iPhone 14 vs iPhone 13: দাম ও ফিচারের নিরিখে আইফোন ১৪ নাকি আইফোন ১৩ এগিয়ে দেখে নিন

iPhone 14 কি iPhone 13 সিরিজের তুলনায় কিছুটা আপগ্রেড সহ এসেছে? দেখে নিন পার্থক্য

iPhone 14 vs iPhone 13 Comparison
iPhone 14 vs iPhone 13 Comparison

গতকাল অর্থাৎ ৭ই সেপ্টেম্বর ‘Far Out’ ইভেন্ট চলাকালীন Apple চারটি নতুন মডেল সহ তাদের লেটেস্ট iPhone 14 সিরিজের ঘোষণা করেছিল। ফিচারের নিরিখে, এই নতুন আইফোন লাইনআপটি গত বছর লঞ্চ হওয়া iPhone 13 সিরিজের তুলনায় কিছুটা আপগ্রেড সহ এসেছে। যেমন, এই বছর iPhone 14 সিরিজে কোনো ‘Mini’ মডেল অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবে পরিবর্তে ৬.৭-ইঞ্চি ডিসপ্লে সহ একটি Phone 14 Plus নামক ফোনকে লঞ্চ করেছে টেক জায়ান্টটি। এছাড়াও, আলোচ্য লাইনআপের ভ্যানিলা মডেল অর্থাৎ iPhone 14 -কে এই বছরের এন্ট্রি-লেভেল অফারিং হিসাবে নিয়ে আসা হয়েছে। এই নন-প্রো আইফোন মডেলটি পূর্বসূরি মডেলের তুলনায় সামান্য কিছু আপগ্রেড পেয়েছে। এক্ষেত্রে, নবাগত iPhone 14 নাকি বিদ্যমান iPhone 13 কোনটি অধিক সেরা? এই প্রশ্নটি বর্তমানে বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। আপনিও যদি নতুন আইফোন কিনবেন নাকি পুরানো মডেল কিনেই সন্তুষ্ট থাকবেন এই ভাবনায় ভাবিত হয়ে থাকেন, তবে আমাদের প্রতিবেদন থেকে ২০২১ ও ২০২২ সালে আগত সিরিজ দুটির স্ট্যান্ডার্ড মডেল, iPhone 14 এবং iPhone 13 -এর মধ্যের দাম ও ফিচারগত তুলনামূলক আলোচনা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

iPhone 14 vs iPhone 13 : ডিসপ্লে, সেন্সর

আইফোন ১৪ লঞ্চ হয়েছে ফ্লাট-এজ অ্যারোস্পেস গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের সাথে এবং নিরাপত্তার জন্য ডিভাইসের সামনে ব্যবহার করা হয়েছে সিরামিক শিল্ড। ফোনটি একটি ৬.১-ইঞ্চির (২,৫৩২×১,১৭০ পিক্সেল) সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওলেড ডিসপ্লে সহ এসেছে, যা ১২০০ নিট পিক ব্রাইটনেস, ট্রু টোন, HDR, P3 ওয়াইড কালার গ্যামেট এবং ডলবি ভিশন সাপোর্ট করে। তদুপরি, বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি অপশন হিসেবে এতে ফেস আইডি উপলব্ধ।

আইফোন ১৩ একটি ৬.১-ইঞ্চির (২,৫৩২ x ১,১৭০ পিক্সেল) সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে সহযোগে এসেছে, ৪৬০ পিপিআই পিক্সেল ডেনসিটি অফার করে। এই ডিসপ্লে হিসেবে ওলেড প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি হ্যাপটিক টাচ ও এইচডিআর টেকনোলজি সাপোর্ট করে। এছাড়া, ওলিওফোবিক (oleophobic) কোটিংও রয়েছে ডিসপ্লে প্যানেলে, যার ফলে স্ক্রিনে আঙুলের দাগছোপ পড়বে না। আর সিকিউরিটি ফিচার হিসাবে এতে ফেস আইডি সেন্সর বিদ্যমান।

iPhone 14 vs iPhone 13 : প্রসেসর, অপারেটিং সিস্টেম, র‌্যাম, স্টোরেজ

পারফরম্যান্সের জন্য আইফোন ১৪ মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে সংস্থার নিজস্ব এ১৫ বায়োনিক প্রসেসর। ফোনটি লেটেস্ট আইওএস ১৬ অপারেটিং সিস্টেমে চলবে। সংস্থার তরফ থেকে ফোনটির র‌্যাম মেমোরি সম্পর্কিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি। তবে কিছু রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিরিজের নন-প্রো মডেলগুলি ৬ জিবি র‌্যাম অফার করবে। যদিও জিএসমেরিনা (gsmarena) প্রদত্ত লিস্টিং দেখলে উক্ত মডেল ৪ জিবি র‌্যাম সহ এসেছে। তবে এখনই নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। যাইহোক, এতে ৫১২ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ রয়েছে।

