স্টার গ্যালাক্সি আবিষ্কারের জন্য ভারতীয় জ্যোতির্বিদদের অভিনন্দন জানালো নাসা

গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র বা ছায়াপথ পেরিয়ে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে তা জানার চেষ্টায় রয়েছে সারা বিশ্ব। আমাদের দেশও মহাকাশ বিজ্ঞানে বেশ উন্নতি করেছে। তবে এবার ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন একটি মহাজাগতিক তথ্য আবিষ্কার করেছে, যার ফলে গোটা বিশ্ব এখন ভারত তথা ISRO-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ!

আসলে পৃথিবী থেকে প্রায় ৯.৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত একটি নক্ষত্র ছায়াপথ আবিষ্কার করেছে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই ঘটনায় নতুন রেকর্ড গড়েছে ভারতের প্রথম ওয়েভলেন্থ স্পেস অবজারভেটরি, অ্যাস্ট্রোস্যাট। এই কৃতিত্বের জন্য ভারতীয় জ্যোতির্বিদদের অভিনন্দন জানিয়েছে ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্থাৎ NASA।

নাসার পাবলিক অ্যাফেয়ার অফিসার ফেলিচিয়া চৌ, ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রশংসা করে বলেছেন, বিশ্বের সমস্ত দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিজ্ঞানের অজানা রহস্য জানতে পারা যাবে, এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতি হবে। চৌ আরো বলেন, এই জাতীয় আবিষ্কারগুলি থেকে মানবজাতি কোথা থেকে এসেছে, আগামী সময়ে কোথায় পৌঁছাবে, এবং মহাকাশে তারা একা আছে কিনা বুঝতে সক্ষম হবে।

আপনাদের জানিয়ে রাখি, পুণের ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের (IUCAA) জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল, ডঃ কনক সাহার নেতৃত্বে AUDFs01 নামক নতুন গ্যালাক্সিটি আবিষ্কার করেছে। ‘অ্যাস্ট্রোস্যাট’ নামের ভারতের বহু-তরঙ্গদৈর্ঘ্যের স্পেস অবজারভেটরিটি অতি বেগুনি রশ্মির বিচ্ছুরণের মাধ্যমে এই গ্যালাক্সিটি শনাক্ত করেছে। এটির নতুন নাম দেওয়া হয়েছে “স্টার গ্যালাক্সি”।

প্রসঙ্গত, ভারতের এই প্রথম মহাকাশ পর্যবেক্ষক অ্যাস্ট্রোস্যাটটি পাঁচ বছর আগে লঞ্চ করেছিল ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO)। ইসরো-র সম্পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এটি তৈরি করেছিলেন প্রাক্তন ইমেরিটাস অধ্যাপক শ্যামট্যান্ডনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। ২০১৫ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর, এটি চালু করা হয়েছিল।

ভারতের এই অ্যাস্ট্রোস্যাট/UVIT এই চমৎকার আবিষ্কারটি করতে সক্ষম হয়েছে, তার কারণ নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের চেয়ে এটির ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ অনেক কম। IUCAA-এর পরিচালক ডঃ সোমক রায় চৌধুরী বলছেন, এই আবিষ্কারটি মহাবিশ্বের অন্ধকার যুগগুলি কীভাবে শেষ হয়েছিল এবং মহাবিশ্বে আলোর উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল সেই সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সরবরাহ করতে পারে।