ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার কিভাবে বাড়াবেন ? জেনে নিন প্রয়োজনীয় টিপস

Instagram হল পৃথিবীর এক অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। আপনি এখানে ফটো, ভিডিও এমনকি একদিনের ছোটো ছোটো স্টোরিও এতে পোস্ট করতে পারেন এবং এটি প্রমাণিত যে
Instagram হল এমন একটা প্ল্যাটফর্ম, যার সাহায্যে অনেক বড় বড় ব্রান্ড তাদের গ্রাহকদের কাছে ভালোভাবে পৌঁছতে পেরেছে। তাই এখানে ফলোয়ার বাড়ানো এত সহজ নয়। তবে আপনারা যদি আমাদের দেওয়া স্টেপগুলো ফলো করেন তবে এই কঠিন কাজটি সহজ হবে । ইনস্টাগ্রামের আসল রহস্যই হল ‘কোয়ালিটি কন্টেন্ট’। এটি ছাড়া ফলোয়ার বাড়ানো সহজ কাজ নয়, তাই নীচে কিছু টিপস দেওয়া থাকলো ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য।

১. আপনি ইনস্টাগ্রাম এ কেন ?

এটি শুনতে খুব সাধারণ লাগলেও যদি আপনি ফলোয়ার বাড়াতে চান তাহলে আপনার ইনস্টাগ্রামে আসার আসল কারণ কে খুঁজে বার করতে হবে। এরপরে সেই পয়েন্টিং অনুযায়ী স্ট্র্যাটেজি ঠিক করে আপনাকে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে।

২. প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য বা কোয়ালিটি :

আপনি ইনস্টাগ্রাম এ কখনই অল্প প্রচেষ্টায় ফলোয়ার বাড়াতে পারবেন না। যদি আপনার স্ট্র্যাটেজি ফটোকেন্দ্রিক হয় তাহলে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে আপনি যে বিষয় বা টপিক কে ফোকাসে রেখে ফটো তুলছেন তা যেন পারফেক্ট তোলা হয়। ধরুন, আপনি একটি বই হাতে কফি মাগ কে সেন্টারে রেখে ফটো দিলেন এবং ক্যাপশনে আপনি বইটির ছোটো একটি রিভিউ পোস্ট করলেন তাতে যদি আপনি কাঠের একটি টেবিল অ্যাড করতে পারেন তাহলে সেটি মানুষের চোখে খুব তাড়াতাড়ি যায়, বিষয়টি অনেক আকর্ষণীয়। আর এখানেই হবে আপনার নৈতিক জয়। এবার ধরা যাক আপনি একটি ভিডিও পোস্ট করছেন, অবশ্যই সেটিকে এডিট করে পোস্ট করুন বা তাতে সাবটাইটেল বা ক্যাপশনে টেক্সট অ্যাড করলে মানুষের চোখে তাড়াতাড়ি যায়, কারণ ভিডিও ডিফল্ট অনুযায়ী প্রথমে সাইলেন্ট থাকে

৩. বিস্তারিত ক্যাপশন দিন :

আমরা এরকম অনেক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দেখে থাকি যেগুলোতে খুব বিস্তারিত ভাবে বলা থাকে যেমন একটি ফটো পোস্ট করা হলে তার ক্যাপশনে ফটো কি কিভাবে, কখন, কেমন তোলা হয়েছে সব লেখা থাকে বা যদি কোনো রান্নার ছবি পোস্ট করা হয় তাহলে সেটির পুরো রেসিপি ক্যাপশনে থাকে।এছাড়া আমরা এরকমও দেখেছি পুরো বইয়ের রিভিউ ফটো ক্যাপশনে থাকে। এগুলো সাধারণত কোয়ালিটি কন্টেন্ট হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছায়। তাই, আপনাকে সবসময় এই ব্যপারটা মাথায় রাখতে হবে।

৪. ইনস্টাগ্রাম এ স্টোরি পোস্ট :

ইনস্টাগ্রাম আপনাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেয়, যেখানে পরপর আপনি স্টোরি পোস্ট করতে পারেন। এখানে আপনি ইনস্টাগ্রাম এর ব্যবহার কে যথেষ্ট ভাবে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছতে পারেন। কারণ আমরা দেখেছি টেকনোলজি রিলেটেড কোনো পোস্ট আমরা করে থাকলে, আমাদের পছন্দের অডিয়েনস আমাদের ‘লাভ রিয়্যাক্ট’ পাঠিয়ে থাকেন। আপনারা আপনাদের টপিক রিলেটেড লিঙ্ক ও ইনস্টা স্টোরি তে দিয়ে এর সুবিধা পেতে পারেন।

