Mobile Security: নিরাপত্তা বাড়াতে অ্যাপের মোবাইল ক্যামেরা-মাইক্রোফোন ব্যবহারে না

ভারতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার নতুন করে ভাবছে। সাইবার অপরাধের ঝুঁকি দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সেই প্রেক্ষিতে ফোন নির্মাতা সংস্থাগুলির ওপর কিছু কড়া নিয়ম আনার প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত কমিউনিকেশন সিকিউরিটি নীতিতে অ্যাপের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, সফটওয়্যার যাচাই এবং সোর্স কোড বিশ্লেষণের মতো বিষয় উঠে এসেছে।

ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন নিয়ন্ত্রণের ভাবনা

প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও অ্যাপ যেন ইচ্ছেমতো ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করতে পারে, সেই নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে। উদ্দেশ্য একটাই, ব্যবহারকারীর অজান্তে যেন তথ্য ফাঁস না হয়। সরকার মনে করছে, এতে গোপনীয়তার অপব্যবহার অনেকটাই কমবে।

সোর্স কোড ও সফটওয়্যার যাচাই

এই নীতির আরেকটি বড় দিক হল সোর্স কোড বিশ্লেষণ। ফোন যেসব প্রোগ্রামিংয়ের ওপর চলে, সেগুলোর তথ্য ভারতীয় ল্যাবে পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজনে তদন্তও হবে। পাশাপাশি, প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপ সরানোর সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। সফটওয়্যার আপডেট বা নিরাপত্তা পরীক্ষার সব তথ্য জানাতে হবে ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমিউনিকেশন সিকিউরিটিকে।

আইনি তৈরি করার পরিকল্পনা

সূত্রের খবর, ২০২৩ সালেই খসড়া তৈরি হয়েছিল। এখন সরকার এটিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে চায়। সময়ে সময়ে অটো ম্যালওয়্যার স্ক্যানিং, আপডেটের আগাম তথ্য, এক বছর পর্যন্ত ফোন লগ ডেটা সংরক্ষণ মোট আটটি মূল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আপত্তি জানিয়েছে কোম্পানিগুলি

স্মার্টফোন নির্মাতারা বলছেন, সোর্স কোড শেয়ার করা নিরাপত্তার দিক থেকে অসম্ভব। অ্যাপল অতীতেও এমন দাবি নাকচ করেছে। এছাড়া কয়েকটা কোম্পানি বলেছে, নিয়মিত ম্যালওয়্যার স্ক্যানিংয়ে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হবে। এক বছরের ডেটা রাখার মতো স্টোরেজও বেশিরভাগ ফোনে নেই। তাদের যুক্তি, এতে সমস্যাই বাড়বে।

তবে সরকারের বার্তা পরিষ্কার। মানুষের নিরাপত্তাই প্রথম। ভারতে প্রায় ৭৫ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী আছেন। আইটি সচিব এস কৃষ্ণন জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলির মতামত খোলা মনে শোনা হবে। প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক স্তরে। শেষমেষ সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটাই দেখার।