OnePlus 11 নাকি Xiaomi 13 Pro, সাড়া জাগানো দুটি মডেলের মধ্যে কোনটি সেরা

OnePlus 11 এবং Xiaomi 13 Pro ফোন-দ্বয়ের মধ্যে কোনটি সেরা দেখে নিন

OnePlus 11 vs Xiaomi 13 Pro compared

গত ৪ঠা জানুয়ারি OnePlus তাদের হোম-মার্কেটে OnePlus 11 নামের একটি নয়া ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন উন্মোচন করেছিল, যার হাত ধরে কয়েক বছর পর ওয়ানপ্লাস ফোনে অ্যালার্ট স্লাইডারের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। এদিকে প্রথম সেলে মাত্র ২ ঘন্টার মধ্যেই ফোনটি সংস্থার আগের সব সেলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে ঘোষণা করেছে সংস্থার প্রধান লি জি (Li Jie)। ফলে বলতে দ্বিধা নেই যে OnePlus 11 বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রসঙ্গত, এরকমই আরেকটি সাড়া জাগানো হ্যান্ডসেট গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর পা রেখেছিল চীনের বাজারে। আমরা কথা বলছি Xiaomi 13 Pro স্মার্টফোনের প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে টেক-প্রেমীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন জাগবে যে – Xiaomi 13 সিরিজের এই ‘Pro’ ভ্যারিয়েন্টটিকেও কি জনপ্রিয়তার নিরিখে পেছনে ফেলে দিয়েছে OnePlus 11? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আজ আমরা, আলোচ্য দুটি 5G হ্যান্ডসেটের দাম ও ফিচার-কেন্দ্রিক তুলনামূলক আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ দাম ও বিশেষত্বের নিরিখেই একটি ফোন ‘বেস্ট সেলিং’ ডিভাইস হয়ে ওঠে, ফলে OnePlus 11 এবং Xiaomi 13 Pro ফোন-দ্বয়ের মধ্যে কোনটি সেরা নির্ধারণ করার জন্য তুলনামূলক আলোচনা করাই সর্বাধিক উত্তম উপায় হবে।

OnePlus 11 vs Xiaomi 13 Pro : ডিসপ্লে, সেন্সর

ওয়ানপ্লাস ১১ স্মার্টফোনে ৬.৭-ইঞ্চির কোয়াড এইচডি প্লাস (৩২১৬x১৪৪০ পিক্সেল) Samsung E4 AMOLED ডিসপ্লে রয়েছে। এই ডিসপ্লের ডিজাইন পাঞ্চ-হোল (কেন্দ্রীভূত) স্টাইলের এবং এর LTPO 3.0 প্যানেল ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট ও ডলবি ভিশন প্রযুক্তি সমর্থন করে। নিরাপত্তার জন্য এতে আন্ডার-ডিসপ্লে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর আছে।

শাওমি ১৩ প্রো স্মার্টফোনে কার্ভড এজ সহ ৬.৭৩-ইঞ্চির কোয়াড এইচডি প্লাস (১৪৪০x৩২০০ পিক্সেল) AMOLED ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে। এই ডিসপ্লের ডিজাইন পাঞ্চ-হোল (কেন্দ্রীভূত) স্টাইলের এবং এটি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, ১,৯০০ নিট পিক ব্রাইটনেস, এইচএলজি, এইচডিআর১০+ এবং ডলবি ভিশন টেকনোলজি সাপোর্ট করে। সিকিউরিটি ফিচার হিসাবে এতে ইন্টিগ্রেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার রয়েছে।

OnePlus 11 vs Xiaomi 13 Pro : প্রসেসর, অপারেটিং সিস্টেম, র‌্যাম, স্টোরেজ

পারফরম্যান্সের জন্য ওয়ানপ্লাস ১১ স্মার্টফোনে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ২ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। হ্যান্ডসেটটি লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৩ ভিত্তিক অক্সিজেনওএস ১৩ (OxygenOS 13) কাস্টম স্কিন দ্বারা চালিত। স্টোরেজ হিসাবে এতে ১৬ জিবি পর্যন্ত LPDDR5x র‌্যাম এবং সর্বোচ্চ ৫১২ জিবি UFS 4.0 রম বর্তমান। আবার ডিভাইসটি যাতে দীর্ঘ সময়ের ব্যবহারে ওভার-হিট না হয়ে যায় তার জন্য এই ফোনে ভিসি লিকুইড কুলিং সিস্টেম বিদ্যমান।

অভ্যন্তরীণ স্পেসিফিকেশনের কথা বললে, শাওমি ১৩ প্রো স্মার্টফোনে কোয়ালকমের ফ্ল্যাগশিপ স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ২ প্রসেসর আছে। এটি অ্যান্ড্রয়েড ১৩ ভিত্তিক লেটেস্ট এমআইইউআই ১৪ (MIUI 14) কাস্টম স্কিনে রান করে। আর স্টোরেজ হিসাবে ডিভাইসে সর্বাধিক ১২ জিবি LPDDR5 র‍্যাম এবং ৫১২ জিবি পর্যন্ত UFS 4.0 রম পাওয়া যাবে। এই ফোনেও লিকুইড কুলিং হিট ডিসিপেশন সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

