কোটি টাকার সমান।

আসলে হ্যাকাররা সরকারী ওয়েবসাইটের একটি কপি ওয়েবসাইট তৈরী করেছিল। এই সরকারি ওয়েবসাইট থেকে মানুষকে করোনার বিরুদ্ধে লড়তে টাকা পাঠানো হচ্ছিলো। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে হ্যাকাররা। হ্যাকাররা তাদের তৈরী ওই ভুয়ো ওয়েবসাইটের লিংক সহ ইমেল ও মেসেজ পাঠিয়েছিল মানুষকে। এরপর মানুষ না বুঝে যখন তাদের ওয়েবসাইটে নিজেদের ডেটা সাবমিট করেছে, তখন হ্যাকাররা ওই ডেটা নিয়ে সরকারি ওয়েবসাইটে জমা করেছে। তবে জমা করার সময় ব্যাংকের তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলে টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়েছে।

সরকারের কাছে এই ফ্রড সম্পর্কে ৫৭৬ টি রিপোর্ট জমা পড়ার পর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী এই স্ক্যাম মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হয়। একটি জার্মান সংবাদপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকার সাহায্য করার জন্য ৩৮০,০০০ জনকে মেসেজ পাঠিয়েছিল। এরমধ্যে ৩৬০,০০০ জন সারা দেয়। এই ৩৬০,০০০ এর মধ্যে ৩,৫০০-৪,৫০০ জনের টাকা নিয়েছে হ্যাকার।

ভারতেও হয়েছে জালিয়াতির ঘটনা :

প্রধানমন্ত্রী মোদী করোনার বিরুদ্ধে লড়তে একটি ত্রাণ তহবিল বানিয়েছিল। যাতে মানুষ সামর্থ অনুযায়ী দান করতে পারে। তিনি এই বিশেষ ত্রাণ তহবিলটির নাম দিয়েছিলেন ‘PMCARES@SBI’। তবে জালিয়াতরা এই শব্দটি থেকে ‘এস’ মুছে ফেলে এবং ‘PMCARE@SBI’ নামে একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এবং সাধারণ মানুষকে এই অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়ার জন্য আবেদন করতে থাকে।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।