ফোনে আসা একটা ওটিপি তেই নিঃস্ব হাজার হাজার মানুষ, কিভাবে বাঁচবেন জেনে নিন

  

বিগত কয়েক বছর ধরে ভারতে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার অনেক বেড়েছে। শুধুমাত্র মেট্রো সিটি নয় ভারতের সর্বত্র এখন পেটিএম অথবা ভীম ইউপিআই মাধ্যমে পেমেন্ট করা হয়। তবে এর সাথে সাথেই ডিজিটাল পেমেন্টের সঙ্গে যুক্ত জালিয়াতিও বেড়েই চলেছে। বিশেষত যেসব লোকেরা সবে সবে ডিজিটাল পেমেন্ট করা শিখছেন তাদেরকে ঠকানো খুবই সহজ এই ক্ষেত্রে । এবং এই জালিয়াতির মধ্যেও সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি ফ্রড। আসুন তাহলে আমরা জেনে নিই কি এই ওটিপি ফ্রড এবং কিভাবে থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

কি আসলে এই ওটিপি ফ্রড-

ডিজিটাল পেমেন্ট করার সময় ব্যবহারকারীর কাছে একটি মেসেজের মাধ্যমে একটি পাসওয়ার্ড পাঠানো হয়, এটা যাচাই করতে যে সেই ব্যক্তিই পেমেন্ট করছে কিনা। এই পাসওয়ার্ডটিই হল ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি। পেমেন্টের সময়ে ওটিপি না দিলে আপনি পেমেন্ট সম্পূর্ণ করতে পারবেন না। এই ওটিপি কারো সাথে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখানেই নতুন নতুন ব্যবহারকারীদের জালিয়াতরা ফোন করে তাদের থেকে এই ওটিপি জেনে নিয়ে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা তুলে নিতে পারে। নিচে বলা সমস্ত স্টেপগুলি যদি আপনারা পালন করেন তাহলে আপনারা ওটিপি জালিয়াতি থেকে নিজেদের রেহাই দিতে পারবেন।

কারোর সাথে কখনো ওটিপি শেয়ার করবেন না-

অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে ওটিপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড কারোর সাথে শেয়ার করবেন না, সে যত কাছের মানুষই হোক না কেন। আপনার থেকে অনেক সময় জালিয়াতরা ব্যাঙ্ককর্মী সেজে ফোন করে আপনার থেকে এই ওটিপি চাইতে পারে তারপর আপনার ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আপনাকে জালিয়াতির শিকার বানাতে পারে। তাই তাদের কাছে কখনোই এই ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না।

পেমেন্টের সময় সোর্স এবং আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্রেডিট ব্যালেন্সের উপর নজর রাখুন-

পেমেন্টের সময় ওটিপি দেওয়ার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন যে পেজে ওটিপি দিতে হচ্ছে সেই পেজটির সোর্স ঠিক আছে কিনা। এবং অবশ্যই আপনার ব্যাংকের ক্রেডিট ব্যালেন্সের দিকেও নজর রাখবেন। যদি মনে হয় পেজের সোর্সটি ঠিকঠাক নয় তাহলে তখনই পেমেন্ট ক্যান্সেল করে দিন।

টাকা রিসিভ করার সময় ওটিপি লাগেনা-

আপনাকে একটা কথা অবশ্যই জেনে রাখা উচিত যে ওটিপি-র ব্যবহার শুধুমাত্র টাকা দেওয়ার সময় হয়, এবং টাকা নেওয়ার সময় কোন ওটিপি দরকার লাগে না। বিগত কিছুদিন এ এমন কিছু মামলা সামনে এসেছে যত দেখা যাচ্ছে জালিয়াতরা টাকা দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তাদের ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডটি জেনে নিয়ে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই টাকা তুলে নিয়েছে।

স্মার্টফোনে শুধু অফিশিয়াল অ্যাপের ব্যবহার করুন-

জালিয়াতরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে নকল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যাংকের সমস্ত ডিটেইলস চুরি করে নেয়। উদাহরণস্বরূপ এমন কিছু ক্যালকুলেটর অথবা টর্চের অ্যাপ আছে যারা আপনার কন্টাক্ট ডিটেইলস এবং আপনার ফোনের সমস্ত ফাইল ডিটেইলসের পারমিশন চায়। প্লে স্টোর থেকে যেকোনো অ্যাপ হঠাৎ করে ইন্সটল করে দেওয়ার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন যে সেই অ্যাপটি কি কি পারমিশন চাইছে। যদি মনে হয় যে পারমিশন বেশি চাইছে তাহলে অ্যাপটিকে আনইন্সটল করে দিন। শুধুমাত্র অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন।

কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করুন-

যদি আপনার কোন ক্ষেত্রে মনে হয় যে আপনার সঙ্গে কোন জালিয়াতি করা হয়েছে তাহলে তৎক্ষণাৎ আপনার ব্যাংকের অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করুন। ইন্টারনেটে কাস্টমার কেয়ার নম্বর বলে অনেক ভুয়ো নম্বর দেওয়া থাকে তাই একমাত্র আপনার ব্যাংকের অফিসিয়াল নম্বরেই ফোন করবেন। এবং অবশ্যই কোন ফেক অফারের জালে জড়িয়ে পড়বেন না।

Amazon এ প্রোডাক্ট কিনতে এখানে ক্লিক করুন

পড়ুন : দিন দিন ফোন স্লো হয়ে যাচ্ছে? ফাস্ট করার উপায় জেনে নিন

সব খবর পড়তে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন – এখানে ক্লিক করুন