OnePlus 11 vs Xiaomi 13 Pro : ক্যামেরা সেটআপ

ওয়ানপ্লাস ১১ স্মার্টফোনের ক্যামেরা বিভাগ হ্যাসেলব্লাড (Hasselblad) সংস্থার সাথে অংশীদারিত্বে ডেভলপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এতে ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। এই ক্যামেরাগুলি হল – OIS-এনাবল ৫০ মেগাপিক্সেল Sony IMX890 প্রাইমারি সেন্সর, আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স ও অটোফোকাস সমর্থিত ম্যাক্রো ভিশন সহ ৪৮ মেগাপিক্সেল Sony IMX581 সেকেন্ডারি সেন্সর, এবং ২এক্স টেলিফোটো লেন্স যুক্ত ৩২ মেগাপিক্সেল Sony IMX709 RGBW টারশিয়ারি সেন্সর। আর ডিভাইসের সামনে ১৬ মেগাপিক্সেলের সেলফি শ্যুটার দেখা যাবে।

শাওমি ১৩ প্রো স্মার্টফোনে, ইমেজিং ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জার্মানির বিখ্যাত ক্যামেরা প্রস্তুতকারক লাইকা-ব্র্যান্ডের ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সিস্টেম উপস্থিত রয়েছে। এই ক্যামেরাগুলি হল – ১-ইঞ্চির ৫০ মেগাপিক্সেল Sony IMX989 প্রাইমারি লেন্স, ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স এবং ৫০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো সেন্সর৷ ডিভাইসের সামনে ১৬ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট-ফেসিং সেলফি ক্যামেরা দেখা যাবে।

OnePlus 11 vs Xiaomi 13 Pro : ব্যাটারি, চার্জিং ক্যাপাসিটি, রেটিং

কানেক্টিভিটির জন্য ওয়ানপ্লাস ১১ স্মার্টফোনে – ৫জি, ওয়াই-ফাই ৬, ব্লুটুথ ৫.৩, ডুয়াল সিম স্লট, GNSS, NFC এবং ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট অন্তর্ভুক্ত৷ আর পাওয়ার ব্যাকআপের ক্ষেত্রে এই হ্যান্ডসেটে ৫,০০০ এমএএইচ ক্যাপাসিটির ব্যাটারি থাকছে, যা ১০০ ওয়াট ফাস্ট ওয়্যারড চার্জিং সাপোর্ট করে। আবার স্প্ল্যাশ প্রতিরোধের জন্য এটি IP54 সার্টিফিকেশন সহ এসেছে।

শাওমি ১৩ প্রো স্মার্টফোনের কানেক্টিভিটি অপশনের মধ্যে – ৫জি, ৪জি, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৫.৩, এনএফসি, আইআর ব্লাস্টার, এবং ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট সামিল রয়েছে। পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য উক্ত মডেলে ৪,৮২০ এমএএইচ ক্যাপাসিটির ব্যাটারি আছে, যা ১২০ ওয়াট ওয়্যার্ড চার্জিং, ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস এবং ১০ ওয়াট রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তির সাপোর্ট করে। এক্ষেত্রে ডিভাইসটিতে সার্জ জি১ চার্জিং প্রোটেকশন চিপ উপস্থিত রয়েছে। প্রসঙ্গত, জল এবং ধুলো-প্রতিরোধী চ্যাসিস অফার করার জন্য এটি IP68 রেটিং প্রাপ্ত।

OnePlus 11 vs Xiaomi 13 Pro : পরিমাপ

ওয়ানপ্লাস ১১ স্মার্টফোনের পরিমাপ ১৬৩.১x৭৪.১x৮.৫৩ মিমি এবং ওজন ২০৫ গ্রাম।

শাওমি ১৩ প্রো স্মার্টফোনের পরিমাপ ১৬২.৯x৭৪.৬x৮.৪ মিমি এবং ওজন ২১০ গ্রাম।

OnePlus 11 vs Xiaomi 13 Pro : দাম

ওয়ানপ্লাস ১১ স্মার্টফোনকে মোট তিনটি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে নিয়ে আসা হয়েছে। যার মধ্যে ১২ জিবি র‌্যাম+২৫৬ জিবি স্টোরেজ যুক্ত বেস মডেলের দাম থাকছে ৩,৯৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৪৭,৯০০ টাকা)। আর ১৬ জিবি র‌্যাম+২৫৬ জিবি স্টোরেজ এবং ১৬ জিবি র‌্যাম+৫১২ জিবি স্টোরেজ যুক্ত হাই-এন্ড অপশনের দাম যথাক্রমে ৪,৩৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৫২,৭০০ টাকা) ও ৪,৮৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৫৮,৭০০ টাকা) রাখা হয়েছে। এটি বর্তমানে চীনের বাজারে – এমেরাল্ড গ্রীন ও ভলক্যানিক ব্ল্যাক কালার বিকল্পে উপলব্ধ।

শাওমি ১৩ প্রো স্মার্টফোন চারটি স্টোরেজ কনফিগারেশন সহ চীনের বাজারে আত্মপ্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ৮ জিবি র‍্যাম + ১২৮ জিবি স্টোরেজ যুক্ত বেস মডেলের বিক্রয় মূল্য রাখা হয়েছে ৪,৯৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৫৯,০৫০ টাকা)। আর, বাদবাকি ৮ জিবি র‍্যাম + ২৫৬ জিবি স্টোরেজ, ১২ জিবি র‍্যাম + ২৫৬ জিবি স্টোরেজ এবং ১২ জিবি র‍্যাম + ৫১২ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট তিনটির দাম যথাক্রমে ৫,৩৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৬৩,৯০০ টাকা), ৫,৭৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৬৮,৫৫০ টাকা) ও ৬,২৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৭৪,৫০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিভাইসটিকে – হোয়াইট, ব্ল্যাক, গ্রীন এবং লাইট ব্লু কালার অপশনে বেছে নেওয়া যাবে।