ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরিতে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হয়ে উঠবে ভারত, জানালেন গডকড়ী

ইলেকট্রিক গাড়ি ও ইলেকট্রিক গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হয়ে উঠবে। কেন্দ্রীয় পরিবহণ এবং অতিক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী গতকাল Amazon-এর “Smbhav” (পড়ুন সম্ভব) ভার্চুয়াল সামিটের অন্তিম দিনে এমনই দাবি করেছেন। অনুষ্ঠানে গডকড়ী বলেছেন, “ভারত বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির দিকে এগিয়ে চলেছে। যথা সময়ে আমরা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী দেশে পরিণত হব।”

কিসের ভিত্তিতে এই দাবি? গডকড়ী ব্যাখ্যা করেছেন,” বৈদ্যুতিন গাড়ি শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির উৎপাদন এই বছরের শেষের দিকে ভারতে শুরু হয়ে যাবে। ভারত সবুজ শক্তি তৈরিতে অসাধারণ দক্ষতা পেয়েছে। আমার বিশ্বাস, ছ’মাসের মধ্যেই আমরা ১০০ শতাংশ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরি করতে পারবো৷ ভারতে লিথিয়ামের কোনো ঘাটতিই নেই।”

গডকড়ী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ভারতে ক্রুড বা অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৮ লক্ষ কোটি টাকার দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অর্থনীতিতে প্রভাব হ্রাস করতে একটি দক্ষ ও বিকল্প শক্তির সন্ধান করা জরুরি। ভারতে দূষণমুক্ত পরিবহণের বিকাশের জন্য ইলেকট্রিক মোবিলিটি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠবে, তা গডকড়ী জোর দিয়ে বলছেন।

cars-manufacturing-hub-soon-nitin-gadkari

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও যোগ করে বলেছেন, বৈদ্যুতিন দু’চাকা-তিন চাকা এবং চার চাকার গাড়ির উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হয়ে ওঠার যাবতীয় মশলা ভারতে মজুত রয়েছে। নগদ আর্থিক সুবিধা ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার বৈদ্যুতিন গাড়ির ওপর জিএসটি ৫ শতাংশ হ্রাস করা সহ অনুকূল নীতি তৈরি করে এই শিল্পকে সমর্থন করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

গডকড়ীর কথায়, বৈদ্যুতিক যানবাহনকে সবার জন্য কার্যকর বিকল্প হিসাবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।‌ যদিও বর্তমানে পেট্রোল বা ডিজেলের মতো প্রথাগত জ্বালানি চালিত আইসিই গাড়িগুলির তুলনায় বৈদ্যুতিন গাড়ি কিনতে গেলে খরচ অনেকটাই বেশি পড়ে। তবে বছর দুইয়ের মধ্যে দাম মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে বলে গডকড়ী আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আগামী দিনে বৈদ্যুতিন গাড়ি কিনতে পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির মতোই টাকা খরচ হবে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন