ভারতে বিটকয়েন সহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যান করে দেশীয় ডিজিটাল মুদ্রা চালুর ভাবনা মোদী সরকারের

india-may-ban-cryptocurrencies-and-create-official-digital-currency

বিগত কয়েক মাসে দেশের বহু নিয়ম কানুন বা আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে ভারত সরকার। বিশ্ব দরবারে ভারতকে প্রযুক্তি, ব্যবসা ইত্যাদি বিষয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে জোর দেওয়া হয়েছে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিতেও। তবে এবার, সরকার বিটকয়েনের মতো বেসরকারী ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবস্থাকে নিষিদ্ধ করার জন্য একটি আইন প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। সূত্রের দাবি, তৃতীয় পক্ষের বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (cryptocurrencies) সিস্টেমকে ব্যান করে দেশীয় ডিজিটাল মুদ্রা চালু করতে পারে মোদী সরকার। এক্ষেত্রে সরকার কে সহায়তা করবে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI।

গত শুক্রবার, সংসদের নিম্নকক্ষের ওয়েবসাইটে একটি আপডেট প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সম্পূর্ণ আইন মেনে সরকারী ডিজিটাল মুদ্রা তৈরির জন্য একটি সহজ কাঠামো তৈরি করবে RBI। বর্তমানে সংসদীয় অধিবেশনে এই বিষয়টি আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী দিনে সরকার আইন করে ভারতে প্রচলিত সমস্ত প্রাইভেট ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করলেও, প্রযুক্তি এবং এর ব্যবহারের ভিত্তিতে কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ব্যতিক্রম হিসেবে ছাড় দিতে পারে — এমনটাই বলছে রিপোর্ট।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারত সরকারের প্যানেল সমস্ত প্রাইভেট ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করার এবং এগুলি ব্যবহার করলে যে কোনও ব্যক্তিকে শাস্তি হিসেবে ১০ বছর অবধি কারাদণ্ড বা মোটা অঙ্কের জরিমানা করার জন্য সুপারিশ করেছিল। তারও আগে, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিটকয়েনের মতো ভার্চুয়াল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন বা ব্যবসা করতে নিষেধ করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
তবে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট দেশের ব্যাংকগুলিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন পরিচালনা করার অনুমতি দেয় যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা তো বাতিল করেছিলই একই সাথে এই সমৃদ্ধ শিল্পকেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল। সেক্ষেত্রে এখন বেসরকারী ডিজিটাল মুদ্রা চালু করা হবে কিনা সেই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে বিবেচনা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

কী এই বিটকয়েন?

যারা জানেন না তাদের বলে রাখি, বিটকয়েন হল ওপেন-সোর্স ক্রিপ্টোকারেন্সি যা সাধারণত ডিজিটাল মুদ্রা হিসেবেই পরিচিত। এটির মাধ্যমে লেনদেনের জন্য কোন ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন হয় না এবং অনলাইনের ভিত্তিতে রিসিভার-সেন্ডারের মধ্যে এটির বিনিময় হয়। এছাড়া এটি কোন দেশের সরকার কর্তৃক প্রচলিত মুদ্রাও নয়।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সরকারগুলি ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলি নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলি সন্ধান করছে, তবে কোনো শক্তিশালী অর্থনীতি সমৃদ্ধ দেশ এখনও এই বিটকয়েন নিষেধাজ্ঞার মত কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও এই ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারকারীদের তথ্যের অপব্যবহার এবং আর্থিক ব্যবস্থায় এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে একাধিক আশঙ্কার সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে। তাই আগামী দিনে যদি ভারত এই প্রাইভেট ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করে তাহলে তা বিশ্বের অর্থনীতিতে বেশ হইচই ফেলবে – সে কথা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না!

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন