অল্প সময়েই ৩০ লক্ষ ডাউনলোড হল দেশীয় ‘টুইটার’ Koo; ডেটা সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

koo-app-crosses-3-million-downloads-on-google-play-store

বাংলা তথা ভারত থেকে শীত এখনো বিদায় নেয়নি। কিন্তু দেশের রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া – সর্বত্রই এখন কৃষক আন্দোলনের আঁচে উত্তপ্ত! এই আবহে জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট টুইটার (Twitter)-এর সাথে ভারত সরকারের যে সংঘাত বেঁধেছে তাও আমাদের অজানা নয়। সেক্ষেত্রে, টুইটারকে চাপে রাখতে, সম্প্রতি মোদী সরকার কো (Koo) নামের একটি দেশীয় বিকল্প চালু করেছে। আপাতদৃষ্টিতে গোটা ঘটনাটি এখনো পর্যন্ত তেমন গুরুতর না হলেও, এরই মধ্যে কো প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে একাধিক নতুন ইউজার। গতকাল সংবাদ মাধ্যম নিউজ এইট্টিন (News 18)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কু-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মায়াঙ্ক বিদাওয়াতকা জানিয়েছেন যে, ইতিমধ্যেই গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপ্লিকেশনটির ডাউনলোডের হার ৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছে।

তবে এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় আমরা দেখেছি, এখনো পর্যন্ত Koo অ্যাপ্লিকেশনটিকে অ্যান্ড্রয়েড প্লে স্টোর থেকে ১০,০০,০০০-এরও বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে। এছাড়া, ১০.৯১ এমবি সাইজের অ্যাপটি ৪.৬ রেটিংও পেয়েছে এবং ৭১ হাজার মানুষ এটির রিভিউ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ ইউজারদের থেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে Koo। জানিয়ে রাখি, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে এরকম কোনো নির্দিষ্ট রেটিং পায়নি Koo, তবে এটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ক্যাটাগরিতে ৪.২ রেটিং পেয়েছে।

কি এই Koo?

আসলে, দিন কয়েক আগে সরকারের ফতোয়া মেনে কৃষক আন্দোলন সমর্থিত কিছু টুইট এবং টুইটার প্রোফাইল ডিলিট না করায়, সরকারের শ্যেনদৃষ্টি পরে টুইটার কর্তৃপক্ষের ওপর। ইতিমধ্যে এই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিকে কড়া নোটিশও দিয়েছে সরকার। তবে একই সাথে সরকার, আত্মনির্ভর ভারতের অংশ হিসেবে দেশীয় কো অ্যাপকে সামনে নিয়ে এসেছে৷ এই অ্যাপটি তৈরি করেছে বেঙ্গালুরু ভিত্তিক একটি স্টার্ট-আপ সংস্থা যার কো-ফাউন্ডার হলেন অপ্রামেয়া রাধাকৃষ্ণ এবং মায়াঙ্ক বিদাওয়াতকা।

তবে এটি সদ্য নির্মিত হয়নি। ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই অ্যাপটির ওপর থেকে পর্দা উন্মোচন করা হয়েছিল এবং ওই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে কো-এর প্রসঙ্গে কথা বলার পর এটি অভুতপূর্ব সাড়া পেয়েছিল। তবে এখন টুইটারের প্রতি অসন্তোষের জেরে ভারতের ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি মন্ত্রক এই অ্যাপটিকে প্রচারে নিয়ে আসার কথা ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বেরা এই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অ্যাকাউন্ট খুলেছেন।

এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, বিভিন্ন বিষয়েই টুইটারের সাথে কো-এর মিল রয়েছে৷ যেমন, কো ইউজাররা টুইটারের মতই বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বা স্ট্যাটাস আপডেট দিতে পারবেন। আবার এটিতে টুইটারের মতই ‘@’ ব্যবহার করে অন্যদের ট্যাগও করা যায়। তবে, এই অ্যাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল এটি ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া এখানে ডাইরেক্ট মেসেজ অপশনও আছে, সেখানে মেসেজের পাশাপাশি মিডিয়া ফাইল বা লিংক ইত্যাদি শেয়ার করা যায়।

কিন্তু, অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে এই ‘দেশীয় টুইটার’-এ ইউজারের ডেটা সংরক্ষিত থাকছে না। এমনকি এর মূল সার্ভার আমেরিকায় অবস্থিত হলেও সেটি তাও ঝৌ (Tao Zhou) নামক এক চীনা ব্যক্তির নামে নথিবদ্ধ। যদিও ডেটা লিক সহ এই জাতীয় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে Koo-এর নির্মাতা সংস্থার তরফে। তবে এলিয়ট অলডারসন নামের ফ্রেঞ্চ সিকিউরিটি রিসার্চার একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে দাবি করেছেন যে তিনি কিছু কো ইউজারের জন্ম তারিখ, লিঙ্গ এবং বৈবাহিক স্থিতির বিবরণ অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হয়েছেন যেখানে এই তথ্য তাদের প্রোফাইলে দৃশ্যমান অবস্থায় ছিলই না। তাই টুইটার ব্যবহার করবেন না কো – তা বিবেচনা করুন আপনারাই!

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন