জেনে রাখুন, ১৫ই এপ্রিলের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কার্যকর হচ্ছে এই নতুন নিয়ম

new-social-media-guidelines-effected-from-15-april-all-you-need-to-know.jpg

মাত্র কয়েক বছর আগে পর্যন্ত পছন্দের সিনেমা প্রিমিয়ার বা টিভি শো-এর মাঝে শুরু হওয়া বিজ্ঞাপন বিরতি – দর্শকের মনে বিরক্তির উদ্রেক করত। যদিও এখন বিজ্ঞাপনের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মগুলি। সেক্ষেত্রে এবার, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাডভার্টাইজিং-গুলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নিয়মনীতির খসড়া নিয়ে এল অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া বা ASCI। এই নতুন নির্দেশিকার সাহায্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনগুলি নিয়ন্ত্রিত হবে বলে আশা করছে ভারতীয় পারিষদটি।

রিপোর্ট অনুযায়ী, সমস্ত আলোচনা বা প্রতিক্রিয়া বিচার-বিবেচনা করে আগামী ৩১শে মার্চ চূড়ান্ত গাইডলাইনটি ইস্যু করা হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে ১৫ই এপ্রিলের পর থেকে YouTube, Facebook, Instagram বা Snapchat-সহ সমস্ত প্রথম সারির সোশ্যাল সাইটের জন্য প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকরী হবে। এই গাইডলাইনের দরুন, যেকোনো ধরণের পেইড অ্যাডভার্টাইজমেন্টের ক্ষেত্রে আগে থেকে সেটিকে স্পন্সর কন্টেন্ট হিসেবে ঘোষনা করতেই হবে যাতে ইউজাররা বিভ্রান্ত না হন।

ASCI-র মতে, ইনফ্লুয়েন্সার বা প্রভাবশালী বিজ্ঞাপনই ধীরে ধীরে মূলধারার বিজ্ঞাপন হয়ে উঠছে। কিন্তু অনেকসময়েই এই ধরণের বিজ্ঞাপনগুলি প্রচারমূলক কিনা তা চিহ্নিত করা থাকেনা। এর ফলে, সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিরক্তির সৃষ্টি হয়। সেক্ষেত্রে, উক্ত নতুন নির্দেশিকায় অ্যাডভার্টাইজিং কাউন্সিল কড়া সুরে জানিয়েছে যে, এই জাতীয় প্ল্যাটফর্মে কোনো ছবি, ভিডিও বা ব্লগ পোস্ট করার আগে প্রতিটি ইনফ্লুয়েন্সরকে নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে যে সেই পোস্টটি বিজ্ঞাপন কিনা। তাছাড়া পোস্টে প্রোডাক্ট প্লেসমেন্টের ব্যাপার থাকলে সেখানেও ব্যবহার করতে হবে প্রি-অ্যাপ্রুভড ডিসক্লোসার লেবেল। তবে পোস্টকারীরা কিছু অনুমোদিত লেবেলই ব্যবহার করতে পারবেন এবং একবার পোস্ট প্রকাশের পর ওই লেবেল টুইক বা পরিবর্তন করা যাবে না।

জানিয়ে রাখি, বিজ্ঞাপনী ভিডিওগুলির জন্য নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, কোনো ভিডিওর সাথে যদি আলাদা করে কোনো টেক্সট পোস্ট না থাকে, তবে সেই ভিডিওতে এমনভাবে ডিসক্লোসার লেভেল রাখতে হবে যা সহজেই সবার চোখে পড়ে। এক্ষেত্রে ১৫ সেকেন্ডের কম দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে অন্তত ২ সেকেন্ড ধরে এই লেবেল রাখতে হবে। অন্যদিকে, ১৫ সেকেন্ডের বেশি অথচ ২ মিনিটের কম সময় দৈর্ঘ্যযুক্ত ভিডিওর অন্তত ১/৩ অংশে থাকবে এই লেবেল। এছাড়া ২ মিনিটের বেশি সময়সীমার ভিডিওগুলির ক্ষেত্রে গোটা অংশ জুড়ে ব্র‍্যান্ডের বা কন্টেন্টের নির্দিষ্ট লেবেল রাখতে হবে। আবার লাইভ স্ট্রিমের ক্ষেত্রেও প্রতি ১ মিনিটে ৫ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের লেবেল রাখতে হবে, যাতে দর্শক যে কোনো সময় থেকে ওই লাইভ দেখা শুরু করুক না কেন, লেভেলটি দৃশ্যমান হবে।

শুধু তাই নয়, বিজ্ঞাপনে প্রোডাক্টের উৎকৃষ্টতা সম্পর্কে যে দাবী করা হয় সে ক্ষেত্রেও আসছে কিছু বিধিনিষেধ। বলা হচ্ছে যে আগের মত আর কোনো প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনে ‘ফাস্টেস্ট স্পিড’, ‘বেস্ট ইন ক্লাস’ প্রভৃতি বিশেষণ ব্যবহার করা যাবে না। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে প্রোডাক্টের নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন উল্লেখ করতে হবে এবং তার পেছনে যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ মজুদ রাখতে হবে।

কী পরিবর্তন আসবে সোশ্যাল সাইটে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে

রিপোর্ট অনুযায়ী, ইন্সটাগ্রামের ছবি বা ভিডিও সহ যে কোনো পোস্টের শিরোনামে ডিসক্লোসার লেবেল রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে আলাদা করে কোনো লেখা না থাকলে ছবি বা ভিডিওতেই লেবেল রাখতে হবে। একইভাবে কোনো পোস্টের টাইটেলের শুরুতে ডিসক্লোসার লেবেল রাখতে হবে ফেসবুকেও। আবার টুইটারে পোস্ট বা মেসেজের ক্ষেত্রে ডিসক্লোসার লেবেল যুক্ত হবে। পিন্টারেস্ট (Pinterest)-এ মেসেজের শুরুতেই থাকবে এ জাতীয় লেবেল। আবার ইউটিউব বা অন্য ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপের ভিডিও টাইটেল বা ডেসক্রিপশনে রাখতে হবে লেবেল, অন্যদিকে স্ন্যাপচ্যাটের স্টোরি বা মেসেজের ভেতর ট্যাগ হিসেবে এই লেবেল থাকবে। এছাড়া, কোনো ভ্লগের ভেতরে যে জায়গায় কোনো প্রোডাক্টের ব্র‍্যান্ডিং করা হচ্ছে সেখানে এবং কোনো ব্লগ পোস্টের শিরোনামে এই ডিসক্লোসার লেভেলটি রাখতে হবে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন