আইফোন নির্মাতা ও স্যামসাং সহ ২২ টি কোম্পানি ভারত সরকারের PLI স্কিমে আবেদন করলো

iphone-maker-pegatron-and-samsung-among-the-22-companies-applying-for-govt-pli-scheme

ভারতকে মোবাইল এক্সপার্ট হাব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভারত সরকার কিছুদিন আগে PLI (প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ) সহ তিনটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। এই প্রকল্পে দেশীয় ও বিদেশি কোম্পানিগুলি ভারতে ব্যবসা করে সরকারের থেকে ইনসেনটিভ পাবে। এই ইনসেনটিভ স্কিমে বড়ো বড়ো মোবাইল কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাতে ইতিমধ্যেই অনেক কোম্পানি সাড়া দিয়েছে।

অ্যাপলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার Pegatron এবং Samsung সহ ২২ টি কোম্পানি ভারত সরকারের প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ স্কিমের আওতায় ১১,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে। অ্যাপলের আরো দুটি বড়ো গ্লোবাল কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকারিং কোম্পানি উইস্ট্রন এবং ফক্সকন ও এই স্কিমের জন্য আবেদন করেছে। চীন থেকে সরিয়ে অন্য দেশে ম্যানুফ্যাচারিং ইউনিট নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা অনেকদিন ধরেই নিচ্ছে Apple সহ বেশ কটি কোম্পানি। বর্তমানে স্মার্টফোন হাব তৈরির ক্ষেত্রে ভারত সবথেকে ভালো স্থান হয়ে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই ভারতে স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট তৈরি করার মাধ্যমে এই কোম্পানিগুলি নিজেদের স্মার্টফোন রপ্তানি পুনরায় পুরোদমে শুরু করতে চাইছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

এই ২২ টি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ৫টি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি – Foxconn এর ২টি ইউনিট, Samsung, Wistron, এবং Pegatron। এবং আরও ৫টি রয়েছে ভারতীয় ব্র্যান্ড – Lava, Dixon, Micromax, Padget Electronics, Sojo and Optiemus। এই কোম্পানিগুলি ভারত সরকারের সাহায্যে ভারতে তাদের মোবাইল ম্যানুফ্যাচারিং ইউনিট স্থাপন করবে।

তবে Apple ছাড়া Foxconn অন্যান্য মার্কেট লিডার যেমন -Xiaomi, এবং নোকিয়ার জন্য স্মার্টফোন তৈরি করে। এই দুটি ব্র্যান্ড ছাড়া অন্যান্য চীনের স্মার্টফোন কোম্পানি যেমন – Oppo, Realme, OnePlus ও Vivo এই ইনসেনটিভ স্কিমে অ্যাপ্লাই করেনি।

জানিয়ে রাখি PLI স্কিম ছাড়াও আরও ২টি স্কিম ভারত সরকারের তরফ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। গত জুন মাসে ভারত সরকার গ্লোবাল কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার জন্য এই ৩টি নতুন স্কিম নিয়ে হাজির হয়। এর মধ্যে আছে – PLI, স্কিম ফর প্রমোশন অফ ম্যানুফ্যাকচারিং অফ ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট অ্যান্ড সেমিকন্ডাকটর এবং মডিফায়েড ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচরিং ক্লাস্টার । এতে সরকারের তরফ থেকে ৫০,০০০ কোটি টাকার ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়, যাতে বিশ্বের বড়ো বড়ো মোবাইল ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। PLI স্কিমের পাশাপাশি অন্যান্য দুটি স্কিমেও বিশ্বের বেশ কিছু বড়ো কোম্পানি যুক্ত হওয়ার আবেদন করেছে।

বর্তমানে চীন এবং ভারত সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে শাওমি সহ সমস্ত চীনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ভারতে তাদের স্মার্টফোন বিক্রি করতে বেগ পেতে হচ্ছে। ফলে সকল বড়ো মোবাইল সংস্থা গুলি ভাবছে যাতে চীনের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে নিজেদের ইউনিট সরানো যায়। এই সময়ে ভারতের এই নতুন ইনসেনটিভ স্কিম আশার আলো দেখাচ্ছে অন্যান্য স্মার্টফোন কোম্পানিগুলিকে।

কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ শনিবার PLI স্কিমের অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে একটি ছোট বক্তৃতাও দেন। তিনি এই বক্তৃতায় জানিয়েছেন, এই নতুন স্কিমের ফলে ভারত ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচরিং এর ক্ষেত্রে একটি বড়ো দেশ হয়ে উঠবে। এর ফলে এই দেশের লোকাল এবং গ্লোবাল মার্কেটে প্রোডাকশন বেস অনেকটা ওপরে উঠবে।

অর্থনীতিবিদদের মতামত, যদি এই স্কিম ভালোভাবে কাজ করে তাহলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ভারতে ১১.৫০ লক্ষ কোটি টাকার প্রোডাকশন হবে। এই প্রোডাকশনের ৬০% রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরি হবে এবং বাকি ভারতে বিক্রি হবে। এই প্রকল্পের ফলে লাভবান হবে ভারতের যুবসমাজ। এই প্রকল্পের কারণে ভারতে ৩ লক্ষ মানুষ সরাসরি কাজ পাবেন, এবং আরও অন্যান্য সাহায্যকারী সেক্টরেও ৩ গুন লোক নিয়োগ সম্ভবপর হবে। এবং বলাই বাহুল্য, ভারতে স্মার্টফোনের ডোমেস্টিক ভ্যালু অ্যাডিশনের পরিমাণ ১৫-২০% থেকে বেড়ে গিয়ে ৩৫-৪০% হয়ে যাবে।

PLI স্কিমে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৪০,৯৫১ কোটি টাকা গ্রেডেড ইনসেনটিভ হিসাবে ডোমেস্টিক এবং গ্লোবাল কোম্পানি কে দেওয়া হবে। কিন্তু এই গ্রেডেড ইনসেনটিভ ৫ বছরের মধ্যে ৪% – ৬% এর মধ্যে পেতে গেলে ম্যানুফ্যাকচারারদের হাই এন্ড ডিভাইস তৈরি করতে হবে তাদের ভারতীয় ফ্যাক্টরিতে। এই ধরনের হাই এন্ড স্মার্টফোন প্রোডাকশনের পরিমাণ তাদের প্রথম বছরের প্রোডাকশন লেভেল থেকে ৪,০০০ কোটি টাকা বেশি হতে হবে।

দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম বছরে ম্যানুফ্যাকচারারদের তাদের প্রথম বছরের প্রোডাকশন ভ্যালুর থেকে যথাক্রমে ৮,০০০ কোটি, ১৫,০০০ কোটি, ২০,০০০ কোটি এবং ২৫,০০০ কোটি বেশি টাকার মোবাইল বানাতে হবে। এর ফলস্বরুপ ভারতের বার্ষিক মোবাইল রপ্তানি অনেকটা বাড়বে, যা ভারতের অর্থনীতিকে আবার চাঙ্গা করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।