গ্লোবাল স্মার্টফোন মার্কেট Apple, Samsung নাকি Xiaomi-র দখলে?

গত বছর গ্লোবাল স্মার্টফোন বাজারের ছবিটা বেশ পরিষ্কার ছিল। সবাইকে পিছনে ফেলে শীর্ষে ছিল Apple। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন শিপমেন্টের নিরিখে অ্যাপল সবার উপরে জায়গা করে নিয়েছে। বছরে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সাথে কোম্পানিটি গ্লোবাল বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ দখলে রেখেছে।

মজার বিষয় হল, সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোন বাজারও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ২০২৫ সালে গ্লোবাল শিপমেন্ট বেড়েছে ২ শতাংশ। টানা দ্বিতীয় বছর এই বাড়তি গতি দেখা গেল। বিশ্লেষকদের মতে, প্রিমিয়াম ফোনের প্রতি ঝোঁক, উদীয়মান বাজারে ৫জি নেটওয়ার্কের দ্রুত বিস্তার এবং সহজ কিস্তির সুবিধা নিয়ে মানুষ এখন আগের তুলনায় দামী ফোন কিনতে সংকোচ বোধ করছে না।

অ্যাপলের ক্ষেত্রে চতুর্থ কোয়ার্টার বিশেষ ছিল। iPhone 17 সিরিজের বিক্রি হঠাৎ করেই ওই সময় বেড়ে যায়। একই সঙ্গে iPhone 16 ভারত, জাপান আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই দুই সিরিজের কারণে অ্যাপলের নিজেদের জমি শক্ত করেছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে Samsung। বাজারের ১৯ শতাংশ শেয়ার ও ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির সঙ্গে কোম্পানিটি নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এখানে বড় ভূমিকা নিয়েছে Galaxy A সিরিজের মিড-রেঞ্জ ফোনগুলি। আবার প্রিমিয়াম সেগমেন্টে Galaxy S25 ও Fold 7 স্যামসাংকে লড়াইয়ে রেখেছে। জাপানে স্যামসাং ভালো করেছে, তবে ল্যাটিন আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপে ব্যবসা বাড়েনি।

তৃতীয় স্থানে আছে Xiaomi। ১৩ শতাংশ বাজার দখল করে তারা অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রিমিয়াম ও মিড-টিয়ার ফোনের ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিওর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকায় কোম্পানির চাহিদা মোটামুটি স্থির। রিপোর্টে এমনও ইঙ্গিত মিলছে যে ২০২৫ সালে চীনে শিপমেন্টের দিক থেকে Xiaomi শীর্ষে থাকতে পারে।

চতুর্থ স্থানে Vivo। প্রিমিয়াম সেগমেন্টে ভালো পারফরম্যান্স এবং ভারতে শক্তিশালী অফলাইন বিক্রির জোরেই এই সাফল্য। অন্যদিকে Oppo কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। চীনে দুর্বল চাহিদা এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে তাদের শিপমেন্ট ৪ শতাংশ কমেছে। Oppo এবং Realme-র মিলিত বাজার শেয়ার দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশে।