২০২২ সালে ভারতে চালু হতে পারে 5G, জানালো তেজস নেটওর্য়াক

india-may-roll-out-5g-in-2022-says-tejas-networks

বর্তমান সময়ে সবার চাই নতুনত্ব, আবার দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারের লোভ সামলাতে পারছেনা অনেকেই। এই কারণে অনেকেই পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রবর্তনের প্রত্যাশা করছেন। এই মুহূর্তে ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের প্রশ্ন – কবে চালু হবে ৫জি (5G)?
এর আগে শোনা যাচ্ছিল, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতে চালু হবে ৫জি নেটওয়ার্ক। কিন্তু সম্প্রতি বেঙ্গালুরু ভিত্তিক সংস্থা তেজস (Tejas) নেটওয়ার্ক জানিয়েছে যে ভারতে ৫জি পরিষেবা রোলআউট হতে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। নিজের বিনিয়োগ উপস্থাপনায় সংস্থাটি ৫জি রোল আউটকে হাইলাইট করে আরো জানিয়েছে যে এটি দেশে সেল টাওয়ারগুলির ফাইবারাইজেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।

আসলে ২০২১ সালের মার্চ মাসের গোড়ার দিকে ভারত সরকার কর্তৃক স্পেকট্রাম নিলাম করার কথা থাকলেও, দেশের টেলিকম বিভাগ (DoT) ৩৩০০ মেগাহার্টজ থেকে ৪২০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড স্পেকট্রামের নিলাম অনুষ্ঠিত করবে না। এদিকে এই স্পেকট্রাম ব্যান্ডটি ৫জি নেটওয়ার্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তবে, উল্লিখিত ব্র্যান্ডটি ছাড়াও আরো অন্যান্য স্পেকট্রাম ব্যান্ড রয়েছে যা ৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তারের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এগুলি সাধারণ সি-ব্যান্ডের তুলনায় ভাল কভারেজ সরবরাহ করতে পারে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইসিআইসিআই সিকিউরিটি ফার্মের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরণের ব্যান্ডগুলির মধ্যে রয়েছে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ড, ২৩০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড, ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড। ইতিমধ্যে বহু গ্লোবাল অপারেটর এই স্পেকট্রাম ব্র্যান্ডগুলিকে ৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তার বা ডেপ্লয়মেন্টের কাজে ব্যবহার করছেন। আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজের মতে এই ব্যান্ডগুলি ভারতের বহু টেলকো-র কাছে উপলব্ধ রয়েছে অথবা এগুলিকে নিলামাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি তথা রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)-র কর্ণধার মুকেশ আম্বানি জানিয়েছিলেন যে ২০২১ সালে দেশে ৫জি পরিষেবার রোলআউট শুরু হবে। যদিও ভারতী এন্টারপ্রাইজ তথা এয়ারটেল (Airtel)-এর তরফে সুনীল মিত্তাল বলেন যে ৫জি নেটওয়ার্কের বিকাশে এখনও দু-তিন বছর সময় লাগতে পারে।

এদিকে, তেজস নেটওয়ার্ক বলেছে যে তারা আশা করছে আগামী তিন-চার বছরে ফাইবার ভিত্তিক হোম ব্রডব্যান্ড কানেকশনের বেস তিন মিলিয়ন থেকে ১০০ মিলিয়নে পৌঁছে যাবে। ভারত সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচি, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রোডাক্ট উৎপন্নের জন্য অর্থাৎ স্বদেশে পণ্য উৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এমনকি, সরকারের পারফরম্যান্স লিংকড ইনসেন্টিভ (PLI) প্রোগ্রামের আওতায় তেজস নেটওয়ার্কের পণ্যাদিও তৈরি হবে বলে জানা গিয়েছে।