শীঘ্রই ভারতে লঞ্চ হতে পারে ৯টি Nokia ল্যাপটপ, থাকবে i5 ও i3 প্রসেসর

স্মার্টফোন ও ফিচার ফোনের পর HMD Global কি এবার ভারতে Nokia ব্রান্ডেড ল্যাপটপও লঞ্চ করতে চলেছে? নোকিয়ার নয়টি ল্যাপটপ সম্প্রতি ভারতে BIS-এর শংসাপত্র পাওয়ার পরই এই জল্পনা তুঙ্গে। জনপ্রিয় টিপ্সটার মুকুল শর্মার টুইট থেকে জানা গেছে, নোকিয়ার NKi510UL82S, NKi510UL85S, NKi510UL165S, NKi510UL810S, NKi510UL1610S, NKi310UL41S, NKi310UL42S, NKi310UL82S, এবং NKi310UL85S মডেল নম্বরের ল্যাপটপগুলি BIS সার্টিফিকেশন লাভ করেছে।

BIS লিস্টিং দেখার পর এই সিরিজে থাকা ল্যাপটপগুলির চিপসেট ও অপারেটিং সিস্টেম অনুমান করা যায়। প্রত্যেকটি ল্যাপটপের মডেল নম্বর শুরু হচ্ছে NK দিয়ে, যা Nokia কেই ইঙ্গিত করছে। এরপর আছে i5/i3, নিঃসন্দেহে যা ল্যাপটপে কোন চিপসেট ব্যবহৃত হবে তা নির্দেশ করছে। আর তারপর 10 থাকার অর্থ এগুলি উইন্ডোজ টেন অপারেটিং সিস্টেম চলবে। লিস্টিং থেকে স্পষ্ট, এদের মধ্যে ৫ টি ল্যাপটপ ইন্টেলের i5 প্রসেসরের সাথে আসবে, আর বাকিগুলোতে i3 প্রসেসর থাকবে। এই ব্যাপারে Nokia এখনও অবশ্য কিছু জানায় নি। তবে BIS সার্টিফিকেশন পাওয়ার স্পষ্ট যে Nokia এর এই ল্যাপটপগুলি শীঘ্রই বাজারে আসছে।

BIS লিস্টিং অনুযায়ী, এই ল্যাপটপগুলি চীনের Tongfang limited ম্যানুফ্যাকচার করবে। জানিয়ে রাখি নোকিয়ার ফিচার ফোন ও স্মার্ট ফোনের বিক্রির দায়িত্ব সামলায় এইচএমডি গ্লোবাল। অপরদিকে নোকিয়ার সাথে ফ্লিপকার্টের একটি স্ট্রাটেজিক পার্টনারশীপ আছে এবং এই চুক্তি অনুযায়ী ফ্লিপকার্ট, ভারতে নোকিয়ার মিডিয়া স্ট্রিমিং ডিভাইসের পাশাপাশি নোকিয়া ব্রান্ডেড টিভিগুলিকে ডেভলপ, ম্যানুফ্যাকচার এবং ডিস্ট্রিবিউশনের সাথে ইন্ড-টু-ইন্ড-গো-টু-মার্কেট- স্ট্রাটেজিও ম্যানেজ করে। ফলে ভারতে নোকিয়ার ল্যাপটপের বিপণন কে করবে, ফ্লিপকার্ট না এইচএমডি গ্লোবাল তা নিয়ে একটা প্রশ্নচিহ্ন থাকছে।

যদি নোকিয়ার ইতিহাসের দিকে তাকানো যায়, তাহলে কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ ব্যবসাতেও এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে।  নোকিয়ার কম্পিউটার ডিভিশন Nokia Data ১৯৮০-৮৭ সাল পর্যন্ত MikroMikko লাইন আপে বেশ কিছু কম্পিউটার ও ল্যাপটপ রিলিজ করেছিল। তবে ১৯৯১ সালে নোকিয়া একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে তার কম্পিউটার আর্ম বিক্রি করে দেয়। এরপর নোকিয়া ২০০৯ সালে Nokia Booklet 3G নামে একটি নেটবুক (মিনি ল্যাপটপ) আনার কথা ঘোষনা করেছিল। উইন্ডোজ সেভেন অপারেটিং সিস্টেমে চলা এই নেটবুকের ইন্টিগ্রেটেড থ্রিজি মোডেম, এইচডি স্ক্রিন, ফ্যান-ফ্রি ডিজাইন এবং দুর্ধর্ষ ব্যাটারি লাইফ যথেষ্ট প্রশংসা আদায় করে নিয়েছিল। পরবর্তীকালে নোকিয়ার এরকম প্রোডাক্ট বাজারে অবশ্য আর দেখতে পাওয়া যায় নি। এখন দেখার বিষয়, নোকিয়া ল্যাপটপ মার্কেটে এবছরেই কামব্যাক করে কিনা।