সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু মামলায় কিভাবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পড়তে সাহায্য করতে পারে ক্লোনিং

know-how-cloning-could-have-helped-entry-whatsapp-chats-in-sushant-rajput-case

যদি বলি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে প্রচারিত খবর কোনটি? উত্তরে আপনারা সবাই একসাথে বলে উঠবেন – সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়া। অভিনেতার মৃত্যুর তদন্ত করছে দুই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, রোজ সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যেই আপনারা শুনেছেন নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB), হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ভিত্তিতে দীপিকা পাডুকোন সহ একাধিক তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের, প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনার সাথে সম্পর্কিত ড্রাগ তদন্তে তলব করেছে। জানা গিয়েছে, ওই চ্যাটগুলি সুশান্ত সিংয়ের পুরনো ট্যালেন্ট ম্যানেজার জয়া সাহের মোবাইল ফোন থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে কীভাবে ফোন থেকে এই চ্যাটগুলি পুনরুদ্ধার করা হল বা আপনার ব্যক্তিগত চ্যাটেও কোনো তৃতীয় পক্ষের নজর রয়েছে কিনা?

অনেকেই মনে করেন, মোবাইল ফোন ক্লোনিং করেই এই গোপন চ্যাটগুলি ফাঁস করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, মোবাইল ফোন ক্লোনিং, প্রযুক্তির কোনো নতুন কৌশল নয়। ২০০৫ সালে, কিছু ভারতীয় অভিনেতাদের বিরুদ্ধে ফোন ক্লোনিংয়ের মামলা দায়ের করা হয়। এই প্রক্রিয়াটির জন্য আইনী সম্মতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু কিভাবে পরিচালনা করা হয় এই প্রক্রিয়াটিকে?

গোয়েন্দা সংস্থাগুলি, ফরেনসিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করে কোনো ইউজারের ফোনে সঞ্চিত ডেটা বৈধভাবে অ্যাক্সেস করার চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়ায় ইউজারের মোবাইলের অনন্য IMEI নম্বরটিও কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে যায়। ডোমেইন বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রোগ্রামিং দক্ষতায়, মাত্র কয়েক মিনিটে ফোন ক্লোনিং বা এক ডিভাইসের ডেটা অন্য ডিভাইসে কপি করে ফেলেন। এদিকে স্মার্টফোনের জমানায় ফোনের স্পর্শ ছাড়াই কোনো অ্যাপ্লিকেশনকে ডেটা কপি করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্লোনিং প্রক্রিয়াটি শেষ হয়ে গেলে, Google Drive (অ্যান্ড্রয়েডের জন্য) বা iCloud-এ (আইফোনের জন্য) সেভ থাকা ব্যাকআপ ডেটা ব্যবহার করে নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটগুলি অ্যাক্সেস করা হয় বলে মনে করা হচ্ছে। এবার আপনি বলবেন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় তো রেজিস্ট্রার্ড নম্বরে ফোন কল বা এসএমএসের মাধ্যমে টেম্পোরারি কোড পাঠানো হয়, তাহলে কিভাবে এমনটা সম্ভব? সম্ভব, কারণ ওই রেজিস্ট্রার্ড নম্বরে আসা টেম্পোরারি কোড, সহজেই ক্লোনড সিমে পৌঁছে যায়, যা তদন্তাধীন ব্যক্তিরা ব্যবহার করে।

এদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ, তার FAQ পোস্টগুলিতে দাবি করে অ্যাকাউন্টের ব্যাকআপগুলি ফোন নম্বর এবং গুগল অ্যাকাউন্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, কোনো তৃতীয় পক্ষ চাইলেই আপনার চ্যাট অ্যাক্সেস করতে পারবেনা। তাই কিভাবে অভিনেতাদের ওই চ্যাটগুলি অ্যাক্সেস করা হয়েছে তাই নিয়ে খটকা থেকেই যাচ্ছে।

তবে আপনি যদি, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটিকে সুরক্ষিত রাখতে চান তাহলে অ্যাপ সেটিংসে গিয়ে সিকিউরিটি সেকশন থেকে টু-স্টেপ- ভেরিফিকেশন অপশনটি অন করতে পারেন; এতে অ্যাকাউন্টটি খোলার সময় টেম্পোরারি ভেরিফিকেশন কোড ছাড়াও ৬-সংখ্যার একটি পাসকোড প্রয়োজন হবে।