৫. অন্যদের সাথে যোগাযোগ :

কখনোই আপনারা আপনাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টিকে শুধুমাত্র ওয়্যান ওয়ের কন্টেন্ট হিসেবে তৈরী করবেন না অর্থ্যাৎ শুধুমাত্র কোয়ালিটি কন্টেন্ট পোস্ট করে বসে থাকবেনা ন। আপনাদের অডিয়েনস এর সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। তাদের পোস্টে গিয়ে ছোটো একটি কমেন্ট করুন বা লাইক দিয়ে আসুন তাদের পোস্টে। অবশ্য, এখন একটা নতুন ‘১০ বছরের চ্যালেঞ্জ’ এসেছে। এই নতুন নতুন ট্রেন্ডগুলোকে আপনাদের নজরে রাখতে হবে। এসবের সাহায্যে খুব সহজে আপনারা অডিয়েনস টার্গেট করতে পারবেন।

৬. হ্যাসট্যাগের ব্যবহার :

ইনস্টাগ্রামে হ্যাসট্যাগ একটি প্রচলিত ট্রেন্ড। এই হ্যাসট্যাগ গুলো কোনো একটা নির্দিষ্ট কমিউনিটি, পছন্দের জিনিস নিয়ে থাকে। আপনাকে মাথায় রাখতে হবে খুব বেশি হ্যাসট্যাগের প্রয়োজন নেই।তবে, আপনার কন্টেন্ট রিলেটেড হ্যাসট্যাগ দিলেই ওগুলো আপনার পোস্ট টিকে বুসট করে অডিয়েনস র কাছে পৌঁছে দেবে।

৭. বায়োর অ্যাডভ্যান্টেজ হিসেবে ব্যাবহার :

সবথেকে প্রয়োজনীয় ইনস্টাগ্রামের জায়গাটি হল এই ‘বায়ো’। এটি আপনার আইডেন্টিটি প্রকাশ করবে। যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট এর জনপ্রিয়তা চান তাহলে এই বায়োতে ডিরেক্ট লিঙ্ক দিয়ে রাখুন, এতে অডিয়েনস ক্লিক করেই আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবে।

৮. পোস্ট এর সাথে লিঙ্ক এর সংযোগ :

আপনি ইনস্টাগ্রামে একটি খুব ভালো ছবি বা ভিডিও পোস্ট করেছেন, এর সাথে ভালো ক্যাপশন ও যোগ করেছেন। তবু, আপনি আপনার ফলোয়ারদের বলুন আপনার বায়োর লিঙ্ক থেকে ঘুরে আসতে। এটি শুনতে অতি সাধারণ হলেও যথেষ্ট ভালো একটা স্টেপ, যেটা সবার জানা উচিত।আপনার অডিয়েনস আপনার পোস্ট দেখে বায়োর লিঙ্কে প্রবেশ করলে আরো ডিটেইল এ জানতে পারবে এবং এতে সে তার সাথে কিছু রিলেট করতে পারলে তার বন্ধুদের ও ট্যাগ করবে। এতে আখেরে, আপনার ই সুবিধা হবে।

৯. ইনস্টাগ্রাম এক্সক্লুসিভ অফার :

আপনি খুব স্বাভাবিক ভাবে আপনার পেজে কোনো কন্টেস্টের আয়োজন করতে পারেন। তবে ব্র্যান্ড হিসেবে ইনস্টাগ্রামে আপনি একটি ডিসকাউন্ট পেতে পারেন। সে জন্য আপনি আপনার ফলোয়ারস দের একটি করে ডিসকাউন্ট কুপন অফার করুন। হতে পারে আপনি সপ্তাহে একটি কন্টেস্ট পেলেন, যেখানে আপনি মন খুলে আপনারা কি প্রমোট করছেন বা শেয়ার করার উদ্দেশ্যে কি, এসব সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন এবং সঠিক উত্তর দাতার সাহায্যে তখন আপনি আপনার কন্টেন্ট বা পোস্ট এর প্রমোশন করতে পারবেন।

পড়ুন : অনলাইনে টাকা আয়ের সেরা ৫টি উপায়

Last Updated on