DART Mission: ধেয়ে আসছে গ্রহাণু, বধ করতে আগামী বছর আত্মঘাতী মহাকাশযান পাঠাবে নাসা

নাসা ঘন্টায় ১৫,০০০ মাইল বেগে ধাবমান একটি মহাকাশযানের (spaceship) সাথে আগামী বছর একটি গ্রহাণুর সংঘর্ষ ঘটাতে চায়

nasa-save earth plans-crash-spacecraft-into-an-asteroid-in-test-of-planetary-defense

বড়োসড়ো আকারের একটি গ্রহাণু (asteroid) ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে – এমন খবর প্রায়শই আমরা শুনে থাকি। যদিও সবসময়ই কোনো-না-কোনোভাবে বিপদ কেটে গিয়ে আমাদের পৃথিবী এখনও পর্যন্ত কিন্তু সুরক্ষিতই রয়েছে। তবে সাম্প্রতিককালে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর সংখ্যা যেন বাড়ছে, আর ফলস্বরুপ একটা চিন্তা কেটে গেলে আমাদের মনে আর একটা চিন্তার উদয় হচ্ছে। শুধু আমরাই নয়, বড়ো আকারের গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে কী হবে – এই প্রশ্নটি সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত মহাকাশকেন্দ্রিক গবেষণাগার NASA (নাসা)-র বিজ্ঞানীদেরও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। তাই এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর খুঁজতে সম্প্রতি সংস্থাটি এক অত্যাশ্চর্য নতুন মিশন লঞ্চ করার পরিকল্পনা করেছে।

যদিও এই মুহূর্তে পৃথিবীর দিকে কোনো দৈত্যাকার গ্রহাণু ধেয়ে আসছে না, কিন্তু যদি কখনো আসে তাহলে তা প্রতিরোধ করতে নাসা একটি প্ল্যানেটারি ডিফেন্স টেস্ট (planetary defence test) আয়োজন করতে চলেছে। এই টেস্টের মাধ্যমে নাসা ঘন্টায় ১৫,০০০ মাইল (ঘন্টায় ২৪,০০০ কিলোমিটার) বেগে ধাবমান একটি মহাকাশযানের (spaceship) সাথে আগামী বছর একটি গ্রহাণুর সংঘর্ষ ঘটাতে চায়। এই Double Asteroid Redirection Test (DART)-এর মূল উদ্দেশ্য হল, সংঘর্ষের দ্বারা গ্রহাণুটিকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করে তার প্রকোপ থেকে পৃথিবীকে সত্যিই রক্ষা করা যাবে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা। অর্থাৎ ভবিষ্যতে সত্যিই যদি পৃথিবীর দিকে বড়ো মাপের কোনো গ্রহাণু ধেয়ে আসে, তাহলে সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে গ্রহাণুটির গতিপথ পরিবর্তন বা সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা যাবে কি না তা আগে থেকেই নিশ্চিত করে রাখা। বৃহস্পতিবার একটি প্রেস কনফারেন্সে নাসার তরফ থেকে এই DART প্রজেক্ট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে, এবং সাথে একথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই প্রকল্পটিকে বাস্তবায়িত করতে ৩৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে।

নাসার প্ল্যানেটারি ডিফেন্স অফিসার লিন্ডলে জনসনের (Lindley Johnson) মতে, এই প্ল্যানেটারি ডিফেন্স টেস্টের মূল উদ্দেশ্য হল সম্ভাব্য বিপদ ঘটার আগেই সেটির আনুমানিক ফলাফল সনাক্ত করা। তিনি আরও জানান যে, “যদিও পৃথিবীর দিকে এই মুহূর্তে কোনো গ্রহাণু ধেয়ে আসার খবর নেই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ভবিষ্যতে এরকম কোনো ঘটনা ঘটবে না। তাই চুপ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকার চাইতে আমাদের কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে নিয়ে রাখা উচিত, আর তাই আমরা এই টেস্ট করতে চলেছি। এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর কাছাকাছি ২৭,০০০ টিরও বেশি গ্রহাণুর অস্তিত্বের খবর পাওয়া গেছে, যদিও তাদের মধ্যে কোনোটিই পৃথিবীকে বিপদের সম্মুখীন করবে না।”

DART স্যাটেলাইটটি ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস (Vandenberg Space Force Base) থেকে SpaceX Falcon 9 রকেটের মাধ্যমে ২৩ নভেম্বর রাত ১০টা ২০ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হবে। যদি উৎক্ষেপণটি সঠিকভাবে এই সময়ে বা তার কাছাকাছি ঘটে, তবে আগামী বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে পৃথিবী থেকে ৬.৮ মিলিয়ন মাইল দূরত্বে এটি Didymos নামে একটি বিশাল গ্রহাণুর সাথে সংঘর্ষ করবে। একটি বড়ো ফ্রিজের মতো দেখতে এই মহাকাশযানটি বানিয়েছে জোনস হপকিন্স অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স ল্যাবরেটরি (Johns Hopkins Applied Physics Laboratory)।

জানা গিয়েছে যে, এই Didymos হল একটি বাইনারি গ্রহাণু। এর প্রাথমিক বডি সেকেন্ডারি বডি Dimorphos থেকে ২৫৫৯ ফুট দূরে রয়েছে। ৫২৫ ফুট ব্যাসের এই সেকেন্ডারি বডিকেই বলে moonlet, এবং এটিই আসলে পৃথিবীর জন্য বেশি ক্ষতিকর। আরও জানা গেছে যে, সংঘর্ষের আগে মহাকাশযান থেকে বেরিয়ে আসবে জুতোর বাক্সের সাইজের একটি ক্যামেরা। Italian Space Agency-র নির্মিত এই ক্যামেরাটি দুই বস্তুর সংঘর্ষ রেকর্ড করে যাবতীয় তথ্য জোগাড় করবে। NASA-র তরফ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই রকেটের উৎক্ষেপণ লাইভ দেখানো হবে NASA টিভি, NASA অ্যাপ এবং NASA-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। এছাড়া, মার্কিং স্পেস এজেন্সিটি এই ইভেন্টের মিডিয়া কভারেজের জন্যও আহ্বান জানিয়েছে।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।