Homeমোবাইলভারতে তৈরি iPhone এর চাহিদা বিশ্বজুড়ে, ৮ মাসেই ২০ হাজার কোটি টাকার ডিভাইস রপ্তানি

ভারতে তৈরি iPhone এর চাহিদা বিশ্বজুড়ে, ৮ মাসেই ২০ হাজার কোটি টাকার ডিভাইস রপ্তানি

গত বছরের এপ্রিল-ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলারেরও (২০,৫৬৪ কোটি টাকারও অধিক) বেশি মূল্যের iPhone রপ্তানি করেছে Apple, যা গত অর্থবর্ষের প্রায় দ্বিগুণ

নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে চীনের ওপর Apple-এর নির্ভরতার কথা আমাদের কারোরই অজানা নয়। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে করোনা মহামারী এবং সেইসাথে চীনে রাজনৈতিক ডামাডোলের জন্য নিজেদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভারতের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে মার্কিনি টেক জায়েন্টটি। এমনিতে ২০১৭ সাল থেকেই ভারতে iPhone তৈরি হচ্ছে। তবে ইদানীংকালে এদেশে ডিভাইসগুলির উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি হালফিলে খবর মিলেছে যে, লেটেস্ট iPhone 14 সিরিজের হ্যান্ডসেটও ভারতে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হবে। এর সুবাদে ভারতও যে iPhone উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনকে জোর টক্কর দিচ্ছে, সেকথা বলাই বাহুল্য। তবে শুধু উৎপাদনই নয়, বিদেশে হ্যান্ডসেটগুলির রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভারত বরাবরই বেশ কার্যকর ভূমিকা অবলম্বন করে। নয়া একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল-ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলারেরও (২০,৫৬৪ কোটি টাকারও অধিক) বেশি মূল্যের iPhone রপ্তানি করেছে Apple, যা গত অর্থবর্ষের প্রায় দ্বিগুণ।

iPhone উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আরও বেশি করে নির্ভরশীল হতে চাইছে Apple

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, এতদিন পর্যন্ত চীনে সবথেকে বেশি আইফোন তৈরি হতো। উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম আইফোন উৎপাদন কেন্দ্র থাকার কারণে সেদেশের ঝেংঝো (Zhengzhou) শহর আইফোন সিটি (iPhone City) নামেও বিশেষভাবে পরিচিত। কিন্তু করোনা মহামারীর আবির্ভাবের পর থেকে পরিস্থিতি বেশ অনেকটাই পাল্টে গেছে। চীনের একাধিক শহরে কোভিড-১৯ -এর জন্য ঘনঘন লকডাউনের ফলে সাপ্লাই চেইনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বর্তমানে চীনের উপর তাদের নির্ভরশীলতা কমানোর দিকে বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে অ্যাপল। তাই হালফিলে নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যকলাপকে অন্যান্য দেশে সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করেছে কার্পেটিনা ভিত্তিক প্রযুক্তি সংস্থাটি, যার মধ্যে ভারত হল অন্যতম।

উল্লেখ্য, আইফোন ১৪-এর আগে ভারতে একাধিক আইফোন তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৩ (iPhone 13), আইফোন ১২ (iPhone 12) এবং আইফোন এসই (iPhone SE)। এর জন্য মোট তিনটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অ্যাপল, এবং সেগুলি হল – উইস্ট্রোন (Wistron), ফক্সকন (Foxconn) এবং পেগাট্রন (Pegatron)। ইতিমধ্যেই চেন্নাইয়ের কাছে ফক্সকন প্ল্যান্টে আইফোন ১৪ তৈরি করা শুরু করেছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে কার্পেটিনা ভিত্তিক টেক জায়েন্টটি তাদের পুরো আইফোন প্রোডাকশনের ২৫ শতাংশ ভারতে নিয়ে আসতে চায়। তাই এই পরিকল্পনাটিকে বাস্তবায়িত করার জন্য যাবতীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে রীতিমতো মুখিয়ে রয়েছে সংস্থাটি। জানা গিয়েছে, আইফোন ১৪-এর মডেলগুলির শিপিং শুরু হবে ফক্সকনের শ্রীপেরামবুদুর ফেসিলিটি থেকে, যা চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত। তদুপরি, ভারত সরকারের প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ বা পিএলআই (PLI) স্কিমের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত থাকছে আইফোন ১৪-এর ম্যানুফ্যাকচারিং সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়।

তবে কি আগামী দিনে চীনের দিক থেকে পুরোপুরিভাবে মুখ ফিরিয়ে নেবে Apple?

এছাড়াও সম্প্রতি একাধিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে যে, Apple-এর অন্যান্য প্রোডাক্ট, যেমন – MacBook, iPad, Apple Watch এবং Airpods-এর প্রায় ২৫ শতাংশ আগামী দিনে চীনের বাইরে তৈরি করা হবে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই এখন অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে যে, তাহলে কি ভবিষ্যতে চীন থেকে পুরোপুরিভাবে তল্পিতল্পা গুটিয়ে নেবে মার্কিনি প্রযুক্তি সংস্থাটি? এর জবাবে ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স (Bloomberg Intelligence)-এর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, অন্যান্য দেশে নিজেদের ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করলেও চীনের ওপর Apple কিন্তু এখনও বহুলাংশে নির্ভরশীল। চীনে সংস্থার সামগ্রিক ব্যবসার যতটা অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, তার মাত্র ১০% অন্য দেশে স্থানান্তরিত করতেই প্রায় আট বছরের কাছাকাছি সময় লেগে যাবে। তাই চীন থেকে এক্ষুনি পুরোপুরিভাবে তল্পিতল্পা গুটিয়ে নেওয়া মার্কিনি টেক জায়েন্টটির পক্ষে কার্যত অসম্ভব ব্যাপার বললেই চলে।

আরও পড়ুন