আইফোন ১৩, অ্যাপলের অত্যাধুনিক ৫ এনএম প্রসেসিং নোড ভিত্তিক এ১৫ বায়োনিক প্রসেসর সহ এসেছে। অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে এতে আইওএস ১৫ পাওয়া যাবে। যদিও, ইউজাররা চাইলে এটিকে আইওএস ১৫.৪.১ ভার্সনে আপগ্রেড করতে পারবেন। স্টোরেজের কথা বললে, উক্ত মডেলে ৪ জিবি র‌্যাম ও ৫১২ জিবি পর্যন্ত রম উপলব্ধ।

iPhone 14 vs iPhone 13 : ক্যামেরা সেটআপ

ক্যামেরা ফ্রন্টের কথা বললে, আইফোন ১৪ ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ সহ এসেছে। এগুলি হল – এফ/১.৭ অ্যাপারচার সহ ১২ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর এবং ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড সেন্সর। এই রিয়ার ক্যামেরা সেটআপে নতুন স্টেবিলাইজেশন ফিচার, ডিপ ফিউশন ও অ্যাকশান মোড সাপোর্ট করে। LED ফ্ল্যাশ লাইটটি ক্যামেরা মডিউলের ভিতরে স্থাপন করা হয়েছে। তদুপরি, সেলফি ও ভিডিও কলিংয়ের জন্য এতে এফ/১.৯ অ্যাপারচার সহ ১২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট-ফেসিং ক্যামেরা পাওয়া যাবে।

আইফোন ১৩ ফোনে ফটোগ্রাফির জন্য ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ আছে। এগুলি হল – শিফ্ট অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন প্রযুক্তি ও এফ/১.৬ অ্যাপারচার সহ ১২ মেগাপিক্সেল ওয়াইড সেন্সর এবং ১২০-ডিগ্রি FOV ও এফ/২.৪ অ্যাপারচার সহ ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স। অন্যদিকে, সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য আইফোনটির সামনে এফ/২.২ অ্যাপারচারের ১২ মেগাপিক্সেল ট্রুডেপ্থ ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।

iPhone 14 vs iPhone 13 : ব্যাটারি, চার্জিং ক্যাপাসিটি

ব্যাটারি ফ্রন্টের ক্ষেত্রে আইফোন ১৪ সম্ভবত আপগ্রেড পেয়েছে। সম্ভবত বলা কারণ, অ্যাপল তাদের এই আইফোন মডেলের ব্যাটারি ক্যাপাসিটি এখনো গোপন রেখেছে। তবে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে, সিরিজের এই ভ্যানিলা মডেলটি একক চার্জে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক টাইম অফার করবে। এছাড়া শোনা যাচ্ছে যে, আলোচ্য আইফোনে একটি ৩,২৭৯ এমএএইচ ক্যাপাসিটির ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ২০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং, ১৫ ওয়াট ম্যাগসেফ (MagSafe) চার্জিং এবং ৭.৫ ওয়াট কিউআই (Qi) ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করবে।

অন্যদিকে পূর্বসূরি আইফোন ১৩ ফোনে ৩,২৪০ এমএএইচ ক্যাপাসিটির লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আছে, যা একক চার্জে ১৯ ঘন্টা পর্যন্ত ডিভাইসকে সক্রিয় রাখবে। এক্ষেত্রে, ২০ ওয়াট বা তার বেশি পাওয়ারের অ্যাডাপ্টার দিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ফোন দুটির ব্যাটারিকে ৫০% চার্জ করা যাবে। আবার এগুলিতে ১৫ ওয়াট পর্যন্ত ম্যাগসেফ ওয়্যারলেস চার্জিং টেকনোলজিও সাপোর্ট করবে।

iPhone 14 vs iPhone 13 : পরিমাপ, আইপি রেটিং

আইফোন ১৪ সিরিজের এই স্ট্যান্ডার্ড মডেলের পরিমাপ ১৪৬.৭x৭১.৫x৭.৮ মিমি এবং ওজন ১৭২ গ্রাম। এটি IP68 সার্টিফাইড, ফলে জল ও ধুলো লাগা সত্ত্বেও ডিভাইসটির কোনো ক্ষতি হবে না।

আইফোন ১৩ ফোনের পরিমাপ ১৪৬.৭ x ৭১.৫ x ৭.৬৫ মিমি এবং ওজন ১৭৩ গ্রাম। এটিও IP68 রেটিং প্রাপ্ত, যার ফলে ডিভাইসটি জল ও ধুলে থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

iPhone 14 vs iPhone 13 : দাম

ভারতে নবাগত আইফোন ১৪ মডেলের প্রারম্ভিক মূল্য ৭৯,৯০০ টাকা রাখা হয়েছে। এই দাম ফোনটির ১২৮ জিবি স্টোরেজ যুক্ত বেস মডেলের। আর, ২৫৬ জিবি এবং ৫১২ জিবি স্টোরেজ বিকল্পের দাম যথাক্রমে ৮৯,৯০০ টাকা এবং ১,০৯,৯০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এটি পাঁচটি কালার অপশনে এসেছে, যথা – মিডনাইট, ব্লু, স্টারলাইট, পার্পেল এবং রেড।

ভারতে, পূর্বসূরি আইফোন ১৩ ফোনের ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম রাখা হয়েছে ৭৯,৯০০ টাকা। আবার ফোনটির ২৫৬ জিবি ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট কিনতে খরচ হবে যথাক্রমে ৮৯,৯০০ টাকা ও ৯৯,৯০০ টাকা। এই মডেলকে – পিঙ্ক, ব্লু, রেড, স্টারলাইট ও মিডনাইট কালারে পাওয়া যাবে। তবে শীঘ্রই এগুলি ১০ হাজার টাকা ছাড়ে বিক্রি হবে।

শুভেচ্ছা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি একদিকে যেমন ফটোগ্রাফার, তেমনি পাশাপাশি লেখিকাও। এছাড়াও তার শখের মধ্যে আছে বই পড়া, গান গাওয়া, ছবি আঁকা এবং ওয়েব ডিজাইন। শুভেচ্ছা আমাদের টেকগাপ পরিবারের একজন নতুন সদস্য।