চাঁদের পাথর, জল এবং নির্দিষ্ট খনিজ সম্পদগুলি কিনতে চায় নাসা

NASA to buy moon resources mined by private companies

এবার চাঁদের মাটিতে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। আসলে মার্কিন মহাকাশ গবেষণাকারী সংস্থা NASA, চাঁদের ‘রিসোর্স’ অর্থাৎ পাথর, জল এবং নির্দিষ্ট খনিজ সম্পদগুলি কিনতে চাইছে। এই পরিকল্পনাটিকে বাস্তব রূপ দিতে বিশ্বজুড়ে বেসরকারী বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির সন্ধান করছে NASA। সম্প্রতি মার্কিন সরকার চাঁদের খনির জন্য আইনী ব্লুপ্রিন্ট ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস” ড্রাফ্ট বা খসড়া তৈরি করার পরে, নাসা ঘোষণা করেছে – চাঁদ এবং তার বাইরে মহাশূন্যের বিভিন্ন স্থান থেকে রিসোর্স উদ্ধার ও ব্যবহার করার জন্য তারা বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির সাথে অংশীদারিত্ব চায়।

গত পরশু অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর, একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নাসা জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদের সম্পদের মালিকানা নেওয়ার এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেখানে ব্যবহারযোগ্য বা বাসস্থানযোগ্য অবস্থা তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। শুধু তাই নয়, চাঁদে নির্দিষ্ট জায়গা কেনার পর আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সেখানে মানুষ পাঠাবে নাসা।

যোগ্য অংশীদার পাওয়ার পর নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই বাণিজ্যিক সংস্থা চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে অল্প পরিমাণে চাঁদের ‘ময়লা’ বা ‘শিলা’ সংগ্রহ করবে এবং সেগুলির ছবি নাসাকে পাঠাবে। তারপর ওই সংস্থাগুলি চন্দ্র রেগোলিথ বা শিলার মালিকানা নাসাকে স্থানান্তর করবে। ওই মালিকানা স্থানান্তরের পরে, সংগৃহীত উপাদানগুলি নাসার সম্পত্তি হয়ে যাবে। এর জন্য ওই বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে অগ্রিম ১০% পুরস্কার দেবে নাসা। দ্য ভার্জের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, নাসা সংস্থাগুলিকে ২৫,০০০ ডলার অবধি দিতে প্রস্তুত।

এই বিষয়ে নাসার প্রশাসক জিম ব্রিডেনস্টাইন একটি ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, নাসা, কমার্শিয়াল সাহায্য নিয়ে লুনার সয়েল অর্থাৎ চাঁদের মাটি কিনবে। এই পরিকল্পনায় আগামী দিনে চন্দ্রবিজ্ঞানে উন্নতি হবে এবং চাঁদে বা মঙ্গল গ্রহে সহজেই মানুষ ও মহাকাশযান পাঠানো যাবে। এছাড়া আগামী দিনে মানুষ কীভাবে চাঁদে বাস করবে সেবিষয়েও ধারণা দিয়েছেন ব্রিডেনস্টাইন।