হারিয়ে যাওয়া ফোনের ডেটা কিভাবে ডিলিট করবেন? জেনে নিন

How to delete data from lost or stolen phone

বর্তমান সময়ে হাতের অ্যান্ড্রয়েডই হয়ে উঠেছে আমাদের প্রাণভোমরা! ফলে, এক মুহূর্তের জন্যেও মুঠোফোনকে চোখছাড়া করার বিষয়টি সবার কাছেই না পসন্দ! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শখের অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি হারিয়ে ফেললে বা চুরি হয়ে গেলে কী হবে সেই চিন্তা আমাদের মধ্যে একাংশকেই তাড়া করে বেড়ায়। আবার যাদের সাথে এই দুর্ঘটনা ঘটে তাদের ফোন তো হাতছাড়া হয়ই, তার সাথে ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি বে-হাতে হয়ে পড়ারও ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে কী করব বা কোনোভাবে ফোনে থাকা ডেটার অপব্যবহার হলে কী হবে এইসব ভেবে আমরা প্রায় দিশাহারা হয়ে যাই। কিন্তু এতে চিন্তার তেমন কোনো ব্যাপার নেই! কারণ কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করলেই আপনি জানতে পারবেন যে কীভাবে ফোনটি খুঁজে বের করা যাবে এবং দূর থেকেই সেটিকে রিমোট লক করা যাবে বা ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি মুছে ফেলা যাবে।

এক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া অ্যান্ড্রয়েড খুঁজে সেটির ডেটা মুছে ফেলার জন্য যা করতে হবে, তা হল:

১. হারিয়ে যাওয়া ফোনে যে Google অ্যাকাউন্ট বা Gmail আইডি সংযুক্ত করা ছিল, সেই অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করে অন্য একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে তা দিয়ে সাইন ইন করুন৷

২. এরপর, https://www.google.com/android/find -এ যান অথবা Google-এ গিয়ে ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ লিখে সার্চ করুন।

৩. জানিয়ে রাখি, ফাইন্ড মাই ডিভাইস ওয়েব পেজ খোলার সাথে সাথেই, আপনার হারিয়ে যাওয়া ফোনে একটি নোটিফিকেশন উপলব্ধ হবে। তবে, আপনি যদি মনে করেন যে ফোনে কোনো নোটিফিকেশন যায়নি, তাহলে উক্ত ওয়েবপেজে প্রদর্শিত হারিয়ে যাওয়া ফোনের ছবির ডান পাশে রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করুন।

৪. রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করা মাত্রই আপনার হারিয়ে যাওয়া ফোনে আবার একটি নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। সেক্ষেত্রে যখনই ফোনটি নোটিফিকেশন পাবে, তখন আপনি মানচিত্রে এটির সম্ভাব্য অবস্থান দেখতে পাবেন। অন্যথায়, আপনি ফোনটি শেষবার অন থাকাকালীন অবস্থান বা লাস্ট নোন লোকেশন দেখতে পাবেন।

৫. তবে লোকেশন দেখতে পেলে আপনি স্ক্রিনের বাম দিকে প্লে সাউন্ড, সিকিওর ডিভাইস এবং ইরেজ (Erase) ডিভাইসের মত তিনটি অপশনও দেখতে পাবেন।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, আপনি যদি প্রথম অপশন অর্থাৎ প্লে সাউন্ড বেছে নেন, তাহলে সাইলেন্ট বা ভাইব্রেশন মোডে থাকলেও আপনার ফোন ফুল ভলিউমে টানা ৫ মিনিট ধরে বাজবে। ফলে ফোনটি কাছাকাছি থাকলে তা আপনি সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন। অন্যদিকে, সিকিওর ডিভাইস অপশনে ক্লিক করলে আপনি পিন, পাসওয়ার্ড বা স্ক্রিন লক দিয়ে দূর থেকেই ফোনটিকে লক করতে পারবেন এবং পিন/ পাসওয়ার্ড/ সাধারণ স্ক্রিন লকের সাথে যেকোনো কন্ট্যাক্ট নম্বর বা মেসেজ সংযুক্ত করতে পারেন যাতে কেউ ফোনটি খুঁজে পেলে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। আবার, ইরেজ ডিভাইসে ক্লিক করলে ফোনের নেটিভ স্টোরেজের সমস্ত ডেটা স্থায়ীভাবে মুছে যাবে । তবে একইসাথে ডিভাইসে ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ অপশনের কার্যকারিতাও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এই অপশনটি সিলেক্ট করার আগে যথেষ্ট ভাবনাচিন্তা করবেন।

তাছাড়া এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনার হারিয়ে যাওয়া ফোনে ‘লোকেশন অ্যাক্সেস’ এবং ‘ ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ অপশন দুটি টার্নড অন ছিল কিনা। তাছাড়া মাথায় রাখতে হবে যে, ফোনটি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকলে তবেই এই পদ্ধতি কাজ করবে। সুতরাং, খোয়া বা চুরি যাওয়ার পর যদি কেউ ফোনটি হাতে পেয়ে সেটিংয়ে কোনো কারসাজি করে অথবা ফোনটি সুইচ অফ করে দেয় সেক্ষেত্রে এই উপায় কোনো কাজে আসবে না।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।