জানুয়ারিতেই ইলেকট্রিক স্কুটার নিয়ে হাজির হচ্ছে Ola

প্রধানত ক্যাব অ্যাগ্রিগেটর সংস্থা হিসেবেই আমরা ওলাকে চিনি। তবে Ola এবার ইলেকট্রিক টু-হুইলার নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে চলেছে। আসলে ওলার EV (Electric Vehicle) আর্ম Ola Electric আগামী জানুয়ারিতেই বাজারে ইলেকট্রিক স্কুটার আনার পরিকল্পনা নিচ্ছে। পুরো বিষয়টি সর্ম্পকে অবগত একটি সূত্র মারফত এমনই সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ওলার এই ই-স্কুটার নেদারল্যান্ডে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং ফেসিলিটি থেকে আমদানি করা হবে। তারপর এটি ভারতসহ ইউরোপের বিভিন্ন বাজারেও লঞ্চ করা হবে।

Ola যে EV সেগমেন্টে প্রবেশ করতে চলেছে তা চলতি বছরের মে মাসে নেদারল্যান্ডের ইলেকট্রিক মোবিলিটি ব্রান্ড Etergo BV কিনে নেওয়ার পরই স্পষ্ট হয়ে যায়। ওলা তখন জানিয়েছিল ২০২১ সালেই তারা ভারতে ইলেকট্রিক টু-হুইলার লঞ্চ করবে। Etergo BV-র প্রসঙ্গে বললে, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ডাচ কোম্পানির প্রোডাক্ট পোর্টফোলিওতে আছে ‘AppScooter’ নামে একটি ই-স্কুটার। এই বৈদ্যুতিন স্কুটারে থাকা সোয়াইপেবল হাই ডেনসিটি ব্যাটারি একবার চার্জ দিলে ২৪০ কিমি পর্যন্ত চলতে সক্ষম। এই স্কুটারে আছে ফোর জি, ব্লুটুথ, ওয়াই ফাই, জিপিএসের মতো স্মার্ট কানেক্টিভিটি ফিচার এবং ৫০ লিটারের বিশাল সিট স্টোরেজ।

জানিয়ে রাখি, সোয়াইপেবল ব্যাটারি থাকার সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হচ্ছে, সম্পূর্ণ চার্জযুক্ত ব্যাটারির সাথে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া ব্যাটারি সহজেই সোয়াইপ করা যায়। ফলে রাস্তায় ব্যাটারির চার্জ কমে গেলেও ব্যাটারি আবার চার্জ দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে না। শুধু চার্জিং স্টেশনে গিয়ে ফুরিয়ে যাওয়া ব্যাটারি এক্সচেঞ্জ করে নিলেই হল। যদিও এই ধরনের চার্জিং স্টেশনের পরিকাঠামোর উপস্থিতি আমাদের দেশে হাতে গোনা।

সম্প্রতি একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছিল, Ola ভারতে পৃথিবীর বৃহত্তম ই-স্কুটার প্রোডাকশান প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য ১০০ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে একাধিক রাজ্য সরকারের সাথে আলোচনারত। সংস্থা সেখানে আগামী দেড়-দু’বছরের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ওলার ই-স্কুটারের প্রাথমিক ব্যাচ নেদারল্যান্ড থেকে আমদানি করা হলেও স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে এবং আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে ওলার ই-স্কুটারের ম্যানুফ্যাকচারিং এদেশেও করা হবে।

রিপোর্ট অনুসারে, Ola প্রথম বছরেই এক মিলিয়ন অর্থাৎ ১০ লক্ষ ই-স্কুটার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বর্তমানে বাজারে উপলব্ধ ফসিল ফুয়েল চালিত স্কুটারগুলির তুলনায় একে বেশ সস্তায় লঞ্চ করা হতে পারে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, ওলার মতো সংস্থার প্রবেশে ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার সেগমেন্টে আমরা আরো জোড়ালো প্রতিযোগিতা দেখতে পাবো।

টেকগাপের মেম্বাররা ও সদ্য যোগ দেওয়া লেখকরা এই প্রোফাইলের মাধ্যমে টেকনোলজির সমস্ত রকম খুঁটিনাটি আপনাদের সামনে আনে।