করোনার থাবা শিল্পে! ভারতে স্মার্টফোন বিক্রি কমলো ২ শতাংশ

indian-smartphone-market-declined-2-percent-in-2020.jpg

করোনা অতিমারীর প্রকোপ এক দিকে যেমন সারা বিশ্বের মানুষের স্বাস্থ্যে থাবা বসিয়েছে, তেমনই প্রভাব ফেলেছে অর্থনীতিতে। বিগত কয়েকমাসে লকডাউন চলাকালীন অসংখ্য মানুষ কাজ হারিয়েছেন, মানুষের হাতে টাকা কমেছে। ধাক্কা খেয়েছে প্রায় সব ছোট বড় ব্যবসা-ইন্ডাস্ট্রি। স্বাভাবিকভাবেই এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে স্মার্টফোন বাজারেও। এমনিতে মার্কেট হিসেবে ভারতবর্ষ, প্রতিটি স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে স্বর্গরাজ্য; বিভিন্ন ব্র্যান্ড, প্রায় প্রতিদিনই তাদের নতুন নতুন স্মার্টফোন নিয়ে আসে এই ক্রমবর্ধমান বাজারে। সেক্ষেত্রে, ২০১৯ সাল অবধি নিয়মিত বেড়েছে স্মার্টফোন বিক্রির হার। কিন্তু গতবছর ভারতে স্মার্টফোন বিক্রি ব্যবসা প্রথম বারের মত ধাক্কা খেয়েছে! IDC ( ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন)-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০-তে ২% স্মার্টফোন কম বিক্রি হয়েছে।

এক্ষেত্রে, গত বছর যে পাঁচটি ব্র্যান্ডের ফোন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে Xiaomi, Samsung, Vivo, Realme এবং OPPO-র মত জনপ্রিয় কোম্পানির নাম। এর মধ্যে Xiaomi-র ‘Redmi’ ডিভাইসগুলি বিক্রির নিরিখে বাজারে শীর্ষস্থান দখল করলেও, ‘M’ সিরিজকে সামনে রেখে বেশ ভালো ব্যবসা করেছে Samsung। তবে ২০২০-তে অফলাইন বাজারে নিজেদের ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবার উপরে রয়েছে Vivo। আবার কম বাজেটের সেগমেন্টে, ‘C’ সিরিজকে সামনে রেখে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে Realme। এত কিছু সত্ত্বেও দেশের বাজারে সর্বমোট ১৫০ মিলিয়ন ইউনিট হ্যান্ডসেটের শিপিং হয়েছে, যার ফলে ওয়াই-টু-ওয়াই (ইয়ার টু ইয়ার) প্রবৃদ্ধি কমেছে ২ শতাংশ।

তবে IDC এটাও জানিয়েছে যে, গত বছর লকডাউন বা অন্যান্য বিধিনিষেধের দরুন স্মার্টফোনের বাজারে কিছুটা ক্ষতি হলেও বছরের শেষদিক থেকে আবার বাজার চাঙ্গা হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে ২০২০-র শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বরে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন স্মার্টফোন, অনলাইন অর্ডারের প্রেক্ষিতে ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সেক্ষেত্রে, চলতি বছর ফের স্মার্টফোনের বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এমন পূর্বাভাসই দিয়েছে IDC। সংস্থার গবেষণা পরিচালক নভকেন্দ্র সিং-এর মতে, গত বছর নানা কারণে স্মার্টফোনের বিক্রি কিছু কমলেও, লকডাউনের জন্য বাড়ি বসে অনলাইনে পড়াশোনা বা কাজ করার জন্য মানুষের জীবনে স্মার্টফোনের ব্যবহার অনেক বেড়ে গিয়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই এই গুরুত্ব অনুভূত হয়েছে। এছাড়াও ধীরে ধীরে ফের অর্থনীতি মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে ভারতে 5G প্রযুক্তিও দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। তাই সবমিলিয়ে চলতি বছরে, স্মার্টফোনের বাজার আবার তার গতানুগতিক ছন্দে প্রবৃদ্ধির দিকে এগোবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন