Xiaomi, Vivo-র পর ভারতকে ১০০০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও ৫০০টি ব্রিদিং মেশিন দিচ্ছে Oppo

oppo-donates-1000-oxygen-concentrators-breathing-machines-covid-19-india

লাগামছাড়া করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণের জেরে বিপর্যস্ত গোটা ভারতবর্ষ। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুও হচ্ছে। ভারতে COVID-19- এ এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা আজ ১.৭৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৪৩ কোটি মানুষ সেরে উঠেছেন বটে, কিন্তু ২৮ লক্ষেরও বেশি আক্রান্ত এখনও জীবনের সাথে লড়াই করে চলেছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৯৫ লক্ষ।

দেশজুড়ে হাসপাতালগুলি অক্সিজেন এবং অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারতকে সহায়তা করার জন্য ইতিমধ্যেই Google, Microsoft, Apple, Vivo, Xiaomi-র মতো বহু বড়ো বড়ো সংস্থাই এগিয়ে এসেছে; সাহায্য হিসেবে পাওয়া গেছে ত্রাণ বা অনুদান। এবার এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল Oppo।

চিনা স্মার্টফোন কোম্পানিটি একটি টুইট করে COVID-19- এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে্য মুখোমুখি ভারতীয়দের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি নিশ্চিত করেছে যে, Oppo India Team ভারতের সর্বাধিক সংক্রামিত অঞ্চলে অক্সিজেনেটর এবং ব্রিদিং মেশিন বা রেসপিরেটর সরবরাহে সহায়তা করবে। কোম্পানিটি তাদের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে একটি নোট শেয়ার করেছে যাতে অঙ্গীকার করা হয়েছে যে, সংস্থাটি প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করার জন্য ইন্ডিয়ান রেড ক্রস সোসাইটি এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ৪.৩ কোটি টাকার ১০০০ টি অক্সিজেনেটর এবং ৫০০ টি রেসপিরেটর দান করবে। অপ্পো আরও দাবি করেছে, যে হাসপাতালগুলিতে প্রয়োজন বেশি সেখানে এই মেশিনগুলি সরবরাহ করা হবে।

এছাড়াও প্রশংসাসূচক কৃতজ্ঞতা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে, Oppo দিল্লি পুলিশ এবং গ্রেটার নয়ডা কর্তৃপক্ষের প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের অন্যদের সেবা করার সাথে সাথে তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে সহায়তা করার জন্য দেড় কোটি টাকার ৫০০০ ইউনিট Oppo Band Style দান করছে।

এদিকে গোটা দেশ চরম অক্সিজেন সংকটের সম্মুখীন হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করছে যে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সাপ্লাই রয়েছে, তবে পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যাটি হল মূল বিষয়। এই কথার সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে, কারণ পরিবহন এমন কোনো খুব বড়ো সমস্যা নয় যা সমাধান করার ক্ষমতা ভারত সরকারের নেই। MHA আশ্বাস দিচ্ছে যে, অক্সিজেনের জন্য অযথা আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি করার কোনও মানে নেই এবং এটি যথাসময়ে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে যতই আশ্বাস দেওয়া হোক না কেন, দিন-কে-দিন যে হারে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তাতে সাধারণ মানুষ যথেষ্ট আতঙ্কিত। এখন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার কীভাবে এই চরম অক্সিজেন সমস্যার সমাধান করে, তা সময়ই বলে দেবে।

হোয়াটসঅ্যাপে খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন